Thursday, May 26, 2016

দ্য মুঘল এডমিনিস্ট্রেশন - যদুনাথ সরকার

চতুর্থ অধ্যায়

সুবাগুলির প্রশাসন৩

নতুন সুবাদারকে কাজ সম্বন্ধে এই উপদেশ দেওয়া হত-

‘পদে বসার সঙ্গে সঙ্গে তোমার বশবর্তী, অভিজ্ঞ, অনুগামী, উচ্চশ্রেণীর দেওয়ান নিযুক্ত করবে, এবং একই গুণ এবং অভিজ্ঞতাযুক্ত মুন্সি(সচিব) নিযুক্ত করবে। তোমায় একজন বিশ্বাসী বন্ধু বা মাধ্যমের(ওয়াসিলা) ওপর নির্ভর করতে হবে, যে নিয়মিত যে কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তোমার চাহিদা/চিঠি শীঘ্র সঠিকভাবে সম্রাটের কাছে পৌছে দিতে পারে। তাকে তোমায় উপযুক্ত উপহার দিতে হবে কেননা সে তোমার হয়ে এই কাজটি সময় ব্যয় করে করে দিতে সম্মত হয়েছে। মানুষ পীরদের মাজারে যান তাঁদের সমাধিতে ফুল দিতে। ফলে একজন জীবিত ব্যক্তি তো উপহার পাওয়ার আশা করে থাকতেই পারেন।

‘সুবার রাজনীতি বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের কাছে শুনবে কতজন জমিদারের ওপর বল প্রয়োগ করতে হবে এবং প্রজাদের সামূহিক চরিত্রও জানবে, এবং প্রশাসন(রাবত এবং জাবত) নিয়ন্ত্রন এবং চালানোর জন্য জরুরি সেহবান্দি সেনার(রাজস্ব আদায়ের অনিয়মিত সেনা, অনেকটা শস্ত্রধারী পুলিশের মত) পরিমানটাও জানবে।যদি খোঁজ খবর নিয়ে বোঝ তোমার সেহবান্দি এবং নিয়মিত(তাবিনাম) সেনার পরিমান সেখানে অপ্রতুল, এবং এগুলি এবং অন্যান্য বিষয়ে যদি তোমার সম্রাটকে কিছু জানানোর এবং আবেদন থাকে, তাহলে রাজসভার তোমার মাধ্যমকে দিয়ে সেই আবেদন তার কাছে শীঘ্র পৌঁছে দেবে। যদি সুবা চালানোর জন্য সম্রাট তোমায় পরিমান মত সেনাবাহিনী মঞ্জুর করেন, তা হলে তো ঠিকই আছে। না হলে, ভাববে তুমি নিজ খরচে সুবা প্রতিপালন করতে পারবে কি না, এবং সেই খরচ তোমার চাকরির মেয়াদে বেতন এবং ভাতা দিয়ে তুমি তুলে নিতে পারবে কি না(তাহলে সেইভাবে এগোনোর কথা ভাববে)। আর কোনোটাই যদি না আদায় করতে পার তাহলে পদ নিতে অস্বীকার কোরো, কেননা একজনমাত্র সেনা নিয়ে কোন প্রশাসক কি আর করতে পারে(মানে তুমি একজনই মাত্র সেনা যাকে সম্রাট যথেষ্ট বাহিনী দেন নি)।

‘তুমি যখন রাজধানী থেকে সুবার দিকে যাবে, তখন একচতুর্থাংশ যুদ্ধ অভিজ্ঞ, ভাল পরিবারের এবং অনুগামী তাবিনান(শস্ত্রধারী অনুগামী) নিয়ে যাত্রা করবে। সুবা থেকে অর্ধেক দূরত্বে গিয়ে আরও একচতুর্থাংশ একই ধরণের সেনাবাহিনী যাতে নিয়োগ করতে পার সেটি নিশ্চিত করবে। অসামরিক প্রশাসন ঠিকমত চালাবার জন্য, উপযুক্ত অভিজ্ঞ অনুগামী নিয়ে যাবে, তাঁদের পরিষ্কার বলবে যে সুবার সীমায় পৌছোন থেকেই তাঁদের কাজ শুরু হয়ে যাবে। অর্ধেক আধিকারিককে নিজের কাছে রাখবে, এবং বাকি অর্ধেককে তোমার সঙ্গে থাকা তাবিনান নিয়ে তোমার আগেই সুবার সদরে পৌঁছে যেতে বলবে, এবং তাঁদের নির্দেশ দেবে, তাঁরা পৌঁছমাত্র অভিজ্ঞ মানুষদের জড়ো করে প্রত্যেক জমিদারের এবং জমাদারদের চরিত্র জানতে, এবং তাঁদের নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক, আগের সুবাদারদের সঙ্গে তাঁদের রাজস্ব বিষয়ক সম্পর্ক, এবং কোন জমিদার নির্দিষ্ট রাজস্বের থেকে বেশি রাজস্ব অর্পন করে, তা বুঝে নিতে। আর যখন তুমি সদর থেকে এক চতুর্থাংশ পথ দূরত্বে থাকবে, তখন কিছু অভিজ্ঞ সেনা পাঠিয়ে জমিদারদের তোমার অভ্যর্থনা জানানোর জন্য অপেক্ষা করতে নির্দেশ দেবে(মতলিখিত স্টাডিজ ইন আওরঙ্গজেব’স রেইনএ ওডিসা সুবাদার নিয়ে এই কথা বলা হয়েছে।)

‘তুমি যখন সুবার সীমান্তে পৌছবে, সেই দিন থেকে কোন দপ্তরে কোন কোন আধিকারিক দায়িত্ব নেবে তার ভাবনা ভেবে নেবে, এবং তাঁদের সঙ্গে ভাল ব্যবহার করবে, কেননা ভবিষ্যতে তাদের সিদ্ধান্তই তোমার পথ চলার সহায়ক হবে।

‘দুর্বিনীত জমিদার এবং নেতাদের শাসন করবে, যাতে এই ধরণের মানুষেরা এই দৃষ্টান্তে সাবধান হয়ে যায়, এবং কোন বাধাছাড়াই রাজস্ব দেয়।

‘সদরে প্রবেশ করেই দুর্গে যাবে(দুর্গ সাধারণত সুবাদারদের সরকারি বাসস্থান। দারুণ উতসবের ঘণঘটা করে তিনি সেই দুর্গে প্রবেশ করতেন; তবে প্রবেশ করার আগে পরামর্শ করতেন তার ব্যক্তিগত জ্যোতিষীর সঙ্গে, সঠিক মুহূর্তের জন্য হয়ত তাকে শহরের কোন রম্য বাগানে বহু দিন বাস করতে হত)। যদি মনে হয় কোন বাহিনী অতিরিক্ত বোঝা, বিশদ সমীক্ষার পর তাদেরকে বরখাস্ত করবে। তোমার অধস্তন কর্মীদের বকেয়া বেতনদেওয়া খুব কঠিন। দেওয়ানকে নির্দেশ দেবে সুবার আয় অনুযায়ী যেন ব্যয়ের ব্যবস্থা করেন।

‘রায়তদের সঙ্গে ভাল ব্যবহার করবে, তাদের মন দিয়ে কৃষি চালিয়ে যাওয়ার জন্য অনুপ্রেরণা দেবে। তাদের সামনে কোন কিছু হাট করে বলতে যেও না, বা খারাপ ব্যবহার কোর না। মনে রেখো রায়তেরা চিরস্থায়ী(রাষ্ট্রের আয়ের একমাত্র নিয়মিত সূত্র)। উপহার নিয়ে আসা জমিদারদের ভাল ব্যবহার কোরো। তাদের সেনা দিয়ে শাসন করার থেকে ভাল ব্যবহার করা অনেক শস্তার।
‘খালসা মহলের গাঁইয়াদের সঙ্গে ঝগড়া করতে যেওনা, তাহলে খালসার দেওয়ান তোমার ওপর রুষ্ট হবেন, তিনি সম্রাটকে গিয়ে তোমার বিষয়ে অভিযোগ করবেন এবং এ জন্য সম্রাট তোমাকে ডেকে পাঠিয়ে তোমার ব্যবহারের কৈফিয়ত চাইতে পারেন।

‘শেখ এবং কাজিদের সঙ্গে ভালভাবে কথাবার্তা বলবে। বাড়ি বাড়ি ভিক্ষে না করা দরবারিদের কুশল প্রশ্ন করে তাদের সাহায্য করবে। ফকির এবং সাধারণ ভিক্ষুককে ভিক্ষে দেবে। দেখবে ক্ষমতাবানেরা যেন দুর্বলদের ওপর অত্যাচার না করে।’

তার অন্যতম দায়িত্ব হল, তার প্রশাসনিক এলাকার কাছাকাছি থাকা, জমির ওপর নির্ভরশীল(ভাসাল প্রিন্স) রাজাদের থেকে বাকি দেয় আদায় করা এবং রাজসভার বরাদ্দগুলি যাতে নির্বিঘ্নে রাজসভায় পৌছোতে পারে তার ব্যবস্থা করা।
(চলবে)

Post a Comment