Sunday, May 22, 2016

দ্য মুঘল এডমিনিস্ট্রেশন - যদুনাথ সরকার



তৃতীয় অধ্যায় 
অর্থ ও ঘরগেরস্তি(হাউসহোল্ড) দপ্তর৭

ওয়াকিয়ার সারাংশ অনুসারে লেখা হত ফর্মান। সেখানে দেওয়ান লিখতেন – একটা সরকারি ফর্মান লেখা হোক। তিনি জায়গিরের সিয়াহা-য় এবং তনখার পরিমানে নিজে স্বাক্ষর করতেন, এছাড়াও স্বাক্ষর করতেন হিসাবপত্রের বন্দোবস্ত(মুহাসিবত), আর সুবার সমস্ত পরওয়ানায়  - আমিন, মহালের মুশরিফ এবং তহবিলদার, আমিনদের দারোগা, সুবার খাজাঞ্চিখানার মুশরিফ আর খাজাঞ্চি, বিভিন্ন নথির সাজাওয়ালদের, বিভিন্ন আমিন আর ক্রোরির এলাকায় পড়ে থাকা বাকির(রাজস্বের), বা সরকারের অগ্রিম দেওয়া ঋণ(মুতালিবা) আদায়ের জন্য দায়ি আধিকারিকদের, এবং রাজস্ব বাকি থাকা জমিদারদের সমীক্ষা নথিতে।
প্রত্যেক পরওয়ানায় প্রধান দেওয়ান লিখবেন প্রত্যয়িত(সাদ) এবং খালসার দেওয়ান লিখবেন দেখেছি(মুলাহিজা শুদ)।
খালসার দেওয়ানের দায়িত্ব হল, তাঁদের অধস্তন আধিকারিক বা আমিলদের নানান প্রশ্নের উত্তর দেওয়া; বিভিন্ন কাজের জন্য সনদ জারি – যেমন - পরগণায় সম্রাটের পুত্র এবং তস্যপুত্রদের জন্য বেতন(তনখা) নির্ধারণ করার জন্য; সরকারি বিভিন্ন অগ্রিম ফেরত নেওয়ার জন্য; বিভিন্ন কর্মচারীর বেতন দেওয়ার জন্য(আহালিখিদমত); বিভিন্ন অনাদায়ি আদায়ের জন্য; বিভিন্ন অধস্তন খাজাঞ্চি থেকে অর্থ নিয়ে আসার জন্য; বিভিন্ন কারখানায় প্রস্তুত দ্রব্যাদির জন্য আর্থিক বন্দোবস্তের জন্য; নিউজলেটারে প্রকাশিত নানান বিষয় তদন্ত করার জন্য; সম্রাটের নির্দেশমত(হাসবুলহুকুম) চিঠি লেখার জন্য; ইত্যাদি ইত্যাদি।
খালসার দেওয়ান তাঁর নিচুস্তরের দেওয়ানি আধিকারিক আর তাঁদের করণিক(আমল)দের কর্মচারীদের পাঠানো নানা তথ্য সমীক্ষা(ডেসপাচেস), যেগুলি পাঠানোর উপযোগী; সেগুলির সংক্ষিপ্তসার করে লিখিত সমীক্ষা জমা করতে হত সম্রাটের দরবারেতবে তিনি যদি মনে করতেন যে আবেদনগুলি সম্রাটের সম্মুখে পাঠানোর যোগ্য নয়, সেগুলি তিনিই বাতিল করে দিতে পারতেন।
ফলে সম্রাটের সামনে কি কি বিষয় দেওয়ান উপস্থাপন করতে পারেন, তাঁর একটি তালিকা আমরা পেলাম। তবে তিনি কি কি উল্লেখ করবেন না, তা তাঁর নিজের বিবেচনার ওপর নির্ভর করত। খাজাঞ্চিখানায় কত অর্থ রয়েছে, এবং জমিদারেরা কি করছে, তা তিনি সম্রাটকে নিয়মিত জানাতেন।
রাজপরিবারে যে সব আর্থিক ব্যয় হয় তা নির্ধারণ করেন খানইসামান, দেওয়ান শুধু তাতে স্বাক্ষর করতেন।
খালসার দেওয়ান বিভিন্ন কর্মচারীর জন্য এবং রাষ্ট্রীয় ঋণ পরিশোধ করার জন্য ঋণপত্র(তমসুকইজামিনি) এবং কিছু আধিকারিকদের স্বাক্ষরে নির্দিষ্ট কিছি কাজ করিয়ে নেওয়ার জন্য ক্ষতিপূরণ ঋনপত্র(ইন্ডেমনিটি বন্ড - মুচিলকা)জারি করতেন।
ফোতদার এবং খাজাঞ্চির উদ্ধার করা সরকারি পূর্ববর্তী ঋন বা অগ্রিম উদ্ধারের সমীক্ষা খালসা দেওয়ানকে পড়তে হত। বড় দেওয়ান সেই আমল(করণিক)এর করা সমীক্ষায় লিখতেন মুঞ্জুর শুদ, আর খালসার দেওয়ান লিখতেন দেখেছি।
মুস্তৌফিরা – যেমন রাজস্বের মুস্তৌফি(মাল), রসুলমালএর(পণ্যের নির্দিষ্ট দাম নির্ধারণ করা) মুস্তৌফি, খাজাঞ্চিখানার মুস্তৌফি, ধারবাকি নিয়ে দায়িত্ব প্রাপ্ত মুস্তৌফি, আনুয়াল(রাষ্ট্রের কাছে ধার করে মারা যাওয়া রাজকর্মচারীর সম্পত্তি দখল করার) মুস্তৌফি এবং জাজিয়ার মুস্তৌফিরা রাষ্ট্রের দেওয়ানের সামনে যে সব আয়-ব্যয়এর হিসেবপত্র নিয়ে আসতেন, তাতে তিনি স্বাক্ষর করে লিখতেন এই সব ব্যয় করা হোক। এছাড়া নির্দিষ্ট বেতন পাওয়া কর্মচারীদের প্রত্যয়িত বেতন তালিকার নকলে তিনি স্বাক্ষর করতেন।
রাষ্ট্রের দেওয়ান রাষ্ট্রীয় ফর্মানের সংক্ষিপ্তসারে(জিমন) স্বাক্ষর করেন। খালসার দেওয়ান দেওয়ানি, ফৌজদারি এবং আমিনি কাজকর্মে(খিদমত) স্বাক্ষর করতে হত।
আখাম(লিখিত রাষ্ট্রীয় নির্দেশ)এর সিহায়া সরাসরি পাঠাতে হত প্রধান বক্সী, খানইসামান এবং অন্যান্যদের দপ্তরে।
খালিসার দেওয়ানদের যে দায়িত্ব পড়ত তাঁর মধ্যে ছিল, রাজস্ব দপ্তরের বিভিন্ন মন্তব্য নিরীক্ষণ করা, তুমারিইজমা(মোট রাজস্ব ওঠার যে পরিকল্পনা তাঁর মূল্যায়ন), সেনাবাহিনীর সেনা, সম্রাটের ব্যক্তিগত আধিকারিক এবং লোকলস্কর খরচ বিষয়ে দেখাশোনা করা, খালসার দেওয়ান রাষ্ট্রের এবং প্রত্যেক সুবারও আয় ব্যয় সমীক্ষা করা, বেগমদের তনখা, মহল(গ্রাম)গুলি, শ্রমিকদের সংখ্যা নির্ধারণ করা।
আর সম্রাটের যত নথি স্বাক্ষরিত হয়, তাঁর সবকটি প্রত্যায়িত নকল প্রধান দেওয়ানের কাছে থাকে।
Post a Comment