Wednesday, May 25, 2016

দ্য মুঘল এডমিনিস্ট্রেশন - যদুনাথ সরকার

 তৃতীয় অধ্যায়
অর্থ ও ঘরগেরস্তি(হাউসহোল্ড) দপ্তর১০
বুয়ুতাত(buyutat)এর দায়দায়িত্বঃ
বুয়ুতাত আরবি দ্বৈত-বহুবচন, মূল বাইত(bait) মানে বাড়ি। মুঘল ভারতে দেওয়ানইবুয়ুতাত বা জনগণেশের লব্জে বুয়ুতাত হল একটি পদ যার দায়িত্ব রাষ্ট্রের কাছে ঋণী কোন মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি যেমন দখল করেন তেমনি মৃতদের সম্পত্তি যাতে তার উত্তরাধিকারীরা পায় তারও ব্যবস্থা করেন। তিনি খানইসামানের কিছুটা অধস্তন কর্মীরূপে কাজ করার দায়িত্বপ্রাপ্ত।তার কাজে এক্তেয়ারগুলি হলঃ
১) খাজাঞ্চিখানার তহবিল থেকে বিভিন্ন খরচ এবং কারখানার কাজের জন্য বরাদ্দ করেন,
২) খানইসামানের সহযোগিতায় তিনি মৃত অভিজাতের সম্পত্তি ক্রোক করতেন,
৩) কারখানার ব্যবস্থা(সরঞ্জাম) করা,
৪) বিভিন্ন দ্রব্যের দাম ঠিক করা,
৫) কারখানার তহবিলের ওপর নজর রাখা, দেওয়ানের দপ্তরে মাসিক আয়ব্যয়ের হিসেব পাঠানো,
৬) সম্রাট রাজধানীর বাইরে গেলে তাঁর সঙ্গে থাকা কারখানার দৈনিক হিসেব রাখা,
৭) প্রাপ্তি স্বীকার করা(কাবুজ),
8) বিভিন্ন দ্রব্যের বিশদ বর্ণনার ওপর তিনি তারিখ লিখবেন,
৯) গরুদের দাগানোর জন্য আনা হলে, তিনি লিখে দিতেন দাগানোর জন্য আনা হয়েছে
১০) বিভিন্ন কারখানার প্রস্তাবে, তাঁদের পুরোনো জিনিসপত্র বিক্রি করা বা না করার সিদ্ধান্ত,
১১) হল্টিং ডেজ ফর ক্যাটল ঠিক করেন,
১২) সাধারণ ভৃত্য, বরকন্দাজ এবং পশুবিষয়ক খাজাঞ্চিখানার অগ্রিম দেওয়া হয় তার উপস্থিতিতে
১৩) বিভিন্ন মঞ্জুরীপ্রাপ্ত পণ্যের(জিনসওয়া আজনান) চিঠি(স্লিপ) থাকত তার দপ্তরে,
১৪) কারখানার ঘরগুলি তার পাঞ্জার ছাপে বন্ধ করা হত,
১৫) খাদ্য রাখার মালখানা(যাখিরা)র সাধারণ দপ্তরীকে অগ্রিম দিতেন তিনি,
১৬) অন্য দপ্তরের জন্য কেনা জিনিসপত্রের দামের মান্যতা দিতেন তিনি,
১৭) কারখানার জন্য লিখিত অনুরোধে প্রথমে তার স্বাক্ষর থাকত, তার পর থাকত খানইসামানের,
১৮) পশু খাদ্যের খরচের সিহার এবং সামারি গ্রান্ট(সারাসারি তনখা) বুয়ুতাতের দপ্তরে যেতে হবে, তার পর স্বাক্ষর করবেন খানইসামান।
(চলবে)
Post a Comment