Thursday, May 26, 2016

দ্য মুঘল এডমিনিস্ট্রেশন - যদুনাথ সরকার

চতুর্থ অধ্যায়
সুবাগুলির প্রশাসন২
২। সুবাদার আর তার কাজ
সুবাদার শব্দটা উতসারিত হয়েছে আরবি সুব থেকে যার অর্থ, চুম্বকের কোন এক দিকে নির্দেশনা। এত বড় দেশ শাসন করতে গিয়ে মুঘল শাসকেরা প্রথমের দিকে দেশটাকে প্রশাসনিকভাবে চারটে ভাগ করেছিল এবং সেই অঞ্চলগুলির প্রশাসনিক প্রধানের নাম দেওয়া হত কেন্দ্রিয় প্রধান প্রশাসনিক পদের উপসর্গে সেই অঞ্চলটির নাম জুড়ে যেমন পূর্ব, পশ্চিম, দক্ষিণ আর উত্তরের বড়লাট(ভাইরসয়)। পরে এই ভাগগুলিকে সুবায় বিভক্ত করা হয়। ঠিক এইভাবেই বহমানি সাম্রাজ্যের ভাগগুলিও তরফদার নামে চিহ্নিত ছিল, তরফ মানে দিক।
ভারত দেশটি বিভিন্ন ভৌগোলিক এককে বিভক্ত ছিল, এবং প্রত্যেকটি এককে রাজত্ব করতেন বহু আদিবাসী গোষ্ঠী এবং তাঁরা প্রায়শই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে মাইগ্রেট করতেন। ফলে শুধু এক অঞ্চলের নাম একটি আদিবাসী গোষ্ঠীর নামে করা খুব একটা বুদ্ধিমানের কাজ ছিল না, এবং এই এলাকায় বহু আদিবাসী গোষ্ঠীকে একত্রে বাস করতেন এবং সামাজিকভাবে তাঁদের পরস্পরের সঙ্গে খুব একটা ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিলও না। ফলে থিক হয় চার অঞ্চলে যদি সম্রাটের প্রতিনিধি পাঠানো যায়, তা হলে ব্যাপারটা সহনীয় হয় – এবং এই যুক্তিতে সুবাদার বা তরফদার শব্দের উদ্ভব।
সুবাদারের সরকারিভাবে নাম ছিল নাজিম বা এলাকার নিয়ামক। তার মূল কাজ ছিল শান্তি বজায় রাখা, রাজস্ব আদায় করা আর যে সব ফর্মান সম্রাট তাকে পাঠাতেন সেগুলি কার্যকর করা।
যখন কোন নবনির্বাচিত সুবাদার প্রধান দেওয়ানের সামনে গিয়ে সুবায় যাওয়ার অনুমতি চাইতেন, তখন দেওয়ান তাকে নিম্নলিখিত দায়িত্ব দিতেনঃ
‘অভিজ্ঞ মানুষেরা বলে গিয়েছেন, সুবাদারদের প্রধান কাজ হল, তার সুমধুর ব্যবহারে সব শ্রেণীর মানুষকে খুশি রাখা, ক্ষমতাবানেরা যাতে দুর্বলের ওপর অত্যাচার না করতে পারে তা দেখা এবং অত্যাচারীদের দাবিয়ে রাখতে হবে,
‘সম্রাটের নির্দেশ পূরণ করতে, সুবাদারেরা, তাঁদের অধস্তন হিসেবে কাজ করা মনসবদার নিয়োগ খুব বেছে বেছে করতে হবে, যাতে তাঁরা যোগ্য আধিকারিকরূপে প্রতিপন্ন হয়। তাকে বিদ্রোহী জমিদার এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া মানুষদের দমন করতে হবে, এবং প্রত্যেক মাসে তার সুবায় কি ঘটছে তার দুটি সমীক্ষা ডাক চৌকি মার্ফত রাজসভায় পাঠাতে হবে,
‘তুমি ঘুষ নিয়ে কোন ডাকাতকে মুক্তি দেবে না, কেননা তোমার এই ধরণের কর্মকাণ্ড সুবায় দুর্ণিতির বীজ বপন করব্র এবং অন্যান্য অভিজাতরা হয়ত মনে করতে পারে তাঁরা ঘুষ দিয়ে ছাড় পেয়ে যাবে, এবং অরাজক অবস্থার সৃষ্টি হবে যা তোমার পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে যাবে।’
সুবাদারের সাধারণত চল্লিশজন উপদেষ্টা থাকতেন, এবং তার কি করণীয় আর কি করণীয় নয়, তা আকবরের ফর্মানে রয়েছে(বার্ড, হস্টোরি অব গুজরাট)।
(চলবে)
Post a Comment