Thursday, August 23, 2018

লাইব্রেরিজ এন্ড লাইব্রেরিয়ানশিপ ইন এনসিয়েন্ট এন্ড মেডিভ্যাল ইন্ডিয়া - বিমল কুমার দত্ত - মুঘলযুগে গ্রন্থাগার৯

(ছবি - ১৭০২ সালে আওরঙ্গজেবের তৃতীয় উইলিয়ামকে লেখা চিঠি)
এই যুগে আগরা আর দিল্লিতে জেস্বুঈটরা গ্রন্থাগার তৈরি করেছিলেন। বিভিন্ন ফাদারের লেখা বই এবং ধর্মতত্ত্ব বিষয়ে প্রাচ্য ভাষার বই ছিল এই গ্রন্থাগারে। শাহজাহানের নির্দেশে প্রথমবার লুণ্ঠিত হয় আগরার গ্রন্থাগটি, দ্বিতীয়বার লুণ্ঠিত হয় আহমদ সাহ আবদালির সময় ১৭৫৯ সালে, বই ছাড়া সব কিছুই।
১৬৫০ সালে ফাদার হেনরি বুসি প্রথমবার দিল্লি যান। তার উদ্দেশ্য ছিল দরবারে খ্রিষ্ট মিশন নিয়ে দরবার করা। তার কাজ সম্পাদনের জন্যে তিনি যুবরাজ দারা এবং আরও কিছু অভিজাতর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সে সময় বেশ কিছু মুসলমান অভিজাত ইওরোপিয় ধর্মতত্ত্বের বই তাদের গ্রন্থাগারে রাখতেন। এক বড় গ্রন্থাগারওয়ালা শিক্ষিত মুসলমানের সঙ্গে ফাদার বুসি আলোচনা করেন। তিনি তার বাড়িতে দেখেন, সেই ব্যক্তি, কোন আরবি জ্ঞানীর মত খ্রিষ্ট ধর্ম বিষয়ে প্রচুর বই সংগ্রহ করেছিলেন।
১৬৫৬ সালে আওরঙ্গজেব রাষ্ট্রের ভার নেন। তিনি অসাধারণ বিদ্বান বুদ্ধিমান ছিলেন, অসাধারণ লেখক ছিলেন, দক্ষ প্রশাসক ছিলেন অসাধারণ সেনানী ছিলেন আর ধর্মীয় রাজা ছিলেন। তিনি ইসলামি শিক্ষার পৃষ্ঠপোষণা করেন। বিভিন্ন বিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা কেন্দ্র খোলেন, পুরোনো মাদ্রাসা সারান। তার প্রশাসকদের হিন্দু মন্দির এবং হিন্দু বিদ্যালয় ধ্বংস করতে আর হিন্দুদের ধর্ম পালনে বাধা দিতে প্ররোচিত করে নির্দেশ দ্যান(যদিও লেখকের এই তথ্যটি সম্বন্ধে উল্টো মত পোষণ করি, এখন অনেক ধারনাই পাল্টে যাচ্ছে। যদুনাথ সরকারের মত ঔরঙ্গজেব বিরোধী ঐতিহাসিকদের কাজে এই সম্পূর্ণ ভুল ধারণাটি জন্মেছে। লেখকের বই যখন প্রকাশ পাচ্ছে ১৯৬০ সালে, এই ধারনাটা তখন প্রবল ছিল - অনুবাদক)।
আওরঙ্গজেব গোঁড়া ধর্মান্ধ ছিলেন। রাত দুটোয় প্রার্থনার পর তিনি কোরাণ অনুবাদ করতেন, তার পর আরবি বিচারব্যস্থার বই বা নানান ধরণের প্রচারপত্র থেকে ইসলামি ধর্ম বিষয়ে পড়াশোনা করতেন। তার শেষ ইচ্ছাপত্র থেকে পরিষ্কার এই কোরাণ নকলের কাজ বিক্রি করে তিনি ৩০৫ টাকা রেখে যান।
নিজে যেহেতু ধর্মান্ধ মুসলমান ছিলেন, তাই তিনি মুল্লা নিজামকে দিয়ে ফতাওয়াইআলমিগিরি সঙ্কলন করান। এছাড়াও হাদিস, ফিক ইত্যাদির তফসির বইও সংগ্রহ করেতেন। বিদরের মুহম্মদ গাওয়ানের গ্রন্থাগারটি রাষ্ট্রীয় গ্রন্থাগারে জুড়ে দিয়ে গ্রন্থাগারের আয়তন বাড়ান।
তার পূর্বজদের মতই আওরঙ্গজেব হস্তলেখাবিদদের রাজসভায় সাদরে পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। যুবরাজ দারাশুকো বা পাদশাপুত্রী জেবউন্নিসাকে হস্তলেখায় বিশেষভাবে পারদর্শী করে তোলা হয় প্রখ্যাত রেখাবিদ আকা আবদুর রশিদ এবং স্বয়ং সম্রাট নিজে তালিম নেন রাষ্ট্রীয় গ্রন্থাগারের প্রধান গ্রন্থাগারিক সৈয়দ আলি তবরেজির অধীনে।
রাষ্ট্রীয় গ্রন্থাগারের নিজাম ছিলেন মুহম্মদ সালেহ এবং মহম্মদ মনসুর এবং সঈদ আলিঅলহুসেইনি তার মুহতমিম ছিলেন। মহম্মদ মনসুরকে মকরমাত উপাধি দিয়ে সম্মানিত করা হয়।
সম্রাটের কন্যা জেবউন্নিসা বিদুষি কৃষ্টিশীল ছিলেন। তিনি নিজে কবি ছিলেন। তাঁর অনুরোধে ইমাম রাজির কবিতা তফসিরেকবীর ফারসিতে অনুবাদ করে নাম দেন জেবুততফসিরে। তিনি পাগলের মত বই সংগ্রহ করতেন। তাঁর নিজস্ব বিপুল বিশাল গ্রন্থাগারের নাম ছিল মাসিরিআলমগিরি এবং সেটি বিদ্বানেরা হামেশাই ব্যবহার করতেন।
আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর কিছুটা চেষ্টা হয় কিন্তু তার সত্তর বছরের মধ্যে বিশ্বে ধনীতম উপমহাদেশটি লুন্ঠনের ক্ষেত্র এবং অজ্ঞান আর মৃত্যুর উপত্যকা হয়ে ওঠে।
।।আপাতত শেষ।।

No comments: