Tuesday, January 10, 2017

বাংলা যখন বিশ্ব সেরা৫৭ - লাইফ অব মীর জুমলা, জেনারেল অব আওরঙ্গজেব

জগদীশ নারায়ণ সরকার

৪। ৩ মে ১৬৫৯, মীর জুমলার হার
সাফল্যের আত্মপ্রসাদে মীর জুমলা আরও বড় হামলার পরিকল্পনা করলেন। কিন্তু ততক্ষণে সুজার বাহিনী নিজেদের ঢিলে ঢালা সুরক্ষা কষে বেঁধে নিয়েছে, তিনি সেনানায়ক নুরুল হাসানকে বদল করে দক্ষ সেনানী বারহার সৈয়দ আলম (খানইআলম)কে দায়িত্ব দিয়েছেন। কয়েকটি ব্যাটারি তীরে আলগোছে ফেলে রাখার টোপ দিয়ে পিছনে সৈয়দ আলম এবং মুথাশাম খানের নেতৃত্বে কয়েকটি যুদ্ধ হাতি সম্বলিত বাহিনী লুকিয়ে রাখলেন। ২ মে রাতে মীর জুমলার একটা বাহিনী আক্রমনে গেল কিন্তু সেটা বিফল হল। ৩ তারিখ ভোরে মীর জুমলার ৭৩টি নৌবহর করে কাশিম খান এবং শাহবাজ খানের নেতৃত্বে ২০০০ সেনার বাহিনী উল্টোদিকের তীরে গিয়ে বাধাহীনভাবে উঠে পরিখায় উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে টোপ হিসেবে কয়েকজনকে বসিয়ে রাখা সেনা আক্রমন করে এলাকা দখল নেয়। হঠাতই সুজার বাহিনী যুদ্ধ হাতি নিয়ে রে রে শদে তেড়ে যায় এবং মীর জুমলার ছোট বাহিনীকে ঘিরে ধরে কচুকাটা করতে থাকে। আক্রমনকারীরা প্রবল পরাক্রমে যুদ্ধ করলেও উল্টো দিকে বসে থাকা মীর জুমলা হতাশ এবং আতঙ্কিত অবস্থায় দেখতে থাকেন নিজেদের সেনার ওপরে আক্রমন, এবং সেই আক্রমন ঠেকাতে পারে না। প্রায় অর্ধেক সেনা মারা যায়। ৫০০ গ্রেফতার করে মালদা ফিরোজপুর ও অন্যনায় এলাকায় পাঠানো হয়, কিছুকে মৃত্যু দণ্ড দেওয়া হয়। এই হারের ব্যাপকতা হারের থেকেও বেশি হয়, নৈতিকভাবে মীর জুমলার বাহিনী ভেঙ্গে পড়ে। তিনি নিজেও হতাশ হয়ে পড়েন। এবং এই দুর্বিপাক তাঁর বর্ণময় জীবনে কলঙ্কের দাগ হয়েই রইল। তিনি সব ঝেড়ে উঠে নতুন করে জেতার পরিকল্পনা নিলেন। এই হার তাঁর আগামী দিনের লড়াইতে আশীর্বাদস্বরূপ হয়ে দেখা দিল, এবং তিনি এর পর থেকে সদা সতর্ক হয়েই তাঁর আগামী সব রণনীতি তৈরি করতেন।

সুজার পক্ষের ঐতিহাসিক মাসুম মীর জুমলার হারের কারণ সঠিকভাবেই নিরূপন করেছেন, এই আক্রমন হয়ত সময়োচিত এবং প্রাজ্ঞার প্রকাশ ছিল তিনি শত্রুর বহর না আঁচ করেই বেহুদা আক্রমণ করতে মুয়াজ্জম খান বাহিনী পাঠিয়েছিলেন, আশাছিল তার সেনা আরও একবার বিপক্ষকে বেমওকা পেয়ে যাবে। আদতে মীর জুমলা কিন্তু সত্যিকারের বিপক্ষের ওজন, রণনীতি আঁচ না করেই আক্রমনের পরিকল্পনা রচনা করেছিলেন। নিজের সেনা আর রণনীতির ওপর অত্যধিক আস্থা এবং অহংএর বহিঃপ্রকাশ এই বিফল আক্রমনের জনক। স্যর যদুনাথ সরকার বলেছেন বিপক্ষকে তুচ্ছ করতে গিয়ে মীর জুমলা খুব ক্ষতি ডেকে আনলেন। তাঁর রোজবিহানী অনুগামীদের প্রতি এক স্বগতোক্তি মূলক লেখায় মীর জুমলা বলছেন, আমার বয়স ৭০ বছর। এই পরিণত বয়সে এই রকম হারের মুখোমুখি হলাম! ব্রিটিশ কুঠিয়ালেরা বলছে সাম্রাজ্যবাদীরা ছোট ছোট ডিঙ্গিতে ছিল আর সুজার বাহিনী ছিল জালিয়ার মত বড় নৌকোয়। সুজার বাহিনীতে ছিল প্রচুর গতিশীল কোষা নৌকোর বহর। অথচ মাত্র ৬টি নৌকোয় ১০০০ সেনা এনেছিল মীর জুমলার বাহিনী, তাই তাদের সব নৌকো যে ছোট ছিল একথা সত্যি নয়। তাও বলা যায় সত্যই মীর জুমলা বাহিনীর নৌকগুলি সত্যিকারের ছোট তো ছিলই এবং কিছুটা তাঁর জন্য হার যে হয়েছে তা না স্বীকার করা মুর্খামি।
৫। নতুন আক্রমণের পরিকল্পনায় মীর জুমলা
পুরোনো হারের হতাশা ঝেড়ে ফেলে নতুন আক্রমণের দাবার গুটি সাজাতে বসলেন মীর জুমলা। নষ্ট হয়ে যাওয়া নৌকোগুলি তাঁর নতুন পরিকল্পনায় বাধ সাধছিল যেমন, তেমনি নতুন রণনীতি তাঁর চরম একাগ্রতা মনোযোগ দাবি করছিল। হুগলি, মুর্শিদাবাদ এবং বর্ধমান থেকে নৌবহরের আরও সরঞ্জাম জোগাড়ের চেষ্টা করতে লাগলেন। নৌকো কারিগর এবং চলতি নৌকো জোগাড়ে আবার নেমে পড়ল তাঁর বাহিনী। নদীতে চলাচল করা যত বড় নৌকো সব হুকুম দখল নেওয়া হল, মুকসুদাবাদ পেরিয়ে কোন নৌকোই আর আসতে পারছিল না। পর্তুগিজদের বিরুদ্ধে ইওরোপিয় ডাচ বা ব্রিটিশ সেনানীদের জোগাড়ে বিহার বাংলায় মীর জুমলা তাঁর পদমর্যাদা কাজে লাগালেন। কাশিমবাজার থেকে মাত্র ৩৫ মাইল দূরে থাকায় তিনি ডাচেদের ডাক্তার এবং গোলান্দাজদের তাঁর বাহিনীতে যোগ দিতে বললেন। ব্রিটিশেরা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এল না, কিন্তু ডাচ নির্দেশক ম্যাথায়াস ভ্যান্ডেনব্রোক হুগলী থেকে তাঁর সঙ্গে মোলাকাত করতে এলেন। জনশ্রুতি সাম্রাজ্যের সেনাপ্রধান ডাচেদের সহায়তার বিনিময়ে দুলক্ষ টাকা দেওয়ার নাকি প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এর আগে ১৬৫৯ সালের জুলাই মাসে প্রধান নির্দেশক মীর জুমলাকে সব ধরণের সাহায্য এবং তাদের যত শ্লুপে কামান রয়েছে সে সবগুলি মুঘল সাম্রাজ্যের হয়ে নদী পাহারা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন।

মীর জুমলা এত দিনে ওডিসায় আওরঙ্গজেবের শাসন বিস্তৃতির পরিকল্পনা করলেন। সাম্রাজ্যের যুদ্ধকে সাহায্য করার জন্য বালেশ্বর এবং অন্যান্য শহরের প্রশাসনকে দূত এবং নির্দেশ পাঠান। বালেশ্বরে সুজাপক্ষী আধিকারিককে চিঠি লিখে মুহম্মদ সুলতানের সঙ্গে দেখা করার নির্দেশও দেন। কিন্তু তারা তখনও সুজাকে ছাড়তে ভয় পাচ্ছিল, এবং ব্রিটিশদের আশা ছিল মীর জুমলা শীঘ্রই বালেশ্বর দখল করবেন এবং তখন বাধ্য হয়ে প্রশাসকের মীর জুমলার পক্ষে যাওয়ার চিন্তা করা ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না।
মীর জুমলা বুঝলেন যতই সামনা সামনি আক্রমন করা যাক, তা দিয়ে নদীর সামনে ঘাঁটি গেড়ে বসা সুজার বাহিনীকে হঠনো যাবে না। সুজার বাহিনীর পিছন দিকে আক্রমন করে তাঁর দৃষ্টি ঘুরিয়ে দিতে হবে, কায়দা করে সিংহের গুহায় ঢুকতে হবে। তাঁর বাহিনীকে পূর্ব, পশ্চিম এবং উত্তর দিক থেকে আক্রমন করতে হবে। এই পরিকল্পনা রূপায়ণে তাকে বিহারের সুবাদার দাউদ খানের ওপরে নির্ভর করতে হবে।

দাউদ খানকে এক চিঠিতে মীর জুমলা লিখলেন নতুন সেনা জোগাড় করতে। এর সঙ্গে তিনি বললেন রণজয়ী হাদি বা আবদুল মাল আলি খান বা কাকারদের মত আভিজাত এবং তাঁর বাহিনীকে দলে পেতে গেলে তাকে সিন্দুক খুলে দিতে হবে এবং যতগুলি পারা যায় কস্তি এবং ঘুরাব(কামান দাগার নৌকো) সংগ্রহ করতে এবং প্রত্যেক নৌকোয় প্রয়োজনীয় গোলাবারুদকামান দিয়ে সাজিয়ে তুলতে। বন্যার সময়টা এড়াতে তাকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সেনা নিয়ে চলে আসতে বললেন এবং তাঁর পরে বড় নৌকোগুলো পাঠালেই হবে। কোশি পার হওয়ার সময় তিনি যেন চিরাগ বেগের নেতৃত্বাধীন রোজবিহানী বাহিনী এবং সুতিতে রশীদ আর দেওগাছিতে মহম্মদ সুলতানের সঙ্গে আলোচনা করে নেন। দাউদ খান, রশিদ এবং চিরাগের যুক্ত বাহিনী গঙ্গার বাঁ পাড়ে সুজার বাহিনীকে আক্রমন করবে এবং তার পরেই দাউদের নৌকোগুলি করে মীর জুমলা আক্রমন করে শেষ পেরেকটি মেরে শত্রুর শেকড় উপড়োবার কাজটি শেষ করবেন।

৬। সুজার বাহিনীতে মহম্মদ সুলতানের পলায়ন
৩ মের হারের ক্ষত পূরণ করতে এবং আগামী দিনে যাতে আর নতুন করে আক্রমণের মুখে না পড়তে হয়, সে পরিকল্পনা করতে নতুন করে যখন আক্রমণের ঘুঁটি সাজাতে ব্যস্ত ছিলেন মীর জুমলা, তখনই ৮ মে রাতে তাঁর সহযোগী সেনানায়ক শাহজাদা মহম্মদ সুলতান দেওগাছি ছেড়ে সুজার শিবিরে যোগ দেয়। এই খবর মীর জুমলার কাছে বিনা মেঘে বজ্রাঘাত। এই খবরে হয়ত গোটা মীর জুমলার বাহিনীই ছত্রভঙ্গ হয়ে যেত, কিন্তু পোড় খাওয়া বহু যুদ্ধের সেনানী মীর জুমলা উপস্থিত বুদ্ধি, সেনানীদের ওপর তাঁর নিয়ন্ত্রণ এবং অপরিসীম সাহসের জন্য সেই বাহিনী টিকে গেল শুধু নয়, নতুন আক্রমণের উদ্যম নিতে শুরু করল।
শাহজাদার পালানোটা অবশ্যম্ভাবীই ছিল - সুজার মেয়ের প্রতি তাঁর ভালবাসা, সিংহাসনের প্রতি তাঁর দুর্নিবার আকর্ষণ, এবং তাকে কাকার বারবার লোভ দেখানো ছাড়াও মীর জুমলার নিচে তাঁর থাকা, মীর জুমলার শত্রুদের বারবার কান ভাঙ্গানো, এবং সাম্রাজের নির্দেশে মীর জুমলা তাকে গ্রেফতার করতে পারেন এই ভয়টাও নাকি তাঁর ছিল। সুজাপন্থী ঐতিহাসিকদের বক্তব্য, সম্রাটের প্রতি তাঁর পুত্রের মনোভাব নির্ধারণ করেছিল দুটি বিষয় - প্রথমটি ছিল মীর জুমলা সরাসরি সম্রাটকে চিঠি লিখে জানান যে ৩ তারিখের যে অভিযান হয়, তাঁর পুত্র সে সম্বন্ধে তাঁর লোকদেখানো অজ্ঞতা এবং অবহেলার প্রকাশ করেছেন, যা আসলে সেই অভিযানের ব্যর্থতার অন্যতম কারণ বলে মীর জুমলার ধারণা দ্বিতীয়ত একটি কবিতা সূত্রে জানতে পারা যাচ্ছে সম্রাটের নির্দেশে সেনাবাহিনীর আনুগত্যের পারদ খোঁজ করা নিয়ে দুটি চরের মতের বিরুদ্ধে শাহজাদা উল্টো মত প্রকাশ করেছিলেন। এই ঘটনা সম্বন্ধে সম্রাট মীরকে লেখেন, সাধারন বা বিশেষ, তোমার ওখানে বা এখানে সব ঘটনা তোমার নির্দেশেই পরিচালনা করে থাকি। যদি আমার পুত্র তোমার নির্দেশ পালন না করে আর তুমি যদি মনে কর তোমায় আর তাঁর দরকার নেই তাহলে শীঘ্রই তাকে ফেরত পাঠিয়ে দেবে। সম্রাটের এই নির্দেশকে চরেরা মনে করছিল বাস্তবিক তাঁর গ্রেফতারি এবং সেই অবস্থায় তাকে দিল্লি পাঠানোর নির্দেশ। শাহজাদা সমস্ত ধৈর্য হারিয়ে সেই রাতেই নদী পেরিয়ে তাঁর কাকার আশ্রয় নেওয়াকেই তাঁর নিশ্চিত নিরাপত্তা রূপে ভাবলেন।
সুতিতে থাকা মীর জুমলা এই ঘটনায় হতবাক হয়ে যান। নিজের বাহিনীকে শান্ত করে তিনি পরের সকালেই দেওগাছির পানে রওনা হয়ে যান। রাস্তায় আওরঙ্গজেবের নিযুক্ত চরেদের সঙ্গে দেখা হয়, তারা পলায়ন কাণ্ডে হতবুদ্ধি শাহজাদার রক্ষীদের কবল থেকে পালাতে পেরেছিল। তাদের থেকে আদত খবর পেয়ে তিনি নিশ্চিন্ত হন।

দেওগাছিতে গিয়ে দেখলেন শিবিরের অবস্থা ছিন্নভিন্ন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। মীর জুমলা ঘুরে দেখলেন প্রত্যেকেই নির্দেশ অমান্য করতে বসে রয়েছে, শিবির জুড়ে দিশাহীনতা এবং হতাশার পরিবেশ। কিন্তু মীর জুমলা মানুষের জন্ম নেতা। তিনি জানেন এই রকম ছিন্নভিন্ন বাহিনীর মনোবল কিভাবে বাড়ানো যায়। যুদ্ধ সমিতির বৈঠকের আগে প্রত্যেক সেনার সামনে বক্তৃতা দিতে উঠলেন মীর জুমলা মুয়াজ্জম খান। তিনি মনোবল বাড়াবার জন্য রঙ্গিন বক্তৃতা দিলেন।আগামী দিনের যুদ্ধে হারই সম্বল এই মনোভাবের প্রতিবাদ করে তিনি বললেন, শেয়ালের মত পালিয়ে বেড়ানো শত্রুর ভয়ে মরছ? সে আমাদের দেখে পালাচ্ছে, না তার ভয়ে আমরা? তিনি তখন তাদের মনে বিশ্বাস পুরে দিলেন, শত্রুকে আজ মনে হচ্ছে সূর্যের মত উজ্জ্বল কিন্তু তোমরা জান আমিও মেঘ, আমি উজ্জ্বল সূর্যকে ঘিরে ফেলব... আমি তাদের ফিরিঙ্গিদের(পর্তুগিজ) কাছে তাড়িয়ে নিয়ে যাব। শাহজাদার পালিয়ে যাওয়াটা বাস্তবে কোন ঘটনাই নয়, তিনি বললেন, সম্রাট আমার সেনাপতি নির্বাচন করেছেন, তাকে আমার সঙ্গে শুধু পরামর্শ করতে পাঠিয়েছিলেন, এর বেশি কিছুই নয়। এর পরে আগামী দিনের তাদের কর্মপদ্ধতি, তাদের পরিকল্পনা ইত্যাদি আলোচনা করে তাদের মন জিতে নেন আওরঙ্গজেবের সেনাপতি মীর জুমলা।

তাঁর বক্তৃতা, তাঁর রাগের বহিঃপ্রকাশ, আশার চেতনা বয়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা তাঁর উদ্দেশ্যপূরণে সহায়ক হল। যারা আগের মুহূর্তেও নড়বড়ে হয়ে বিদ্রোহের তোড়জোড় করছিল, তারা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মীর জুমলাকে তাদের একমাত্র নেতা রূপে বৃত করে নিল। উত্তেজিত মীর জুমলা সেনাপতিদের হয়ে তাদের পদন্নোতি এবং বেতন বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্রাটকে চিঠি লেখার প্রতিশ্রুতি দিলেন। খাজাঞ্চিখানার দারোগাকে সেনাদেরকে তিন মাসের অগ্রিম দিতে নির্দেশও দিলেন।

সেনাদের মন জিতে মীর জুমলা শাহজাদার ছেড়ে যাওয়া মালপত্র নিতে আসা একটা বাহিনীকে তাড়িয়ে দিলেন এবং পলাতক শাহজাদার সম্পত্তিীবং খাজাঞ্চি সম্রাটের নামে ক্রোক করারও নির্দেশ দিয়ে তাঁর সেনাকে সম্রাটের বাহিনীতে অন্তর্ভূক্ত করে নিলেন। ফলে মীর জুমলার নেতৃত্বের গুণে নেতাহীন একটি বাহিনীও মনে নতুন আগুণ জ্বেলে এগোল। এ প্রসঙ্গে আকিল খান মন্তব্য করলেন আমরা একজনশাহজাদাকে মাত্র হারালাম।

ফিদায়ি খানকে সুতি ইসমান খানকে দেওগাছি রেখে এবং জুলফিকারকে রাজমহলে পাঠিয়ে নিজে সুতিতে ফিরে গিয়ে ১০ জুনে রশিদ খানকে দাউদ খানের কাছে এবং তাঁর পরে কাজি কেরিয়ার কাছে পাঠালেন।

বাংলায় তখন পূর্ণ বর্ষা। মীর জুমলা তাঁর বাহিনীকে ছাউনিতে পাঠিয়ে দিলেন। তাঁর রণনীতি হল মনোযোগ এবং প্রত্যাহার। দেওগাছি দুনাপুর এবং সুতি থেকে সেনা তুলে নিয়ে শুধু দুটি জায়গায় সেনা রাখলেন। ১৫০০০ সেনা নিয়ে মাসুমবাজারে(মুর্শিদাবাদে)এ একটি উঁচু জায়গায় রইলেন স্বয়ং তিনি প্রচুর রসদ নিয়ে। রাজমহলে রইলেন জুলফিকার খান, ইসলাম খান, ফিদায়ি খান, সৈয়দ মুজফফর খান, ইখলাস খান, রাজা ইন্দ্রদুম্ন, কিজিলবাস খান এবং অন্যান্যরা।
(চলবে)
Post a Comment