Wednesday, January 11, 2017

দুই-বাংলাতেই ফিল্মশিল্পে স্ক্রিপ্ট রাইটারের অভাব

Saikat Bhattacharyya লিখেছেন দুই-বাংলাতেই ফিল্মশিল্পে স্ক্রিপ্ট রাইটারের অভাব, অথচ ধুনচুন কবি-সাহিত্যিকে ভর্তি।
আমাদের ভাবনা-
ব্রিটিশ আমলের আগে গেলেই শস্তা সহজলভ্য জীবনীমূলক পৌরাণিক সিনেমা সামাজিক সিনেমার মোড়কে। অথচ মীর জুমলা অনুবাদ করতে গিয়ে দেখছি, দিল্লির সিংহাসন দখলের লড়ায়ে সুজা আর মীর জুমলার মধ্যে বাংলায় যে যুদ্ধ হয়েছিল, তার নাটকীয়তা অসাধারণ, ৭০০+ নৌকো নিয়ে যুদ্ধ করছেন সুজা, নৌকো দিয়ে সেতু বানিয়ে বিশাল বিশাল কামান যার গোলার ভার ১০ থেকে ১৫ সের, পার করা হচ্ছে, পার হচ্ছে বিপুলাকায় হাতি, ঘোড়া। বাঙলার নদীমাতৃকতার চরিত্র দিয়ে যুদ্ধের রঙ্গটাই পালটে দিচ্ছেন সুজা নৌকো নিয়ে যুদ্ধ করে, হাওর, বিল, নালা ভর্তি বাংলায় নাকানি চোবানি খাচ্ছেন দৌর্দণ্ডপ্রতাপ সেনানায়ক মীর জুমলা। শেষ পর্যন্ত সুয়জা হারেন, কিন্তু যে রণনীতি তৈরি করে যান তা আজও আশ্চর্যের।
বা শশাঙ্কের জীবন বা গোপালের সময় বা রামপাল আমলে কৈবর্ত ভীম হরি আর দিব্যোকের লড়াই যার স্মৃতিতে দিনাজপুরে হরিরামপুর(হরি+রামপাল, হরি ভীমের পক্ষ ছেড়ে রামপালের পক্ষ নেয়, কৈবর্তরা হেরে যায়। আজও পূর্ববঙ্গে ভীমের জাঙ্গাল নামক হাঁটা পথ রয়েছে) আজও আছে। দিনাজপুর, মালদা, মুর্শিদাবাদ এ বাবদে স্মৃতির খণি।
বা সুলতানি আমলে যদু তার রাজত্ব বাঁচাতে মিং রাজের সাহায্য চায়, এবং জৌপুরের সেনা আক্রমন রুখতে ১০০০- চিনা সেনা আসে গৌড়ে, যে গৌড় শহরেই ৩টা টাঁকশাল চলত দিন রাত।
কি বর্ণময় ছিল সে সময়ের বাঙলা, সারা বিশ্বের মানুষ আসত এখানে ব্যবসা করতে।
এ সব নিয়ে ভাবার সময় নেই।
প্রখ্যাতরা সমাজপরিবর্তনের মৌতাতিয় ইওরোপিয় পিঠচাপড়ানির সিনেমায় বুঁদ।
বাঙলার কথা কেভাবে!
Post a Comment