Sunday, May 29, 2016

খাদির পুনরুজ্জীবন - আমাদের কিছু ভাবনা

আমাদের খাদিকে জানা শুরু হয়েছিল খাদির দোকানগুলোয় গ্রাম উদ্যোগীদের তৈরি উতপা্দনকে খাদির দোকানে রাখার ভাবনা নিয়ে - হাওড়ার অবনী শপিং মলের দোকান শুরুর অন্তর এক বছর আগে থেকে।
তখন দিনাজপুর থেকে কলকাতা বহু দোকান ঘুরেছি, এনজিওদের সাথে কথা বলেছি - প্রখ্যাত এক খাদি ব্যক্তিত্বর সাথে ফোনে আলাপ করিয়ে দিয়েছেন এক প্রভাবশালী দাদা। যা দেখেছি, বুঝেছি, তা জানানো গেল। নতুন সরকার পুরোটা না হোক, কিছুটা রোগ সারাবার উদ্যোগ নিক এটাই কামনা।
ভারতের কথা জানি না, বাংলায় অন্তত খাদি সঙ্গঠনগুলির অবস্থা বেশ দুর্দশাগ্রস্ত - ব্যতিক্রমী হাতে গোণা কয়েকটি উদ্যমী সংগঠন বাদ দিলে। অথচ বাংলার জেলা জুড়ে রয়েছে বহু খাদি নামওয়ালা সংগঠনের দোকান, যাদের কয়েকটি বেশ ভাল চলে, কিন্তু অধিকাংশ নামকা ওয়াস্তে - আগে আমাদের ধারণা ছিল খাদির দোকান মানে সরকার নিয়ন্ত্রিত দোকান - তা হাতে গোনা - অধিকাংশ এনজিওদের অধীনে। সারা বছর এ সব এনজিওর বহু দোকান বন্ধ থাকে - অথচ সেগুলোর বিল ক্যাশমেমো কাটা হয়, সেই 'বিক্রি' দেখানোর টাকা নিয়মিত ব্যাঙ্কে জমা পড়ে - বছরের শেষে ভর্তুকির বিশাল অঙ্কের টাকা তোলার জন্য - সরকার বিক্রির ওপর ভর্তুকি দেয় এনজিও গুলিকে। সব লোক দেখানো, কাজের কাজ কিস্যু বলে তো মনে হয় না। আর শুধু শাড়ি বিক্রির টাকায় চলে বলে চালু দোকানগুলোয় রোজগারও কম হয়, ফলে নেওয়া ঋণ শোধ হয় না - এ এক বিষচক্র।
খাদির ঘরের আরও কথা জানাগেল চরকা কাটনি খোঁজার কাজ শুরু করায়। যে কটি সংগঠন কাজ করে খাদি কাপড় তৈরিতে, তাদের অধিকাংশ মিলের সুতোয় কাজ চালান - কে ঝামেলা করে চরকা কাটিনিদের কাজ দেয় - মিলই ভাল। আর চালু হয়েছে পলিয়েস্টার খাদি - মানে কি?
খাদিতে বাংলা বা কেন্দ্র সরকার বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে, কিন্তু কাজের কাজ কিছু হচ্ছে কি না বোঝা দায়। বিনিয়োগের গুড় খেয়ে যাচ্ছে আমলারা আর খাদি থেকে ঋণ নেওয়া কিছু এনজিও।
আমাদের ভাবনা ছিল এই দোকানগুলোয় যদি বাংলার কারুশিল্প আর আমাদের তাঁতিদের তৈরি নীলাম্বরীগুলি রাখা যায় - দিনাজপুর থেকে কলকাতা পর্যন্ত বাংলা এবং উত্তরপ্রদেশের একটি এনজিওর অনেকগুলি দোকান ঘুরলাম - কাজের কাজ কিস্যু হল না। সক্কলে উৎসাহ দেখায় - কিন্তু সে পাশ কাটানোর জন্য - অনেকের ভর্তুকির টাকা বাকি পড়েছে, সেগুলি কি আমরা বার করতে সাহায্য করব? উলটে প্রশ্ন আমাদের।
তাঁরা কাপড় ছাড়া তাঁরা গ্রাম উদ্যোগ নিয়ে আার যদি কিছু বিক্রি বোঝেন সেটি হল মধু আর বাজে থেকে বাজেতম ঘি। গান্ধীজীর কোথায় কানে হাত ছুঁয়ে আমাদে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দেন কিন্তু সরকারকে মানানো দরকার। তাঁরা বলেন রোজগার হয়ত বেশি হবে, কিন্তু ঝামেলা নেবে কে?
বাংলায় এখন ৫৬টা চালু/আধাচালু দোকান রয়েছে, এই দোকানগুলি থেকে যদি ভিলেজ ইন্ডাস্ট্রির জিনিস থাকে তা হলে অনেকটা পাল্টে যাবে বাংলার গ্রাম উৎপাদনের বিক্রির চেহারা - খুব বেশি বিনিয়োগ না করেই। সেটা নতুন সরকার আর তাঁর সঙ্গে জুড়ে থাকা মানুষেরা ভাবুন। তাঁদের কাছে নিবেদন একটু উদ্যম নিয়ে ভাবুন - এই কাজ করতে অর্থ খুব বেশি লাগে না প্রয়োজন উদ্যম আর ভাবনা রূপায়ন করার।
সেই উল্লিখিত ভারত বিখ্যাত ব্যক্তিত্বর সাথে কথা বলার অভিজ্ঞতা দিয়ে এই লেখাটা শেষ করি - দূরাভাষে তিনি একটু অখুশি ভাবেই কথা শুরু করলেন - আমাদের ভাবনা বললাম - তিনি বললেন ধার নিতে চাইলে তিনি আমাকে সাহায্য করতে পারেন নয়ত... তাঁর পর আর কথা এগোয় নি।
বহু সংগঠন খাদিকে লক্ষ্য করে রোজগার বাড়াবার জন্য।
আমরা চাইছি বর্তমান খাদির পরিকাঠামো ব্যবহার করে চাইছে গ্রামের মানুষের রোজগার বাড়ানোর কাজ। ঋণ পাওয়া নয় - মানুষের কাজ খাদির মাধ্যমে বিক্রির।
আরও অনেক কিছু বলার রইল তবে বারান্তরে -
নতুন সরকার আমাদের ভাবনা শুনবেন নিশ্চই।
Post a Comment