Monday, May 16, 2016

দ্য মুঘল এডমিনিস্ট্রেশন৪ যদুনাথ সরকার

উৎপাদক রাষ্ট্র
চতুর্থত মুঘল শাসিত ভারতবর্ষের রাষ্ট্রই ছিল সব থেকে বড় উৎপাদক, বলা দরকার তার রাষ্ট্রের সারাবছর বিপুল সংখ্যায় দেখনদারির অনুষ্ঠান চালাতে যে সব জিনিসপত্র প্রয়োজন ছিল, সেগুলির একমাত্র উৎপাদক ছিল সে নিজেই। আধুনিক কালে বাজার থেকে তৈরি পণ্য কেনার রীতি তৈরি হয়েছে সরকারগুলোয়, বা হয়ত কিছু উৎপাদন বিপুল সংখ্যায় কোন ঠিকাদারের সঙ্গে সরবরাহের জন্য চুক্তিবদ্ধ হচ্ছে। তখন হয়ত কুটরশিল্পের উৎপাদন ব্যবস্থায় সেই বিপুল পরিমান তারা সরবরাহ করতে পারত না, বা ব্যক্তিগত পুঁজি তার ভবিষ্যৎ বিক্রির অবস্থা অনির্দিষ্ট বলে সেই উৎপাদনে বিনিয়োগ করত না। ফলে রাষ্ট্র সরাসরি নিজের যা চাহিদা নিজেই পূরণ করে নিত।
এবং সত্যিই চাহিদা ছিল বিশাল পরমান। বছরে দুবার – একবার বর্ষার আগে এবং শীতে, প্রত্যেক মনসবদারকে সম্রাট খেলাত(আংরাখা, রোব) দিতেন। ১৬৯০ সালে সরাসরি বেতন পাওয়া মনসবদারের সংখ্যা ছিল ৭৫০০ এবং জায়গিরদারদের সংখ্যা ছিল আরও ৭০০০। উচ্চস্তরের আমলাদে জন্য বরাদ্দ ছিল একটা সাম্মানিক আংরাখা, এবং তার সঙ্গে জুড়ে থাকা আরও কিছু সাম্মানিক জিনিসপত্র। বছরে এই দুই বার বিপুল পরিমান সম্মান জানানোর পণ্য ছাড়াও রাজপরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত আত্মীয়রা, সামন্ত রাজা, মনসবদারদের বড় অংশ এবং রাজসভার পারিষদবর্গরা সম্রাটের দুটি জন্মদিনে(একটি সৌর মাসে অন্যটি চান্দ্র মাসে), চান্দ্র মাসে তার অভিষেকের দিনে, দুটি ঈদে আর ঔরঙ্গজেবের সময় পর্যন্ত যখন সূর্য মেষ রাশিতে প্রবেশ করে, সেই পারসি নববছরে(নওরোজ) সম্মানিত হতেন। আর খেলাত দেওয়া হত রাজসভায় উপস্থিত থাকতেন যে সব আমলা তাঁদের, বা যারা নতুন পদে আরোহন করেছেন বা যারা অবসর নিচ্ছেন বা ঔরঙ্গজেবের সময় যারা ইসলামে ধর্মান্তরিত হয়েছেন তাঁদের।
ফলে আমরা দেখলাম কেন্দ্রিয় সরকারকে সারা বছর ধরে শুধুমাত্র খেলাত দেওয়ার অনুষ্ঠানের জন্য বিপুল পরিমান জামাকাপড় এবং তার আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র জমিয়ে রাখতে হত। ফলে রাষ্ট্রকে সারাবছর রাজধানী এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রান্তে বহু কারখানা চালু রাখতে হত। এই কারখানাগুলোতে সরকারিভাবে দারোগার নেতৃত্বে সারা দেশ থেকে জড় করে আনা দক্ষ কর্মী কাজ করতেন। এই কর্মীদের রোজের ভিত্তিতে কাজ করানো হত এবং সেই বিপুল পরিমান পণ্য মজুত করে রাখা হত।
সম্রাটের নিজস্ব যে সব লাক্সারি দ্রব্য প্রয়োজন হত, তাও একই ভাবে কারখানায় তৈরি করা হত। বাজারে যা পাওয়া যায় খান-ই-সামান পদাধিকারী তা তো কিনতেনই, আর যা বাকি জরুরি, তা প্রয়োজনের বহু আগেই তা তৈরি করিয়ে রাখতেন কারখানায়। কারখানার বিশদ সমীক্ষা আমাদের জানতে সাহায্য করবে, কিভাবে শিল্পউতপাদনে রাষ্ট্র অংশগ্রহন করত।
Post a Comment