Thursday, August 23, 2018

লাইব্রেরিজ এন্ড লাইব্রেরিয়ানশিপ ইন এনসিয়েন্ট এন্ড মেডিভ্যাল ইন্ডিয়া - বিমল কুমার দত্ত - মুঘলযুগে গ্রন্থাগার১

তৈমুর বংশধরদের কৃষ্টির ইতিহাসের গোড়াপত্তন ঘটেছিল তুর্কো-আফগান সময়ে। তৈমুরী বংশধরেদের প্রত্যেকেই জ্ঞানচর্চার ধারক বাহক ছিলেন। ঔরঙ্গজেবের সময় বাদ দিলে প্রত্যেক শাসকই শিল্পকলা, সাহিত্য ও সঙ্গীতের বিকাশে বিপুল সহযোগিতা করেছেন। বই প্রকাশনায় এবং গ্রন্থাগার তৈরি করতে তাঁদের অবদান সুপ্রচুর।
জাহিরুদ্দিন মুহম্মদ বাবর ছিলেন জ্ঞানী, বিদ্বান এবং সাহিত্যসাধক। ব্যবহারশাস্ত্র এবং ছন্দ ইত্যাদি নিয়ে তাঁর বেশ কিছু কিতাবও রয়েছে। লিপিবিদ্যার তিনি গুণগ্রাহী ছিলেন বাবরি লিপি নামক একটি নতুন ধরণের লিপি আবিষ্কর্তা তিনি।
বাবর কিতাবের গুণগ্রাহী ছিলেন এবং তাঁর গ্রন্থাগার তৈরিতে মন দেন। ১৫২৫ সালে তিনি গাজি খানের গ্রন্থাগার অধিকার করেছিলেন এই আশায় যে সেখানে তিনি তার মনের খোরাক পাবেন, কিন্তু তিনি লেখেন “আমি যা ভেবেছিলাম তা পেলাম না”। সেই গ্রন্থাগার থেকে বেশ কিছু বই তিনি হুমায়ুন আর কামরনকে উপহার দেন।
বাবর যে সব শিক্ষিত এবং বিদ্বানদের পৃষ্ঠপোষণা করতেন, তাঁদের মধ্যে খ্বোয়ান্দামীর ছিলেন অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব। তিনি হিরাটের গ্রন্থাগারিক ছিলেন এবং পদশাহের সঙ্গে বাংলা অভিযানেও অংশ নেন।
তাঁর নির্দেশে সুরতেআম বা জন কৃত্য দপ্তর বহু মক্তব(বিদ্যালয়) এবং মাদ্রাসা(উচ্চশিক্ষা কেন্দ্র) তৈরি করে দেয়। প্রত্যেক মাদ্রাসার সঙ্গে আবশ্যিকভাবে একটি গ্রন্থাগার রাখতে হত।
বাবর তাঁর ব্যক্তিগত গ্রন্থাগার ছাড়াও রাষ্ট্রীয় গ্রন্থাগার তৈরি করেন। তিনি ব্যক্তিগত গ্রন্থাগারে চিত্রবিচিত বই নিয়ে প্রচুর সময় কাটাতেন এবং আয়েশ করতেন। তিনি পুঁথি চিত্রণে প্রচুর উৎসাহ দান করেছেন এবং তাঁর পুত্র এবং নাতি-পুতিরা এই বিষয়টিকে মহীরুহের আকার ধারণ করান।
বাবরের জৈষ্ঠ পুত্র হুমায়ুন সিংহাসনে আরোহন করেন ১৫৩০ সনে। তিনি পরিবারিক ঐতিহ্যের রেণুগুলি বংশের ঐতিহ্য সূত্রে অর্জন করেন। পিতার মতই তিনি শিক্ষা বিষয়ে উৎসাহী ছিলেন বিশেষ করে শিল্পকলা এবং বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে তাঁর উৎসাহ অসীম ছিল। পারস্যে তিনি প্রবাস জীবন কাটানোর সময় শাহ তামাসপাসের রাজ দরবারে সাহিত্য এবং শিল্পকলা চর্চায় প্রভূত প্রভাব ফেলেন। মৌলউপাদানগুলির(এলিমেন্ট) চরিত্র নিয়ে বই লেখা ছাড়াও তিনি ভূগোল এবং জ্যোতির্বিদ্যা নিয়েও পুঁথি রচনা করেন। তাঁর অন্য উৎসাহের বিষয়গুলি ছিল সাহিত্য এবং শায়েরি। তিনি পূর্বজদের মতই গুণিজনদের কদর এবং আদর করতেন আর প্রচুর সময় এই বিষয়গুলি নিয়ে কবি আর দার্শনিকদের সঙ্গে আলোচনায় সময় কাটাতেন। ফরিস্তা সূত্রে জানতে পারছি, সাত গ্রহের নামে সাতটি বিশাল কক্ষ তৈরি করেছিলেন তিনি। শণি এবং বৃহস্পতি নামাঙ্কিত ঘরে তিনি হিরাটের গ্রন্থাগারিক খান্দামীর, লেখক জওহর, তুর্ক বিদ্বান এবং নৌ সেনা নায়ক সিদ্দি আলি রঈস ইত্যাদিদের সঙ্গে মিলিত হতেন। রঈস তার যাত্রার দিনপঞ্জীতে লিখছেন, ... আমি রাতদিন এক করে জ্যোতির্বিদ্যা বিষয়ক নীরিক্ষণ লেখা শেষ করলাম... সেটি শিল্পকলা এবং শায়েরির বিকাশের সময় ছিল এবং আমাকে প্রায়শই পাদশার সঙ্গ দিতে হত।
(চলবে)

No comments: