Thursday, July 5, 2018

সীমা আলাভি'র ইসলাম এন্ড হিলিং, লস এন্ড রিকভারি অব ইন্দো-মুসলিম মেডিক্যাল ট্রাডিশন, ১৬০০-১৯০০

অসাধারণ একটা বই। দৃষ্টিনন্দন প্রচ্ছদ এবং তার সূচীপত্রটি এবং মুখবন্ধ হিসেবে তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশের প্রথম স্তবকটি তুলে দেওয়া গেল তুলে দেওয়া গেল, বইটায় লিখিত বিষয় সম্বন্ধে একটা সাধারণ ধারণা করার জন্যে।
My maternal grandmother Begum Ejaz Jahan (1915–2000) introduced me to the world of Tibb-i-Unani. She was the granddaughter of Hakim Abd al Aziz, the founder of the Azizi family of Lucknow hakims. She made me realize that Unani was not just a system of medicine but a form of healing—a way of life. The stories of intimate friendships that her family shared with the British civil surgeons of Lucknow encouraged me to think afresh about our colonial experience and its impact on our everyday lives. My grandmother’s maternal home, the Takmil-ut-Tibb College in Lucknow, epitomized for me the entanglement of the local medical culture with the global contours of medical science. At the same time her pride in her family’s exclusive status as the scholarly hakims of the city, different from neem hakims (spurious hakims), urged me to also explore the story of Tibb-i-Unani from within a very stratified tradition. This book is the result of my endeavours to understand the social history of North India via a documentation and analysis of the history and transformation of the Unani healing tradition. It studies Unani texts and its practitioners from the seventeenth to the twentieth centuries so as to unravel the complex social history of the period.
এটা নিয়ে একটু সময় পেলে দীর্ঘ আলোচনা করা যাবে

হঠাত ঘুম থেকে উঠে মনে হচ্ছে - নিজভূমে পরবাসী হলাম না তো!

হায় ভদ্রবিত্ত
১৮০০ সালে কলকাতায় ছিল ৩০% অবাঙ্গালি। আজ যে কলকাতায় আমরা বাস করি সেটা আদতে ঔপনিবেশিক শহর, অভিবাসীদের শহর।
গত দুশ বছর ধরে এই ৩০% আপনাকে সেবা দিল(কলকাতার বাড়ি আর রাস্তার পয়প্রণালীর কাজ করেন অবাঙ্গালি, ওডিয়া, ফুচকা দুধ বেচেন বিহারী, ঝাড়খণ্ডী, ট্যাক্সি চালক ভোজপুরী), ফুটপাথে বসে বাজার তৈরি করল(অধিকাংশ ওডিয়া, বিহারী, ঝাড়খণ্ডী), আপনার অর্থনীতিতে তারা গুরুত্বপূর্ণ অবদান পেশ করল, তাদের ঘাড়ে বসে কলকাতা মেট্রো সিটি হল, দত্ত, দে, লাহা, সাহা উপাধিধারী কিছু ব্যবসায়ী বাঙ্গাল মুসলমান ছাড়া ফুটপাথে কেন, ব্যবসা করা ব্যাপারটাকেই আপনি ঘেন্না করতেন। আপনি জেনে বসে আছেন নবজাগরণের অগ্রদূত মাইকেল ফ্যারাডে বলে গ্যাছেন ব্যবসা মানুষের চিত্ত কলুষিত করে। আজ ভদ্রবিত্ত আপনি, আপনার উত্তরপুরুষ দয়ে পড়ায় সেবা দেওয়া আর বাজার তৈরি করা অভিবাসী মানুষগুলোকে অবাঞ্ছিত মনে হচ্ছে।
আপনার সমস্যা হল তাঁরা এতদিন কলকাতায় থেকেও তাঁদের কৃষ্টি ধরে রেখেছেন। আপনি পারেন নি, কারণ আপনি আপনার সংস্কৃতিকে(যার মুল গ্রাম্যপন্থ, আপনার ভাষায় ধর্ম) উন্নাসিকভাবে দেখে এসেছেন। ফুটপাথে শীতলা, কালি, শিবের মন্দির হলে তাকে নিকৃষ্টভাবে দেখেছেন, তার বিরুদ্ধে কাগজে কলম লিখেছেন, পাঁচ রাত ধরে পাশের বস্তিতে শীতলা বনবিবি সত্যপীরের গান হলে পুলিশ ডেকেছেন মাইক থামানোর জন্যে। ভূমির সঙ্গে জুড়ে থাকেন নি। আপনার আরাধ্য ইওরোপ। সে আপনাকে যে দিকে নিয়ে যেতে চেয়েছে আপনি সে দিকেই গ্যাছেন। আপনি আপনার কৃষ্টিকে কৃষ্টিই মনে করেন নি, তাকে লোকসংস্কৃতি দেগে দূরে সরিয়ে হয়ত দ্যাখন শ্রদ্ধা করেছেন, কিন্তু তাকে কাছে টেনে নেন নি। বিবিসি কেঁদুলিকে উডস্টক বলা মাত্রই আপনি কলার তুলে ছুটেছেন বাঘ পালানো শীতে গাঁজা চুষতে আর বান্ধবীকে নিয়ে বেলেল্লাপনা করতে। কেঁদুলিকে কেঁদুলি হিসেবে দেখেন নি, আপনি তাতে ইওরোপের ওম পোয়াচ্ছিলেন, ইওরোপে না যেতে পাড়ার স্বপ্নপূরণ করছিলেন।
আপনি মাইনে বাড়াবার জন্যে কলকাতাকে এ ওয়ান সিটি বানিয়েছেন, তারপরে মূল কলকাতা থেকে যখন ছোটলোকেরা হটে গ্যাছে, বা তাদের অনেকে যখন মধ্যবিত্ত থেকে ভদ্রবিত্ত রূপান্তরের পথে হাঁটছে, তখন অবাঙ্গালি অভিবাসীরা তার কৃষ্টি নিয়ে ফাঁকা ফুটপাথে নেমে এসেছেন। আপনার গায়ে লাগছে।
যতদিন তারা চুপ ছিলেন ততদিন তাদের খোল্কর্তাল বাজিয়ে চৈতা বা ফাগুয়া গাওয়াকে ব্যঙ্গ করেছেন চুটিয়ে।
হঠাত কলকাতায় জেগে উঠে আপনার মনে হচ্ছে নিজভূমে পরবাসী হয়ে গেলাম না তো!

২০০ বছর আগের ফরাসী নববধুদের জুতো

আজকের ভুলভাল পুরুষর ভুলভাল কাজের বিরুদ্ধে আত্ম্রক্ষার অস্ত্র হতে পারে

রাধাবিনোদ পাল মানবতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন

রাধাবিনোদ পালকে নিয়ে একটি গদগদ লেখা পড়তে ডেকেছিলেন বন্ধু Sihabul Islam। ধন্যবাদ তাঁকে।
রাধাবিনোদ পাল সম্বন্ধে আমাদের বক্তব্য
আমরা যারা মধ্যবিত্ত মানুষের বাইরের রাজনীতি করি, তাদের কাছে তিনি তারকা নন বরং তিনি তার কেজো আইনি বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্রবল যুদ্ধপরাধী জাপানকে বাঁচিয়ে দিয়ে বিশ্বমানবতাকে হারিয়ে দিয়েছেন।
তিনি কেন মানবতার বন্ধু নন
১) ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অত্যন্ত কাছের মানুষ ছিলেন, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের তুঙ্গ সময়ে সাম্রাজ্যের নির্দেশে আয়কর আইন তৈরি করেন, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রধান বিচারপতি হন।এই পদ পান তিনি কারণ তার সাম্রাজ্য অনুগামিতা।।
২) জাপানিরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ৩০-৪০ লক্ষ কোরিয়, ফিলিওপিন্স, চিনা, ইন্দোনেশিয়, মালেশিয়কে ঠাণ্ডা মাথায় খুন করেছে। জাপান নেতাজীকে সাহায্য করেছে বলে তাদের কোন ঘৃণ্য অত্যাচারই ন্যুন হয়ে যায় না। আপনারা কেউ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানি গণহত্যার ইতিহাস খুঁজে পড়ে নিতে পারেন।
তিনি আইনের ফাঁক গলে যুদ্ধপরাধী জাপানকে বাঁচিয়ে দিয়েছিলেন, তাতে তার আইনি মারপ্যাঁচের বুদ্ধির প্রকাশ ঘটলেও, সেই বিচারে মানবিকতা সুবিচার পায় নি।
এক যুদ্ধাপরাধী ব্রিটেন আরেক যুদ্ধপরাধী জার্মানির বিচার করেছে। তিনি যদি আন্তর্জাতিক আদালতে ব্রিটেনকেও ভারতের উনপঞ্চাশের দায়ে সোপার্দ করতেন তাহলেও কিছুটা পাওস্খলন হত। তাকে ৩০ লক্ষ হতভাগ্য ছোটলোক বাঙালি তাকে ধন্যবাদ দিত।
কিন্তু তিনি দাঁড়ালেন সাম্রাজ্যের হয়ে, আম-ভদ্রবিত্তের যা চরিত্র।

দিকমণ্ডল

এগারো শতকের দিকমণ্ডল, তার পাশে আধুনিক স্টার ডায়াল।
ব্রিটিশবাবারা বলে গ্যাছে আমরা অশিক্ষিত ছিলাম, তো ভদ্রবিত্ত সেই কথার প্রতিধ্বিনি করে কলাটা মুলোটা গুছিয়ে নিয়েছে। আর সঙ্ঘিরা নিজের সভ্যতা সম্বন্ধে একন অশিক্ষতদের মত লেখা দেয় তাতে পশ্চিমিদের প্রচার আরও জোরদার হয়।
দিকমণ্ডলে আমাদের মত করে আমরা ব্রহ্মাণ্ডকে দেখতাম।
ঠিক যেমন করে আজ স্টার ডায়াল দিয়ে পশ্চিমের মানুষেরা ব্রহ্মাণ্ড দ্যাখে। দিকমণ্ডল; রূপলাগি, কমল ইত্যাদি নানান ধরণের দিকদর্শন যন্ত্র ছিল বলেই আমরা ভারত আবিষ্কার করতে গিয়ে আমেরিকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ আবিষ্কার করে বসিনি।
তবুও আজও পশ্চিমি বাবাদের তথ্যে আমরা কলের পুতুলের মত নাচি।
দুবছর আগে কৃন্না শাহের(Krinna Shah) লিখেছিলেন -
Dikmandal, 11th century, Dhubela, Chattarpur, State Museum of Madhya Pradesh, Bhopal. Adjoining picture is the Star Dial of today's time. Bal Krishna Lokhande had shared interesting information connecting both. Museums are important. As per Mr. Lokhande's comment -27 नक्षत्र, उनके अधिपति चार, सप्तरिषी ,राशिया, दिशाये / आठ वसु, नवग्रह, 13 देवकन्याये, न्याय कर्ता राजा धर्म ऐसे 85-90 figure s depicted in sculpture.

ভয়নিশ পাণ্ডুলিপি - নবজাগরনীদের হাতে ইওরোপিয় পাগান দেহতত্ত্ব ধ্বংস

Dipanjan Dutta Chowdhury ইওরোপের তন্ত্রচর্চা নিয়ে দ্য ওয়াল ওয়েবসাইটে জিষ্ণু বসুর একটি প্রবন্ধের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। ভয়নিশ পাণ্ডুলিপি বেশ কয়েক বছর আগে দেখেছিলাম তন্ত্র পাঠ করতে গিয়ে। তবুও আবার মনে করিয়ে দেওয়ার জন্যে তাঁকে ধন্যবাদ।মুল পাণ্ডুলিপিটির পিডিফ সংস্করণ আমার আছে। কারোর দরকার হলে নিতে পারেন। 
---
জিষ্ণুবাবুর লেখা সুলিখিত প্রবন্ধটির তথ্যের বাইরে আমার কিছু বলার আছে। উপমহাদেশের জ্ঞান নকল করার কাজ বহুকাল থেকে করে চলেছেন ইওরোপের জ্ঞানীরা। তারা জানতেন অঙ্ক, পঞ্জিকা, সমুদ্রবিদ্যা, ধাতুবিদ্যা, চিকিতসাবিদ্যা ইত্যাদি বাবদে তাদের উপমহাদেশের সামাজিক জ্ঞান আর দক্ষতার সঙ্গে পাল্লা দেওয়া অসম্ভব।
যে সময়ে পুঁথিটি লেখা হচ্ছে, সে সময় পঞ্জিকা সংস্কারের জন্য এবং জ্ঞান সঞ্চয়ের জন্যে ইতালিয় জেসুইটরা ঠিক করে বিশ্ব জ্ঞানের কেন্দ্র উপমহাদেশে যাবে।তারা জানত তাদের পঞ্জিকা এবং অঙ্ক জ্ঞান যৎকিঞ্চিত, যে জন্য তারা বিশ্বের পরিধির মাপ ৪০% কম মাপে, তার প্রতিফলন ঘটে মানচিত্রে। ভারত আর আফ্রিকা খুব কাছাকাছি চলে আসে - যে জন্য ভাস্কো আফ্রিকার মেলিন্দের আশেপাশে ভারত খুঁজে বেড়াচ্ছিলেন।
সে যাই হোক, জ্ঞানের খোঁজে ১৫০০ সালের প্রথম দিকেই তারা ভারতে পা দেয়। প্রথমে দক্ষিণ ভারতে, তারপরে আকবরের রাজসভায় আসেন। তাদের অভিজ্ঞতা নিয়ে বইও আছে। যে জ্ঞান নিয়ে তারা ইওরোপে যান তার বলেই পঞ্জিকা সংস্কার হয় এবং ইওরোপের সমুদ্রযাত্রা সুগম হয়। চন্দ্রকান্ত রাজুর মতে এই সময়ই কলনবিদ্যা ইওরোপে যায় এবং নিউটন লিবনিতসের হাতে পড়ে বিকশিত কলন অন্য রাস্তা ধরে - রাজু এটা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। জিভার্গিজ যোসেফও দ্য ক্রেস্ট অব দ্য পিকক লেখেন। রাজুর দাবি উচ্চগ্রাম আর যোসেফের দাবি নিম্নগ্রাম। অনেক পরে জয় সিংহের মানমন্দির তৈরি করার সময় জেসুইটদের অংশগ্রহণ ছিল। এটা জেসুইটদের ভারতে আসার প্রথম দিকে চুরি করা দেহতত্ত্বের জ্ঞান হতে পারে।
তবে আরেকটা সম্ভাবনাও থেকে যায়।
ইওরোপে কিমিয়াবিদ্যা, যাকে লেখক এলকেমি বলেছেন, খুব বড়ভাবে ছিল। এর সঙ্গে দেহতত্ত্বচর্চা জুড়ে ছিল গভীরভাবে। মনে রাখতে হবে ইওরোপে দেহতত্ত্বচর্চা খুব নতুন কিছু নয়। এটা ইওরোপে পাগানদের বড় কাজ। ইওরোপে পাগানেরা দেহতত্ত্ব বিপুলভাবে চর্চা করত।ডাইনিবিদ্যা ধ্বংস করতে, আদতে পাগান বিদ্যা ধ্বংস করতে, সাম্রাজ্যবাদী খ্রিষ্টধর্ম যে বিপুল নারী গণহত্যা চালিয়েছিল গোটা ইওরোপে, সেটা গল্পকথা নয়। পাগান জ্ঞানচর্চার অংশ ছিলেন তাঁরা। তাঁদের আর তাঁদের জ্ঞান উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। পাগানদের ধর্মস্থল, জ্ঞান, প্রযুক্তি, পড়াশোনা সব কিছু ধ্বংস করতে থাকে সাম্রাজ্যবাদী নবজাগরণবাদী খ্রিষ্টবাদীরা। লুঠেরা খুনি নবজাগরণের সময় গোটা পাগান সভ্যতা ইওরোপ থেকে বিলুপ্ত হয়ে যায় মাত্র কয়েক শতকের মধ্যে। উপমহাদেশে ইওরোপিয়ভাবে শিক্ষিতরা দেশিয়(এবং এশিয়) জ্ঞানচর্চা, প্রযুক্তি, প্রজ্ঞান ইত্যাদি ধ্বংস করতে যেমন আশ্রয় নিয়েছেন ইওরোপিয় সেকুলারিজমের ছাতার তলায়, তেমনি ইওরোপের লুঠেরা নবজাগরণের পাগান জ্ঞানচর্চার ধ্বংস ক্রিয়ার জন্যে উদ্ভব হয়েছিল সেকুলারিজম নামক হাতিয়ার।
আমার ধারণা সেই ধ্বংস্ক্রিয়ার সময় পাগান গুঢ় দেহতত্ত্ব লুকোতে এই ধরণের লেখার উদ্ভব।

ললিতা ঘোষ, নৃত্য কর্মশালায়

গুরু সি ভি চন্দ্রশেখরণের ভরতনাট্যম কর্মশালায় অংশ নেওয়া ললিতা শংসাপত্র নিচ্ছে প্রণম্য গুরুজীর হাত থেকে।

বন্ধু Anindyaর তোলা মাটির বাড়ি

ও নাম দিয়েছে গৃহস্থালী।
ছবিটা দিলাম টালির তিনতলা বাড়ির নিদর্শন হিসেবে।
তিন তলায় মাটির হাঁড়িগুলো লক্ষ্য করুণ।

উপনিবেশ বিরোধী চর্চা - কষ্টের, কিন্তু আনন্দের প্রকাশ - বাংলার মাটির বাড়ি

বন্ধু Anamul Haque Humaid জানতে চাইছিলেন দু/তিনতলা মাটির বাড়ি কিভাবে তৈরি হয় -
মানুষের জীবনটাই তো কষ্টের। যত ভাল জিনিস তৈরি হয়েছে বিশ্বে সব কষ্টের ফসল - বিদ্যুৎ আসার আগের সৃষ্টি। বিদ্যুৎ আসার পরে পৃথিবীটা একটেরে হয়ে গ্যাছে। আজও সব ভাল জিনিস বিদ্যুৎ ছাড়া প্রযুক্তি দিয়েই তৈরি হয়। পাকা বাড়ি, ফাঁকি দেওয়া স্থাপত্য এবং কৃতি - এই বাড়ি তৈরি আর ব্যবস্থাপনায় গৃহস্থের কোন কৃতিত্ব নাই। মনে হয় সব সিমেন্ট-ইঁটের বাড়িই এক ধাঁচের।
ইংরেজদের বাংলো, বাংলার মাটির বাড়ির স্থাপত্য আর নাম থেকে চুরি করা। ওরা স্বীকার করেন না। কিন্তু নামে পরিষ্কার। মাটির বাড়ির প্রযুক্তি আর স্থাপত্য বিশাল বিপুল ব্যাপার। Shahinur Rashid Tutul মাটির বাড়ির স্থাপত্য বিষয়ে বিশদে কাজ করেছেন। তাঁর লেখা আমরা পরমে ছেপেছি।
বাড়ি তৈরির মাটি তৈরি দীর্ঘকালের বিপুল জ্ঞানচর্চা আর দক্ষতা আর সৌন্দর্যচর্চা। অন্যান্য গ্রাম্য প্রযুক্তির মত বাটির বাড়ির তৈরির উপাদান প্রযুক্তিবিদেরা গ্রামের আশপাশ থেকেই সংগ্রহ করেন।
মাটির বাড়ি তৈরি জন্য সব মাটি ব্যবহার হয় না। মাঠের বা বিশেষ এলাকার মাটি ব্যবহার হয় - কোন মাটি ব্যবহার হবে সেটা প্রযুক্তিদ জানেন। সেই মাটি নিয়ন্ত্রিতভাবে জল দিয়ে দিয়ে পা দিয়ে চটকে মাখা হয় বেশ ভাল করে।মাটির সঙ্গে থাকা নানান অবাঞ্ছিত বর্জ্য পদার্থ একে একে বার করে দেওয়া হয়। কোথাও কোথাও মাটি গুঁড়ো করে প্রথমে চেলেও নেওয়া হয়।
এবারে আসতে আসতে এই মাটি মাখার সময় মাটিতে নানান আঠাল দ্রব্য যেমন ডিম, খয়ের, পাট, ডালগুঁড়ো, চালগুঁড়ো, তেঁতুল দানা গুঁড়ো, বেলের আঠা ইত্যাদি নানান মিশেল মেশায় যাতে মাটির আঁটটা দীর্ঘকাল ঠিক থাকে।
তারপরে যত উঁচু বাড়ি, এবং বাড়ির স্থাপত্য, সেই অঙ্ক করে চওড়া আর গভীর করে ভিত কাটা হয়। তারপর ঐ তৈরি করা মাটি বিশেষ আকারে কেটে ভিতের ওপর থাক থাক করে রাখা হয়। এর সঙ্গে চলতে থাকে নানান উপাচার, গান ইত্যাদি। তারপর প্রথম তলার মাটির দেওয়ার শোকানোর পালা।
প্রত্যেকতলা তৈরি হওয়ার পর ছাদের জন্যে মূলত বাঁশ লম্বাভাবে দিয়ে তার তলায় চওড়া করে তাল ইত্যাদি গাছের চার চেরা কাণ্ড দেওয়া হয় যার ওপর বাঁশগুলি থাকতে পারে। বাঁশের ওপর মাটি লেপে এক/দুতলার ছাদ করা হয়। পিটানোও হয়। তলায় ওঠার জন্যে মাটির সিঁড়িও তৈরি হয়।
কেউ কেউ গোটা মাটির বাড়িটা তৈরি হওয়ার পর পুড়িয়ে পোড়ামাটির চরিত্র দেন। গোটা শুকনো বাড়িটাকে কাঠকয়লা দিয়ে ঢেকে দ্যাওয়া হয়। তারপরে শুকনো গুল্মের লতাপাতা সেই কাঠকয়লার ওপরে রেখে আগুণ ধরিয়ে দেওয়া হয়। এটা শোনা কথা। একজন গ্রাম্য প্রযুক্তিবিদের কাছে শুনেছিলাম। তবে তা বেশ খরচসাধ্য। কিন্তু দীর্ঘদিন থাকে।
এর পরে মাঠের হলদে মাটি গোবর দিয়ে লেই করে বাড়ির ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয় বাড়ির দেওয়ালকে বাইরের ঝড়, জল, রোদ ইত্যাদি প্রাকৃতিক রোষ থেকে বাঁচাবার জন্যে। রাঢ বাংলায় এই দেওয়ালে নানান ধরণের কাজ করা হয়।
শুনেছি একশ বছরের মাটির তিনতলা বাড়ি রাঢ় বাংলায় দেখা যায়।
এই লেখাটা তৈরির জন্যে বন্ধু Anindyaর তোলা বাঁকড়োর মাটির বাড়ির ছবি দায়ি। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলাম।

উপনিবেশ বিরোধী চর্চা২ - দেশিয় প্রযুক্তিচর্চা - মাটির বাড়ি

ফরিদপুরের মধুখালির ছরোয়ার জান মিঞার মাটির বাড়ি
এই ঘরখানি প্রথমে ওস্তাদ রাজীবলোচন ঘরামী প্রস্তুত করিতে উদ্যত হইয়া শেষে ভয় পাইয়া মিঞার নিকট অস্বীকার করে। কিন্তু তাহার এক আনাড়ী সাগরেৎ মহিম নমঃশূদ্র এই ঘর অতি প্রশংসা ও গৌরবের সহিত সমাধা করে। ইহা প্রস্তুত করিতে প্রায় একশত বসর পূর্ব্বে ১২০০০ টাকা খরচ পড়িয়াছিল। পূর্ব্বে এই ঘরে একটিমাত্র আলো জ্বালাইলে সমস্ত ঘরখানি মিনাপাত ও অভ্রে প্রতিবিম্বিত হইয়া আলোকিত হইত। কিন্তু বর্তমানে মিনাপাত এক্কেবারেই নাই, অভ্র কিছু আছে। যে ঘরামী দিনে একটিমাত্র রুয়ো প্রস্তুত করিতে পারিত সে চাকুরী পাইয়াছে; এবং মহিম নাকি প্রত্যেকটি জিনিসেরই পরীক্ষা করিবার জন্যে জিনিষগুলির ওপর একগাছি রেশমী সুতা টানিয়া লইয়া যাইত, যদি সূতাটি ছিঁড়িয়া যাইত, তাহলে বুঝা যাইত যে জিনিস ভালভাবে মসৃণ হয় নাই। পূর্ব্বেই উক্ত হইয়াছে, এই চিত্রবিচিত্র সর্বাঙ্গসুন্দর শিল্পীর তপস্যার ফলস্বরূপ ঘরখানি দেখিলেই অজন্তার কারিগরদের কথা মনে পড়িবে। সে সার্বভৌম রাজচক্রবর্তীরা আর নাই, সুতরাং পাথরের সে বিরাট স্বপ্ন গড়িবার পরিকল্পনা কে করিবে? কিন্তু তথাকার কারিগরদের বংশধরেরা যে অপূর্ব শিল্প তাঁহাদের দীন দরিদ্র উপকরণ লইয়া এইরূপ শ্রদ্ধা ভক্তি ও তপস্যার অর্ঘ্যে সাজাইয়াছে, তাহাতে কে সন্দেহ করিবে? ধন্য শিল্পিকুল, তাহারা নাম যশ অর্থ চাহে নাই, কিন্তু বহু কষ্ট দারিদ্র্য ও অভাব উপেক্ষা করিয়া যুগযুগান্তের তপস্যার ফল লইয়া আসিয়া আমাদিগকে দিয়াছে। যদি তাহারা অর্থ কি প্রতিষ্ঠা চাহিত, তবে এ তপস্যার ফল দেশের দুর্দ্দিনে আমরা দেখিতে পাইতাম না। শিল্পছিল তাহাদের হেমিকুণ্ড, অনাহারে, অর্দ্ধনগ্নদেহে এই অহিতাগ্নিগণ সেই হোমানল জ্বালাইয়া রাখিয়াছে। আমরা মূঢ়, দুপাতা ইংরাজী শিখিয়া ইহাদিগকে ঘৃণা করিতেছি, কলালক্ষ্মী মুখ ফিরাইয়া একটুই অশ্রু মুছিতেছেন।
যিনি নিজ চক্ষে এই ঘরখানি না দেখিবেন, তিনি এই শোভার একটা ধারণা করিতে পারিবেন না। প্রতি অবকাশস্থল, প্রত্যেক রুয়া, ছাটন ও ফুরশী এমন সামজস্য সহকারে নিয়মিত এবং প্রত্যেক জিনিসের ব্যবধান এইরূপ সুনিয়ন্ত্রিত যে মনে হয় যে কারিগর প্রতি সূক্ষ্ম কার্যের জন্য গজকাঠি হাতে করিয়া কাজ করিয়াছেন। কিন্তু আমাদের দেশের এই শিল্পশিক্ষা বংশানুক্রমে এইরূপ বিশুদ্ধভাবে হইয়া আসিয়াছে, যে কোন গজকাঠি বা মানদণ্ডের সাহায্য ব্যতিরেকে সমস্ত জনিষ কারিগরের স্বতঃসিদ্ধজ্ঞানে সম্পাদিত হইয়াছে।, চালটা পুর্ব্বে দুইহস্ত পরিমিত পুরুছিল, এখন আর উহা অত পুরু নাই। এই পুরু চালের নীচে দাঁড়াইয়া দারুণ গ্রীষ্ম কালেও সর্বাঙ্গ জুড়াইয়া যায়। চালের মধ্যে মধ্যে সুদর্শন আবের চিত্রিত ছবির কারিগরী সর্ব্বত্র। অপরাপর বিবরণ – ৪ খানি চালা, চালা হইতে মুখপাত পর্যন্ত এক একটি ধয়ো ৪০ হাত। ঘরের দৈর্ঘ্য ৩৫ ফিট – এক একটি আঠনও ৩৫ ফিট। ঘরখানি প্রস্থে ৩০ ফিট। এক একটি চালে ৯০টি ধয়ো, ৫৪টি আঠন, ১৮৫টি ফুরিশি, ৪৫০টি ছাটন, ১৭০টা সলা, ১৮টি পট, ৭টি মুখপাত, ৫টি পাড়, ৪০টি ডাফ, ১০টি খুঁটি, বারান্দায় ৮টি খুঁটি(ভিতরের) ও ২০টি তীর উপতিভাগে একটি ঢালা।
ছারওয়ার জান মিঞা এখন জীবিত নাই। তিনি অতি বৃদ্ধ বয়সে মারা গিয়াছেন, তাঁহার পুত্রের বয়সই প্রায় পঞ্চাশ। এই ঘরখানি ৮০ বৎসর উর্দ্ধকাল হইল নির্মিত হইয়াছিল। পূর্ব্বেই উল্লিখিত হইয়াছে, সেই সময় ইহাতে ব্যয় পড়িয়াছিল ১২০০০ (বার হাজার) টাকা। তখন বাঁশ বেত প্রভৃতি উপকরণের মূল্য এবং শিল্পীদের দক্ষিণা অতি অল্প ছিল। সেই সময়কার খোড়ো ঘরে যে বার হাজার টাকা ব্যয় হইতে পারে তাহা অসম্ভব মনে হইবে, কিন্তু ঘরখানির ভিতর দাঁড়াইলে মনে হইবে যে এখন যদি উহা কেহ নির্ম্মান করিতে চাহেন, তবে উহা অপেক্ষা অনেকগুণ খরচ করিয়াও কারিগরের অভাবে তিনি সফলকাম হইবেন না। কথিত আছে, কোন বড়লোকের মেয়েকে ছরওয়ার জান বিবাহ করেন, তিনি পিত্রালয়ে বড় পাকা বাড়িতে বাস করিয়া স্বামিগৃহের খড়ো ঘরের কথা শুনিয়া একটা ক্রুর ইঙ্গিত করিয়াছিলেন। মিঞা মনে বড় দাগা পাইয়া তাঁহার জন্যে এমন একটি খড়ো ঘর তৈরি করাইলেন, যাহা এখোনো বহু দূর হইতে লোকে দেখিতে আসে; অথচ সারওয়ার জানের শ্বশুর গৃহের শেষ ইষ্টকখানাও এখন বিলুপ্ত হইয়াছে; খড়ো ঘরের মহিমায় লোকে এখনো মুগ্ধ হয়। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শিল্প দেবারধানা বা রমণীর প্রেমের প্রেরণা পাইয়া চিরকাল বিকাশ পাইয়াছে।
*** এই লেখার সঙ্গে দীনেশ সেন মশাই একটা খবরের টিকা দিয়েছেন - এই ঘর অতি কয়েকদিন হইল নিষ্ট হইয়াছে, ২০শে আষঢ়ের (১৩৩১বাং) আনন্দবাজার এই বিবরণ সংবাদটি প্রকাশিত হইয়াছে। ৩০০০০ টাকার মূল্যের খড়ের ঘর – অপূর্ব্ব শিল্পবস্তু বজ্রপাতে ভস্মীভূত। (নিজস্ব সংবাদদাতার পত্র) বালিয়াকন্দি, ২রা জুলাই। সংবাদ পাওয়া গিয়াছে, ভূষণা থানার অধীন বনমালদিয়া নিবাসী জমিদার সারাজান মিঞা সাহেবের খড়ের ঘর খানি বজ্রপাতে ভষ্মীভূত হইয়াছে।
সূত্র, বৃহৎ বঙ্গ, প্রথম খণ্ড, চতুর্দ্দশ অধ্যায়, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ 'পরবর্তী শিল্প ও স্থাপত্য'

উপনিবেশ বিরোধী চর্চা১ - দেশিয় প্রযুক্তিচর্চা, মাটির বাড়ি

ফরিদপুরের মধুখালির ছরোয়ার জান মিঞার মাটির বাড়ি
ছরোয়ার জান মিঞার বাড়ীর কতটা ধারনা নিম্নলিখিত বিবরণে পাওয়া যাইবে।
ঘর খানি চারি চালা বিশিষ্ট, সেদেশে ইহাকে ‘চৌরি’ ঘর বলে। পূর্ববঙ্গে এক রূপ ছন জন্মে তাহাকে ‘উলু ছন’ বলে। এই উলু ছনের উল্লেখ পূর্ববঙ্গ-গীতিকায় অনেক স্থলে পাওয়া যায়। সাধারণ ছন হইতে এই উলু ছন দীর্ঘ সূক্ষ্ম ও অনেককাল স্থায়ী। এই উলু ছনকে খুব কায়দা করিয়া ‘কুলি ছন’ (হিসেবে) তৈরী করিতে হয়। মুঠির মধ্যে উলু ছন এক একটি আঁটি ধরিয়া ধরিয়া তাহা ছাঁটিতে হয়, কোন একটি খড় বড় বা ছোট না হয় এইভাবে বাছাই হয় এবং সমান করিয়া কাটিতে হয়। তৎপরে এই কুলি ছনের এক একটি আঁটি বিস্তৃত করিয়া সাজানো হয়। চালের উপর ছন খুব পুরু করিয়া প্রত্যেকটি স্তর নির্মিত হয়, প্রত্যেক ছয় ইঞ্চি ব্যাপক ছনের স্তরের পর আঁঠন (বাঁশের চটা – উহা খুব সরু করিয়া গোলাকৃতি করে তাহারই নাম ছাওনী কাঠি।)। এইরূপ স্তরে স্তরে কুলি ছন চালের সঙ্গে বাঁধিয়া ঢালা(উপরের দিক) পর্যন্ত লইয়া যাওয়া হয়। উপরের দিকটা ওই ছন মোড় দিয়া ঘুরাইয়া ঘুরাইয়া এমন করিয়া বাঁধে যে তাহা দেখিতে খুব সুন্দর হয়। এই চালের নিচের দিকটায় অতি সরু কারুকার্যময় পাটি থাকে এই পাটিকে পূর্ববঙ্গে শীতল পাটি বলে। ইহার দাম খুব বেশী। কখনো কখনো একখানি দাম ৫০০ টাকা পর্যন্ত হইত। শীতল পাটিতে আটকাইবার জন্য ছাটন(সূক্ষ্মভাবে চাঁচা বাসের চটা) ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি প্রত্যেক চার আঙ্গুল পরে পরে ‘ছাটন’ থাকে, ছাটনগুলির সঙ্গে ‘ফুরসো’(ছাটন হইতে অর্ধগোলাকৃত চাঁচা বাঁশ) বক্র ও আড়িভাবে আবদ্ধ থাকে। এই সমস্ত বাঁধনে কুলি ছন খুব শক্ত ভাবে আঁটা থাকে। ‘ফুরসো’র সঙ্গে সঙ্গে ঘন ঘন পাকা বাঁশের নাতিস্থূল গোলাকৃতি ‘রুয়ো’ আড়াআড়িভাবে বাঁধা হয়, ইহাতে চাল এত শক্ত হয় যে কেহ চালের উপর তান্ডব নৃত্য করিলেও তাহা হেলেনা। রুয়োকে আটকাইবার জন্য বাঁশের চটা সর্বনিম্নে আবদ্ধ হয়, এই প্রশস্ত চটা কে মুখজোত বলে। চালের একেবারে সন্মুখে সাজানো দিকটাকে মুখ পাত বলে। এখন ঘরের মধ্যে গিয়া ঊর্ধ্বে তাকাইলে যে দৃশ্য দেখা যায় তাহা বর্ণনাতীত যে সকল বাঁধ আঁটনের কথা বলা হইয়াছে সেই সমস্তই নানা বর্ণে রঞ্জিত ও তাহার প্রত্যেকটিতে অসীম ধৈর্যের পরিচায়ক শিল্পকার্য্য আছে। বিচিত্র বর্ণের ফুল ও লতাতে উপরকার দৃশ্য অতি মনোরম হয়। নানা কারুকার্যমন্ডিত খুঁটির সঙ্গে কাঠের ডাফ দিয়া চাল আঁটা হয়। ডাফগুলি কোনটি নরাআকৃতি কোনটি হাতির শুঁড়ের মত, কোনোটিতে পরী বা অন্য কোন জীবজন্তুর মূর্ত্তি গড়া থাকে। যেখানে যেখানে বেতের ‘গোরা’ সেখানে সেখানে বিচিত্র বর্ণ পশু পক্ষী ও ফুলপল্লবের কারিগরী। সুন্ধি বেত অতি সুক্ষ্ম ভাবে চাঁচিয়া তাহাতে নানান কায়দা করিয়া লতা পাতা ফুলের আকারে গেঁড়োগুলি(গ্রন্থি) গড়া হয়। নিম্ন হইতে ঊর্ধ্বে তাকাইলে মাঝে মাঝে শীতল পাটি ও বিচিত্র বর্ণে রঞ্জিত গেঁড়ো এবং ঠেকাগুলি অদ্ভুত অদ্ভুত মূর্তিতে এমন শোভাময় দেখায় যে চক্ষু সেই চারু দৃশ্যে ভুলিয়া যায়। খাম্বা অথবা বাঁশের খুঁটিতে যে বাঁশ থাকে এবং যাহার সঙ্গে চাল-আঁটা থাকে তাহাকে পাড় বলে। আবার ঘরের ভিতর চালাকে শক্ত করিয়া এবং উঁচু করিয়া রাখিবার জন্য ডাফের যে সরু বাঁশ দিয়া চালা বাঁধা থাকে সেই বাঁশকে তীর বলে, যে বাঁশের বিস্তৃত চাটার দ্বারা বাঁধা থাকে তাহাকে রুয়ো আঠন বলে। এই শিল্প-শোভা প্রতিপদে অজন্তার ছাতের কথা স্মরণ করাইয়া দেয়।
ছারওয়ার জান মিঞার খড়ো ঘর, পো মধুখালি, গ্রাম বনমালদিয়া, জেলা ফরিদপুর।
(চলবে)
আগামী লেখায় ছারওয়ার জান মিঞার বাড়ির আরও বিস্তৃত বর্ণনা দেব।
সূত্র, বৃহৎ বঙ্গ, প্রথম খণ্ড, চতুর্দ্দশ অধ্যায়, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ 'পরবর্তী শিল্প ও স্থাপত্য'

Tuesday, July 3, 2018

অভদ্রবিত্তমানুষের পাঁচালিকার - বীরেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায়

স্মৃতিপ্রণতি
আমারা যারা অভদ্রবিত্তের মানুষের নেতৃত্বে রাজনীতি করি, তাদের কাছে সদ্য প্রয়াত বীরেশ্বরবাবু অসাধারণ কিছু কাজের পথপ্রদর্শক, এবং অসামান্য মানুষও বটে। Somabrata Sarkar, Bidhan Biswas Soma Mukhopadhyay Lalita Ghoshতাঁদেরর অসামান্য খোঁজে, ওনার বা ওনাদের মত মানুষের তৈরি করে দেওয়া কৃষ্টি পথকে আরও বিস্তৃতভাবে স্পষ্ট করে তুলেছেন।সোমব্রতরা তাঁর গবেষণা পথের যোগ্য উত্তরসূরী।
তাঁকে আমরা কিছু দিন পেয়েছিলাম ১৯৯৩-৯৪ সালে কলিকাতা কৈবর্ত সমতিতে বাংলার লোকনাট্য বিষয়ে একটা পাঠ্যক্রমের অন্যতম শিক্ষক হিসেবে - উদ্যোক্তা ছিলেন রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য নৃত্য, নাটক, সংগীত ও দৃশ্যকলা আকাদেমির সচিব ড শিশির কুমার মজুমদার মশাই এবং জেলেপাড়াস্থিত জেলেদের সংগঠন কলকাতা কৈবর্ত সমিতির অন্যতম প্রাণপুরুষ প্রয়াত শঙ্কর প্রসাদ দে। সেই সময় এই অধম, Bidhan Biswas Lalita Ghosh Bimal Dey Angira Goswami Chunu Munuর সম্পাদক শম্পা হালদার, কৈবর্ত সমাজের অবিস্মরণীয় সন্তান শঙ্কর প্রসাদ দে, তারাপদ সাঁতরার সঙ্গে কৌশিকী সম্পাদক Indrajit Chaudhuri, বীরেশ্বরবাবু, জ্ঞানেশবাবু, আমাদের গুরু রঘুনাথ গোস্বামী, আজকের বিধায়ক প্রাক্তন প্রশাসক গায়ক গবেষক Sukhbilas Barma নৃতাত্ত্বিক Kanchanদা এবং আরও বহু জ্ঞানীগুণীর সমারোহে ও তত্ত্বাবধানে জেলেপাড়া সং নতুন করে শুরু হয়।আমরা অংশ নিই। সেই বছরই সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারে মূলত ছাত্রদের অংশগ্রহণে লোক সংস্কৃতি উৎসব হয়। এই সব কটা কাজে ওনার অংশ গ্রহণ অসামান্য ছিল। এছাড়াও বহু পরে বেশ কয়েক দিন ওনার অসামান্য সাহচর্য অন্যান্য গবেষণার সূত্রে লাভ করি।
তাঁর সংগৃহীত হাটুরেদের ছড়া, জেলে পাড়ার সং, যাত্রাগান ইত্যাদির গবেষণায় বীরেশ্বরবাবু ছোটলোকেদের কৃষ্টি জগতের অসামান্য নিদর্শন পেশ করেছেন। ওঁর চেহারাটাও অন্যান্য মধ্যবিত্তিয় গবেষকদের মত খুব চকচকে ছিল না, তাই উনি কিভাবে যে সাধারণ মানুষের মনের মধ্যে প্রবেশ করতেন তার বর্ণনা অনেকের কাছে শুনেছি। আমাদের বন্ধু দাই বিষয়ে কাজ করা Soma গবেষণা ও কর্মসূত্রে তাঁর খুব কাছাকাছি এসেছিলেন। তিনিও কিছু হয়ত এ বিষয়ে আলোকপাত করেতে পারেন।
বাংলাদেশের সঙ প্রসঙ্গে, পশ্চিমবঙ্গ লোকজীবনে লোকসংস্কৃতি, যাত্রাগানের ইতিবৄত্ত, পথ নাটকের কথা, লােকজীবনে ছড়া-গানে কলকাতা এই ঔপনিবেশিক শহরের গ্রামজীবনের ইতিবৃত্তগুলো তিনি অক্লান্তভাবে তুলে ধরেছিলেন।
সোমব্রত ঠিক লিখেছেন, আমরা অভিভাবকহীন হলাম।

Monday, July 2, 2018

মুঘল যুগে চিকিৎসা জ্ঞান

সীমা আলাভি'র, ইসলাম এন্ড হিলিং, লস এন্ড রিকভারি অব ইন্দো-মুসলিম মেডিক্যাল ট্রাডিশন, ১৬০০-১৯০০
অসাধারণ একটা বই। দৃষ্টিনন্দন প্রচ্ছদ এবং তার সূচীপত্রটি এবং মুখবন্ধ হিসেবে তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশের প্রথম স্তবকটি তুলে দেওয়া গেল তুলে দেওয়া গেল, বইটায় লিখিত বিষয় সম্বন্ধে একটা সাধারণ ধারণা করার জন্যে।
My maternal grandmother Begum Ejaz Jahan (1915–2000) introduced me to the world of Tibb-i-Unani. She was the granddaughter of Hakim Abd al Aziz, the founder of the Azizi family of Lucknow hakims. She made me realize that Unani was not just a system of medicine but a form of healing—a way of life. The stories of intimate friendships that her family shared with the British civil surgeons of Lucknow encouraged me to think afresh about our colonial experience and its impact on our everyday lives. My grandmother’s maternal home, the Takmil-ut-Tibb College in Lucknow, epitomized for me the entanglement of the local medical culture with the global contours of medical science. At the same time her pride in her family’s exclusive status as the scholarly hakims of the city, different from neem hakims (spurious hakims), urged me to also explore the story of Tibb-i-Unani from within a very stratified tradition. This book is the result of my endeavours to understand the social history of North India via a documentation and analysis of the history and transformation of the Unani healing tradition. It studies Unani texts and its practitioners from the seventeenth to the twentieth centuries so as to unravel the complex social history of the period.
এটা নিয়ে একটু সময় পেলে দীর্ঘ আলোচনা করা যাবে

মুঘল যুগে খাদ্য সংস্কৃতি বিষয়ে গবেষণা

Divya Narayanan, আমাদের গুরুকন্যা গীতা ধরমপালের অধীনে হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে Cultures of Food and Gastronomy in Mughal and post-Mughal India বিষয়ে অসাধারণ এই গবেষণাটি করেছেন। এক্কেবারে নতুন ভাবনা। সেটি আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পেরে ভাল লাগছে।
ওনার মুখবন্ধের প্রথম স্তবকটি দেওয়া গেল। মন্তব্যে গোটা গবেষণাটির সূত্র দিলাম
“Food is a many-splendored thing, central to biological and social life”, writes Carole Counihan in her book, The Anthropology of Food and Body. Historical and anthropological studies of ‘foodways’ provide a crucial window to the intricacies of social interactions, political articulations, cultural consciousness, and mental as well as emotional structures. Yet, food culture remains a grossly understudied theme in Indian history; this is a lacuna I hope to address in this dissertation. My intention is to examine the dynamics of food cultures and ideas of connoisseurship in urban Mughal and post-Mughal India, i.e. from the sixteenth to the mid-nineteenth centuries. These spatial and temporal margins are meant to be broad boundary markers and do not serve as rigid fences of barbed wire. The geographical focus of this dissertation refers to the lands that came under Mughal hegemony during this period, which naturally included a significant portion of the Indian subcontinent (see map I). But for a greater part of its history, Mughal influence was largely concentrated in the north, and among certain population groups.

Sunday, July 1, 2018

সামাজিক প্রযুক্তির পরিযায়িতা - গণপ্রযুক্তির আসল বিশ্বায়ন - উপমহাদেশের লোহা কারিগরেরা

দেখুন কিভাবে আফ্রিকায়, (এবং এশিয়ায় এই উপমহাদেশে আজও) বিশ্বের সেরা লোহা মাত্র কয়েকঘন্টার হাতে তৈরি চুল্লিতে তৈরি হয়। এই প্রযুক্তি বিশ্বের যে কোন প্রান্তে লোহা চুর থাকলেই চালানো যায়। তার জন্যে যায়গা দখল করতে হয় না, বিপুল বিনিয়োগ করতে হয় না, প্রকৃতি ধ্বংস করতে হয় না, মানুষ উচ্ছেদ করতে হয় না, মানুষের সম্পদ লোহাচুর রাষ্ট্রের সেনার মদতে দখল করতে হয় না।
উপমহাদেশে এই ছাগল চামড়ার হাপর হাতে নয় সাধারণত পায়ে চালানো হয়, ঢেকি পাড়ার মত করে। এই পদ্ধতিতে তৈরি হয় বিশ্বের সেরা লোহা। এলুইন থেকে ধরমপাল থেকে আইআইটি থেকে টাটা থেকে জাপানিরা কে না উপমহাদেশের ধাতুবিদ্যা কারিগরি নিয়ে প্রকাশিত-অপ্রকাশিত নথিকরণ করেন নি।
ধরমপাল বলছেন উপমহাদেশে ১৯১০-১৫ সাল পর্যন্ত এই রকম ১৫-২০ হাজার পরিযায়ী চুল্লি ছিল। বহু লোহাকম সম্প্রদায় পরিযায়ী ছিলেন। হীতেশ সান্ন্যাল বলছেন এক সময়ে বীরভূমের ডেউচ্যা এলাকায় লোহা গলিয়ে গ্রামের বাইরে কর্মকার রেখে তাদের দিয়ে তৈজস বানাতেন সাঁওতাল সমাজ।
কর্পোরেটরা ক্রুসিবল ইস্পাত বানানোর প্রযুক্তি চুরি করার চেষ্টা করেছিল। উতপাদনের প্রকৃতির কারনেই পারে নি। আগে উল্লিখিত ২০ হাজার চুল্লির ৩৬-৪৪ সপ্তা কার্যকর থাকত, এগুলোর প্রত্যেকটির বাতসরিক গড় উতপাদন ক্ষমতা ছিল ২০ টন। এই চুল্লি বর্ষার আগে ভেঙ্গে দেওয়া হত, আর আবার বর্ষার পরে আবার তৈরি করে নেওয়া যেত।
আজও কর্পোরেট এই গুণমানের জংবিহীন ইস্পাত তৈরি করতে পারে নি। এখনো পুরোনো পরিবারগুলির পুজোর ঘরের কয়েকশ বছরের পুরোনো নানান জিনিস, রাস্তায় খোলা আকাশের তলায় পড়ে থাকা কয়েকশ কামান, ইওরোপের জাদুঘরগুলিতে রাখা কিছু দামাস্কাস তরোয়াল, দক্ষিণী, মধ্যভারতীয়, পূর্বভারতীয় এবং উত্তরপূর্বের গারোপাহাড় অঞ্চলের লোহাকম কারিগরদের বিপুল দক্ষতার নিদর্শন পেশ করছে।
মুল পোস্টে Blunt Kommunity লিখেছিলেন
The making of an iron tool in West Africa, from building the kiln, smelting and forging the iron into tool to celebrating the successful project.
Soumen Nathদাদা সূত্রে ভিডিওটা জানা গেল  
https://www.facebook.com/biswendu.nanda/videos/10216319223244088/