Friday, April 27, 2018

উপনিবেশ বিরোধী চর্চা৭০ - ঔপনিবেশিকতাবাদ এবং তার জ্ঞানচর্চার আঙ্গিক - সাম্রাজ্যের মন ও মান ।। বারনার্ড কোহন

অধ্যায় ৪
উনবিংশ শতকে, বস্তুকে হস্তশিল্প, পুরাকীর্তি আর শিল্পে রূপান্তর

কর্নেল ম্যাকেঞ্জি এবং অমরাবতীর মার্বেল পাথরের স্থাপত্য
অষ্টাদশ শতের দ্বিতীয় পাদে ভারতে আসা কিছু ব্রিটিশ ভারতীয় চিত্রকলার ওপরে আকর্ষিত হতে থাকেন, তাদের কাছে সেগুলির নথিকরণের মূল্যের থেকে নান্দনিক মূল্য খুব বেশি ছিল না। এলিজা ইম্পে এবং তাঁর স্ত্রী বিপুল ভারতীয় চিত্রকলা সংগ্রহ করেন এবং ভারতীয় আঁকিয়েদের দিয়ে মনোমত প্রাকৃতিক ইতিহাসের নমুনা আঁকিয়ে নেন। অষ্টাদশ শতকের শেষ পাদের সব থেকে বড় সংগ্রহ ছিল ইন্ডিয়া অফিল লাইব্রেরির রিচার্ড জনসনের। আকবর থেকে অষ্টাদশ শতক পর্যন্ত বহু চিত্রকলা জনসন সংগ্রহ করেন অথবা বরাত দিয়ে আঁকিয়ে নেন। এর পাশাপাশি তিনি প্রাচ্য দেশগুলোর বিপুল পুথিও সংগ্রহ করেন তার পরিমান ছিল ১১০০টি।  ১৮০৭ সালে জনসন তার গোটা সংগ্রহ কোমপানিকে বিক্রি করতে চাইলে, সংস্কৃত জ্ঞানী এবং কোম্পানির গ্রন্থাগারিক চার্লস উইলকিনস সেগুলি সমীক্ষা করে এগুলি তিন হাজার গিনির বিনিময়ে সংগ্রহের নিদান দেন। তিনি সে সময়ের কোর্ট অব ডিরেক্টর্সের ডেপুটি চেয়ারম্যানকে লিখলেন, দ্য বুকস, এজ টু দ্য রাইটিংস, ইলুমিনেশনস, পারফেক্টনেস, প্রিজারভেশন এন্ড বাইন্ডিং আর আপন আ পার উইথ এনি আদার কালেকশন হুইচ হ্যাজ কাম আন্ডার মাই ভিউ। দেয়ার আর অফ কোর্স মেনি ইন এন ইন্ডিফারেন্ট স্টেট অব প্রিজারভেশন, আ ফিউ ওয়ার্স ডেফিসিয়েন্ট ইন দ্য নাম্বার অব ভলস এন্ড আদারওয়াইজ ডিফেক্টিভ, এন্ড দ্য বাইন্ডিং, এজ ইস আলওয়েজ দ্য কজ, ন্যাচুর‍্যালি ব্যাড এন্ড ইন আ ব্যাড কন্ডিশন। অন দ্য কন্ট্রারি দেয়ার ইজ আ গ্রেট নাম্বার অব বুকস অব দ্য ফার্স্ট র‍্যাঙ্ক এজ টু দ্য বিউটি অব দ্য রাইটিং, এন্ড স্প্লেন্ডর অব দ্য ডেকরেশনস; এন্ড নট আ ফিউ এক্সকুইজিটলি ফাইন।
এজ টু দ্য সাবজেকটস, দেয়ার ইজ গুড প্রোপরশান অব দ্য বেস্ট হিস্টোরিজ, মেনি ভেরি ভ্যালুয়েবল ডিক্সনারিজ অব দ্য আরবিক এন্ড পারসিয়ান ল্যাঙ্গুয়েজেস, সেভারেল ইউজফুল ট্রিটিজ অন গ্রামার ইটিসি, উইথ আ গ্রেট মেনি স্পেসিমেনস অব ফাইন পেনম্যানশিপ ইন ভেরিয়াস ওরিয়েন্টাল হ্যান্ডস বাই দ্য মোস্ট সেলিব্রেটেড মাস্টার্স। দেয়ার আর আলসো আ গ্রেট মেনি ডিস্টিঙ্কট ট্রিটিজ অন ম্যথেমেটিক্স, এস্ট্রোনমি, মিউজিক, মেডিসিন এন্ড আদার সায়েন্সেস এন্ড আর্টস; আ ভেরি এমপল এন্ড কিউরিয়াস কালেকশন অব আরাবিক এন্ড পার্সিয়ান টেলস, পারহ্যাপস ইউনিক, উইথ দ্য ওয়ার্ক্স অব অল দ্য মোস্ট সেলব্রেটেড পোয়েটস। দেয়ার আর মেনি ওয়ার্ক্স অন ল, রেলিজিয়ন এন্ড এথিক্স, সাম অব দেম স্প্লেন্ডিড কপিজ; মেনি ভ্যালুএবল ট্রান্সলেশন্স ফ্রম দ্য স্যাংস্কৃট ইন্টু পার্সিয়ান; সাম ওয়ার্ক্স ইন দ্য অরিজিনাল স্যাংস্কৃট এন্ড হিন্দি – আ ফিউ রেয়ার; উইথ আ মিসলেনিয়াস ডিভিশন আপন আ গ্রেট ভ্যারাইটি অব ইউজফুল এন্ড ইন্টারেস্টিং সাব্জেক্টস; পার্টিকুলারলি আ চয়েস কালেকশন অব স্ট্যাটিস্টিক্যাল ওয়ার্ক্স কনজিস্টিং অব পার্টিকুলার টেবলস এন্ড স্টেটমেন্টস অব দ্য ল্যান্ডস এন্ড রেভিনিউজ অব সেভারেল অব দ্য প্রিভিন্সেস অব ইন্ডিয়া।

কোম্পানির স্বাস্থ্য বিভাগে কাজ করা ডাক্তার জন ফ্লেমিং কোম্পানির গ্রন্থাগারকে আটটি ধর্মীয় চিত্রকলা উপহার দেন। কিন্তু তার বিপুল গাছ গাছলা বিষয়ক চিত্রকলা বেলজয়ামের জনৈক অভিজাত কিনে নেন। ফ্রান্সিস বুকানন, হ্যামিলটনের বিহারের সমীক্ষা করার সময় বিপুল পরিমান সংগৃহীত সরকারি দস্তাবেজের সঙ্গে ভারতীয় শিল্পীদের দিয়ে বরাত দিয়ে আঁকানো আঁকা প্রচুর চিত্রকলা কোম্পানিকে উপহার দেন। ইন্ডিয়া অফিসের এই ধরণের ভারতীয় চিত্রকলা কেনার উদ্দেশ্যপূর্ণ উদ্যম বন্ধ হয়ে যাবে বিংশ শতাব্দীর শুরুতে। ফলক এবং আর্চার বলছেন, ভারত সম্বন্ধে যেহেতু নাক উঁচু এবং সেবা করার ভাব ক্রমে বাড়তে থাকে ইওরোপে, এবং সাধারণভাবে এই চিত্রকলার কোন ব্যবহারিক মূল্য ইওরোপিয়দের কাছে থাকল না, এবং এগুলিকে অশ্লীলভাবেও দেখা হতে থাকল, সেহেতু এই চিত্রকলাগুলো কেনার/সংগ্রহ করার উদ্যম কমে যেতে থাকে। উনবিংশ শতাব্দের মাঝখানের সময় থেকে ইন্ডিয়া অফিসের নানান বুকস অব রেফারেন্স এবং ভাষা শিক্ষার নথিকরণের সূত্রে দেখছি, যে সেই সময়ে হস্তশিল্প আর বস্ত্রশিল্প সংগ্রহ বাড়তে থাকে। 
Post a Comment