Tuesday, May 10, 2016

উপনিবেশবাদ বিরোধী চর্চা - শিক্ষিত মধ্যবিত্তর পিঠে ছুরি মারার ঐতিহ্য আজও অমলিন

পীতাম্বরী শাড়ির ছবি ফেবুতে তুলে দেওয়ায় যথেষ্ট ক্রুদ্ধ রূপা সান্যাল(তিনি আমাদের ফেবুর বন্ধু নন), ব্যজস্তুতি দিয়ে যে ইংরেজি প্রকাশনা শুরু করেছেন, তার অধিকাংশ শব্দর অর্থই আমরা জানি না, তাও তুলে দেওয়া গেল -
Thanks for the ostentatious display. Suitable for leisure class's conspicuous consumption. Colophon: Thorstein Veblen। তিনি বহুদিন ধরেই আমাদের খোঁচাচ্ছেন - আমরা কিছুটা এড়িয়েই যাচ্ছিলাম, কিন্তু এবারে আর থাকা গেল না -
আর একজনকে চিনি, সাংবাদিক শঙ্কর রায় যতিদূর জানতাম তিনি আমাদের আন্তরিক বন্ধু, তিনি দুহাত তুলে শুধু রূপা সান্যালকে সমর্থন জানানি, তিনি আরও কিছু চিন্তার খোরাক জুড়ে দিয়েছেন, সেটাও তুলে দেওয়া গেল - Rupa Sanyal drives a thinkable point home. Conspicuous consumption causes inflation.
হঠাত আক্রমনে আমরা কিছুটা হত-চকিত। ধ্বসে যাওয়া পরিকাঠামো নতুন করে তৈরি করার চেষ্টা করছেন তাঁতিদের একাংশ, ফলে বহু তাঁতি নতুন করে বাঁচার নতুন পথ দেখছেন, এই শব্দবন্ধটা তাঁতিদের অন্যতম অগ্রগণ্য নেতা হরিপদ বসাকএর। তো প্রথমে ফুলিয়ায় কথা বলা গেল - এমনিতেই মধ্যবিত্তদের খামখেয়ালি আচরণে আমজনতা বেশ ক্ষুব্ধ, আর তাঁদের প্রতিনিধিদের এই মন্তব্যে বোঝাগেল কিছুটা মর্মাহত -
সবার সঙ্গে কথা বলে আমাদের উত্তর দেওয়া গেল-
এই দুটি মন্তব্য এড়িয়ে যেতে পারলে ভাল হত। কিন্তু কিছু বলা দরকার, অন্তত বাংলার তাঁতিদের পক্ষ থেকে -
মহাশয়, মহাশয়া, বাংলায় গালাগালিটা করলে বোধহয় ভাল হত। আমরা ইংরেজি খুব ভাল জানি না - কিন্তু আন্দাজে বুঝলাম যে, আপনারা যারা প্রচুর শিক্ষিত, তাঁরা আমাদের গালে থাপ্পড় মারলেন।
স্বাভাবিক - দেশজ উৎপাদন, দেশজ প্রযুক্তি, দেশজ জ্ঞান সমৃদ্ধ যে উৎপাদন - তার বিক্রিকে Conspicuous consumption বলবেন না তো কাকে বলবেন - পাশ্চাত্য উন্নয়নের ধারায় নিজেদের স্বার্থ পূরণে ভারতকে ঢেলে সাজাতে ইংরেজি শিক্ষিতরা যে দেশজ উৎপাদন বিতরণ পরিকাঠামো বিগত দুশ বছর ধরে তিলে তিলে ধ্বংস করেছেন বড় পুঁজিকে বাজার দেওয়ার স্বার্থে, তা নতুন করে গড়ে তোলার কাজ শুরু হলে সে কর্ম যে আবার ইংরেজি শিক্ষিতদের খুব একটা পছন্দ হবে না তা আমরা অজ্ঞ, অশিক্ষিত, কুসংকারাচ্ছন্ন, সভ্যতার ষড়ৈশ্বর্য না দেখতে পাওয়া গ্রামীনেরা জানি বুঝি।
নষ্ট হয়ে যাওয়া পরিকাঠামো গড়ে তোলা যে কি কাজ তা যারা বুঝতে চান না, তাঁদের বোঝানো হয়ত যাবে না। মিলের সুতোর চাপে কাজ ছেড়ে যাওয়া চরকা কাটনিরা, রাসায়নিক রংএর চাপে রঞ্জকের যখন প্রাকৃতিক রং তৈরি করা, চাষ করা ভুলে যান বিগত একশ বছর ধরে, সেই পরিকাঠামো যখন ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করতে হয় নানান কর্পোরেট বাধাবিপত্তির মধ্যে দিয়ে, তখন এই ধরণের পশ্চিমি গালাগালি পিঠে ছুরির আঘাতের মত লাগে -
অপেক্ষা করছি আর কি কি শিক্ষিত লাঞ্ছনা তেড়ে আসে-
Post a Comment