Saturday, March 28, 2020

কোভিদ-১৯ - আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়া দধিচি পূর্বজদের জন্যে বেঁচে যেতে পারে?

এখনও নির্দিষ্ট করে বলার সময় সময় আসে নি। কিন্তু প্রাথমিকভাবে যে তথ্য পাচ্ছি, তাতে কতগুলো কথা মনে হয়েছে - বলার অনুমতি দিন।নিচের মানচিত্র দুটো লক্ষ্য করুণ প্রথমটিতে নীল দাগ দেওয়া অঞ্চলটা ম্যালেরিয়া প্রকোপিত এলাকা আর দ্বিতীয় হলুদ মার্কা অঞ্চলটা কোভিদ আক্রান্ত।
একটি মানচিত্র অন্য মানিচিত্রের সম্পূরক যেন মিরর ইমেজ। যেখানে ম্যালেরিয়ার ইতিহাস আছে সেখানে কোভিদের আগ্রাসন খুব নিস্তেজ।
অর্থাৎ উপনিবেশের হয়ে রেল, সড়ক রাস্তা তৈরি করতে গিয়ে যে কোটি কোটি আফ্রিকিয় দক্ষিণ এশিয় পশ্চিমিদের তৈরি করা ম্যালেরিয়া মারিতে প্রাণ দিয়েছিলেন, তাদের তৈরি করা দেহ সুরক্ষায় কী কোভিদ সংক্রমণ আটকাচ্ছে? সর্বোপরি কোভিদ সংক্রমণ রুখতে ম্যালেরিয়ার একমাত্র নিদান ক্লোরোকুইন জাতীয় ওষুধ, কাজ করছে।
অর্থাৎ আমরা কী ম্যালেরিয়ায় প্রাণ দেওয়া পূর্বজদের তৈরি করে দেওয়া ইমিউনিটির জন্যে খুব বেশি করোনায় আক্রান্ত হচ্ছি না?
☝🏻There might finally be an explanation for why India and Africa haven’t had much cases yet. Looks like all the malaria infected countries have herd immunity and hence fatality rates are lower. This is probably also the reason why chloroquine is working as a treatment.
Check out the world infliction maps above for Malaria and COVID - mirror image!!!!
---
প্রাথমিকভাবে এই তথ্য পেলাম উপনিবেশ বিরীধী আন্দোলনের সাথী Ayaonএর থেকে।

Friday, March 20, 2020

কেন্দ্রিয় চিকিৎসা জ্ঞানচর্চা বনাম সামাজিক চিকিৎসা জ্ঞানচর্চা

পার্থক্য মৌলিক - দর্শনটায় পার্থক্য আছে
দ্বিতীয়টা স্থানীয় ব্যবস্থা নির্ভর, স্থানীয় রোগভোগ, গাছগাছড়া ইত্যাদি নির্ভর, কোনও রকম কেন্দ্রিয় নিদান নির্ভর নয়। প্রথমটা মূলত বই নির্ভর, মূলত ব্যক্তি, গুরু নির্ভর, ভদ্রবিত্ত নির্ভর।
কেন্দ্রিভূত রাষ্ট্র ব্যবস্থা চালাতে গেলে কেন্দ্রিয় নিদান প্রয়োজন হয় - কারণ রাজা/পাদশাহকে প্রশাসন চালাতে হয়। তাই সে কেন্দ্রিয়ভাবে শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করে নানান ধরণের আমলা তৈরি করে, চিকিতসকও তৈরি করে রাজত্বে ছড়িয়ে দেয় যাতে তারা রাজার নির্দেশ মান্য করে। সেই জন্যে আয়ুর্বেদের আবির্ভাব। চরক, শুশ্রুত এবং বাঙালি ভগভট্ট বিভিন্ন পরম্পরার সমাজে যে সব চিকিৎসা জ্ঞান ছিল সেগুলো টুকলেন এবং তাদের জ্ঞান স্বীকার নাকরেই আয়ুর্বেদ লিখে ফেললেন।এটার চরিত্র আদতে সংহিতা - এডিটেড ভার্সান। সমাজে তৈরি হল কেন্দ্রিয় নিদানের বই - ইহা হইলে ইহা হইবে মার্কা - এখন যেমন বিপ্লবের নিদান বই হয় - কী করিতে হইবে। এই বই নকল করে রাজ্যজুড়ে নিদানাচার্যদের হাতে ধরিয়ে দিলেই ল্যাঠা চুকল, এলাকা এলাকা ভাগ করে রোগ রোগীর সমস্যা নিদান দিতে হল না, শুধু উপসর্গ বুঝে বই খুলে ওষুধ দেওয়া। আর সংস্কৃত ভাষায় লিখলে সাতখুন মাপ। সারা ভারতে ছড়াল। দেবভাষা বলে কথা।চিকিতসায় কেন্দ্রিয় আমলাতন্ত্র। ব্রাহ্মণ্যবাদের সঙ্গী অশোক হাসপাতাল তৈরি করলেন, আমরা আহাউহু করলাম। কেন্দ্রিভবন শুরু হল। মেধাভিত্তিক, শ্রেষ্ঠী এবং রাষ্ট্র ভিত্তিক বৌদ্ধ জ্ঞানচর্চা যাকে আপনারা এতদিন গণ ভেবেছেন, তা আদতে গণ ছিল না ছিল ভদ্র নির্ভর কাঠামো।
কিন্তু দেশিয় চিকিৎসা অঞ্চল নির্ভর। একটা নির্দিষ্ট অঞ্চলে আবহাওয়া কৃষি শিল্প উৎপাদন মানুষের কাজকর্ম জীবনযাত্রা ইত্যাদি নির্ভর করে নিদান দেওয়া হত। কোনও কেন্দ্রিয় নিদান ছিল না, কোনও নির্দিষ্ট গুরুঠাকুর ছিল না। সমাজ ছিল, সামাজিক নিদান ছিল, চিকিৎসকের কোনও নাম ছিল না। কেননা তার নাম কিনতে হত না, সমাজে থাকত, তার উচ্চাশা ছিল না জীবক বা ভগভট্ট বা সুশ্রুত হব রাজার পিঠ চাপড়ানি, হয় রাজসভায়, সেখানে যদি না কুলোয় তাহলে বিদেশে পোস্টিং পাব।

Thursday, March 19, 2020

মা যা ছিলেন যা হইয়াছেন

Arjundeb Sensarma লিখেছেন ইনি
দেবী শীতলা।নামান্তরে ইনিই হারিতী।ইনিই শিশুখাদিকা। হিন্দুকুশের পশ্চিমে ইনিই হারহুতি নামে সম্বোধিতা হতেন। হ স্থানে স আদেশ করলেই সরস্বতী,হারিতী,শীতলা যে এক বোঝা যাবে।যেকোনো ব্যাধিবিনাশনী দেবীই জলদেবী।
সঙ্গে Sanjay Ghoshদার মন্তব্য - পাকিস্তানের পাঞ্জাবে একসময় শীতলা মন্দির ছিল পূজা হত এখন তেমন হয় না পরিত্ত্যক্ত । ।ভারতের পাঞ্জাবে এখনো হয় ।সিন্ধু অঞ্চলের সাত নদী সাত দেবী ভগ্নী হিসেবে পূজিতা হতেন প্রাচীন সিন্ধু অঞ্চলে ।পাকিস্তান এর রাজধানী ইস্লামাবাদের মিউজিয়ামে একটি মহেঞ্জোদাড় থেকে পাওয়া সিলে সাত নারী দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।ওপরে এক মহিষ এর শিং মাথায় দেবতা সম্ভবত তাঁকে পুজা করা হচ্ছে ।বিস্তারিত যাচ্ছি না ।বেদে সাত নদী সাত ভগিনি বলা হয়েছে সিন্ধু সরস্বতী ইত্যাদি ।ভারতবর্ষের সিন্ধু পরবর্তী রাজস্থান গুজরাট,মহারাষ্ট্র,কর্নাটক গোয়া তামিলনাড়ু সমুদ্র তীরবর্তী রাজ্যগুলিতে উড়িশ্যা পশ্চিম বাংলা তারপর বিহার ঝাড়খন্ডে এই সুন্দর অবধি এই সাত দেবী পুজা পান।এঁদের মধ্যে বিবি মা ডায়রিয়া থেকে উদ্ধারেরত দেবী এঁদের একজনকে বলা হয় ঝেঁটুনে বিবি তিনি নিশ্চয় শীতলা

কৌম স্মৃতিতে কারিগরেরা

'মেদিনীপুরের আয়না-চিরন, বাঁকুড়ার ঐ ফিতা 
যতন করে বাঁধলি মাথা তাও যে বাঁকা সিঁথা 
পেছপারিয়া রাজকুমারী গলায় চন্দ্রহার 
দিনেদিনে বাইড়ছে তুমার চুলেরই বাহার'

সাত জার্মান, জগাই একা, তবুও জগাই লড়ে

পণ্ডিত গোপালাচারলুর কলেরা সারাবার টনিক

লন্ডনে কলেরা বিরোধী পোস্টার

পলাশীর আশেপাশের মারি

ব্রিটিশেরা কোনও দিন কলকাতাকে খুব একটা বাসযোগ্য বানায় নি। কোমপানি ডাক্তার হলওয়েলের বর্ণনায় পলাশীর বছরেই ভীষণ মড়কের উদাহরণ পাচ্ছি কলকাতায়। চিকিতসক এডওয়ার্ড আইভসের বর্ণনা পাচ্ছি হাসপাতালে কয়েক হাজার রোগী ভর্তি হওয়ার - হাসপাতালটি ছিল সেন্ট জর্জ চার্চের পাশে। সেই মড়কে সেখানেই পলাশীর এক ষড়ি চার্লস ওয়াটসন মারা যায়। সমাধি এখানেই দেওয়া হয় তাকে। ১৭৬২র কলেরায় ৫০০০০ বাঙালি মারা যায়। তার ৭ বছর পরেই হয় গণহত্যা।
সূত্রঃ - এডওয়ার্ড আইভস(আ ভয়েজ ফ্রম ইংলন্ড টু ইন্ডিয়া), হলওয়েলের পলাশীর পরেপরের লেখা বই, প্রতিবেদন, সায়ন উল্লিখিত রেজিনাল্ড অর্টনের এন এসে অন এপিডেমিক অব কলেরা ইন ইন্ডিয়া এবং সাম্প্রতিককালে মারী এবং শীতলা নিয়ে নিকোলাস রালফের গবেষণা, শ্রাবণী সেনের ইন্ডিয়ান কলেরা আ মিথ।

Tuesday, March 17, 2020

শুধুই আক্রমণে নালন্দার মৃত্যু ঘটে নি। রাজার নীতিও বদলে ছিল

দেড় মাইল লম্বা আধ মাইল চওড়া নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের কানিংহ্যামের তৈরি মানচিত্র - রাজা বা শ্রেষ্ঠী সাহায্য না করলে গণদানে এই কাঠামো চলতে পারে না। শুধু কেন্দ্রিয় মন্দিরে ছিল সাতটি প্রেক্ষাগৃহ এবং তিনশটি পাঠ গৃহ

তখন মহাবিদ্যালয় বলত

নালন্দার এই ছাপ্পাটাতে মহাবিদ্যালয় লেখা আছে - শ্রীনালন্দামহাবিদ্যালয়আর্যভিক্ষুসংঘস্য

১০৭৫এর নালন্দা মহাবিহারে পাওয়া 'ধরণীসমগ্র' পুথি।

ওপরের পাতায় প্রজ্ঞাপারমিতা এবং বুদ্ধের জীবন
নিচের পাতায় মৈত্রেয় এবং বুদ্ধের জীবনের নানান ছবি
তালপাতায় জল রঙ

শান্তি রক্ষিত

সপ্তম শতে তিব্বতের রাজা কিন-স্রোন-ৎসন-গাম্পোর সময় বৌদ্ধপন্থ তিব্বতে প্রবেশ ঘটে। তিনি উসামান্য উদ্যমে ভারতীয় বৌদ্ধ জ্ঞানীদের তিব্বতে তাঁর রাজ্যে নিয়ে এসে বৌদ্ধপন্থের অবিকৃত সংস্করণ তিব্বতিদের কাছে উপস্থিত করার কাজ শুরু করেন। এই কাজের সম্মানে স্বয়ং রাজা এবং তাঁর দুই স্ত্রী আজও তিব্বতীদের চোখে বোধিসত্ত্বরূপে পূজিত হন।
অষ্টম শতকে তিব্বতের সিংহাসনে আররেক রাজা আসীন হন। তাঁর নাম খ্রি-স্রোন-দেউ-ৎসান। তার জন্ম বছর ৭২৮ এবং পরিনির্বান লাভ করেন ৮৬৪তে। তিনি বৌদ্ধপন্থের অন্যতম প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন এবং তার রাজত্বে বৌদ্ধপন্থের মূল নীতিগুলি প্রচারের জন্যে ভারত থেকে বেশ কয়েকজন পণ্ডিতকে আহ্বান করে নিয়ে আসেন। তিনিই আচার্য শান্তি রক্ষিতকে তাঁর রাজ্যে আহ্বান করেন।
শান্তি রক্ষিতের জন্ম গোপালের রাজত্বে। গোপাল রাজত্ব করেন ৭০৫ খ্রি অবদি। যতদূর সম্ভব তিনি জাহোরের (বাংলায়?) রাজপরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিব্বতে পরিব্রাজনের পূর্বে তিনি নালন্দার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন অধ্যাপক হিসেবে। তাঁর অময়ে শান্তি রক্ষিত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তিনি স্বতন্ত্র মাধ্যমিক আঙ্গিকের প্রবক্তা। তিব্বতি রাজা খ্রি-স্রোন-দেউ-ৎসান, তার কর্মের পরিচয় পেয়ে তাঁকে রাজদরবারে আহ্বান জানান। যখন শান্তি রক্ষিত তিব্বতের কাছাকাছি পৌঁছন, রাজা তার মন্ত্রীদের সেনাবাহিনী সহকারে তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে পাঠান এবং স্বয়ং রাজা তাঁকে রাজ প্রাসাদে আমন্ত্রণ জানান।
তিব্বতে তাঁর প্রধান কাজ হয় বৌদ্ধপন্থের প্রচার ও প্রসার। তাঁর নির্দেশে ৭৪৯খ্রিতে রাজা তিব্বতের সান-ইয়ে নামক প্রথম বৌদ্ধ মঠটি তৈরি করান। এই মঠটি ওদন্তপুর বিহারের অনুকরণে তৈরি হয়। আচার্য শান্তি রক্ষিতকে নতুন বিহারের মঠাধ্যক্ষ রূপে মনোনীত হন। একাদিক্রমে তের বছর তিব্বতে বৌদ্ধপন্থ প্রচারের কাজ করে ৭৬২খ্রিতে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার কাজের শ্রদ্ধা হেতু তিনি তিব্বতে আচার্য বোধিসত্ত্ব নামে পরিচিত হন। তিব্বতিতে তাঁর নাম হল শি-ওয়া-হৎশো।
বাদ-ন্যায়-বৃত্তি-বিপঞ্চিতার্থ, যেটি ধর্ম কীর্তি রচিত বাদ-ন্যায়ের ওপর টিকা এবং তত্ত্ব-সংগ্রহ-কারিকা, এই দুটি বই তাঁর নামে উদ্ধার করা গিয়েছে।

প্রসঙ্গ করোনা

যারা করোনায় বিজ্ঞানের জয়, ধর্মের ক্ষয় বলে হেদিয়ে মরছেন তাদের জ্ঞাতার্থে জানানো যাক ওটা বিজ্ঞান নয়, প্রযুক্তি। আর এই বড় পুঁজি প্রণোদিত নব্য মারণ লুঠেরা প্রযুক্তি অবলম্বন করে কয়েকশ বছর ধরে পৃথিবী জুড়ে কয়েকশ কোটি মানুষ খুন করেছিল, দাস বানিয়েছিল ইওরোপ। আজও সেই খুনের পরিবেশের অবসান যে হয় নি তার প্রমান সিরিয়া, ইরাক, প্যালেস্টাইন, আফ্রিকা।
মাথায় রাখবেন করোনাও বড় পুঁজির গবেষণাগারে বিকশিত হয়েছিল।

নানন্দা ধ্বংসঃ নতুন বয়ান

জেমস মেসটনের সম্পাদনায় হাচিনসনস স্টোরি অব দ্য নেশন বইএর ১৬৮ পাতার বখতিয়ার খলজির নালন্দা ধ্বংসলীলার ছবি। সাম্রাজ্য এইভাবে আমাদের মাথায় নির্দিষ্ট ধারণা প্রবেশ করিয়ে দেয়।
অথচ এইচ জি রাবার্তির অনুবাদে যে মিনহাজইসিরাজএর তবাকতইনাসিরির সংস্করণ পাচ্ছি, সেখানে নির্দিষ্ট নালন্দা বিহারের উল্লেখ নেই, তিনি মুণ্ডিত মস্তক ব্রাহ্মণ খুণের কথা বলেছেন। যে সেনাপতি আফগানিস্তানের ঘোর অঞ্চল থেকে সেনা নায়ক হিসেবে কাজের খোঁজে গোটা উত্তর ভারত ঘুরে বেড়িয়েছেন, বিহারের মির্জাপুর জেলায় দুটো গ্রাম শাসনের জন্যে পাচ্ছেন তিনি বৌদ্ধ এবং ব্রাহ্মণের পার্থক্য বুঝবেন না, এটা বিশ্বাস্য? বখতিয়ার কোনও না কোনও বিহার ধ্বংস করেছিলেন। কিন্তু সেটা যে নালন্দা সে তথ্য কিন্তু বলা নেই।
Muhammad-i-Bakht-yar, by the force of his intrepidity, threw himself into the postern of the gateway of the place, and they captured the fortress, and acquired great booty. The greater number of the inhabitants of that place were Brahmans, and the whole of those Brahmans had their heads shaven; and they were all slain. There were a great number of books there; and, when all these books came under the observation of the Musalmans, they summoned a number of Hindus that they might give them information respecting the import of those books; but the whole of the Hindus had been killed. On becoming acquainted [with the contents of those books], it was found that the whole of that fortress and city was a college, and in the Hindui tongue, they call a college [مدرسه] Bihar.
আমি এখানে হার্টমুট স্কার্ফির(Hartmut Scharfe) এডুকেশন ইন এনসিয়েন্ট ইন্ডিয়ার ১৫০ পাতা আর তানসেন সেনের বুদ্ধিজম ডিপ্লোম্যাসি এন্ড ট্রেডএর ১০৭ পাতা নির্দিষ্ট ঘটনা উল্লেখ করব। তাঁদের সূত্রে পাচ্ছি এই কথিত আক্রমনের পরেও নালন্দা বেঁচেছিল। তানসেন সেন বলছেন, তিব্বতি ধর্মাঙ্কুর ধর্মস্বামী (১১৮৪-১২৬৪), রাহুলশ্রীভদ্রের অধীনে নালন্দায় পড়াশোনা করছিলেন, ১২৩৫ সালে। তিনি পূর্ব ভারতে বৌদ্ধ ধর্মের পতনম্নুখ অবস্থার কথা উল্লেখ করেছেন। বখতিয়ারের ঘটনাটা ঘটেছিল ১২০৫ সালে। এই ঘটনা তার মাত্র ৩০ বছর পরের। হার্টমুট বলছেন এখানে তিনি ধনবা ও গুণবা দুটি দীঘি দেখেছিলেন। নালন্দায় রাহুলশ্রীভদ্রের অধীনে তিব্বতি ধর্মাঙ্কুর ধর্মস্বামী বা Chag Chosrjedpal, 1194-1264, বৌদ্ধ দর্শন বিষয়ে পাঠ নিচ্ছেন। এর পরের ঘটনা ৫০ বছর পর। তানসেন সেন বলছেন, এর দুশ বছর পরের চৌদ্দশতে Tinabotuo দীনবতী বা ধ্যানভদ্র (মূলে আছে Chanxian তাহলে কি Dhyanabhadra?])র সম্মানে লেখা একটি একটি কোরিয় লেখ উল্লেখ করে তানসেন সেন বলছেন প্রখ্যাত ভিক্ষু Zhikong বা শূন্যদিশ্যকে ১২৫৪ সালে মোঙ্গল রাজধানী বেইজিং যাবার জন্যে শিক্ষিত এবং তৈরি করা হচ্ছিল নালন্দায়। তানসেন বলছেন, মগধের ধনবান শ্রেষ্ঠীদের এবং মুসলমান রাজার বন্ধু রাজা বুদ্ধসেনএর থেকেও আর্থিক সাহায্য পেত। [The teaching of Buddhist doctrines at Nalanda, in fact, lingered on even after the invasion of Islamic forces in the twelfth century. The Tibetan monk DharmaSvamin (Chag Chosrjedpal, 1194-1264) , for example, points out the declining state of the monastic institution in 1235. However, he was still able to spend several months studying Buddhist philosophy under the monk Rahulasribhadra at the Monastery. Moreover, according to a Korean inscription dedicated to the fourteenth-century Indian monk Tinabotuo (Dinavati; also known as Chanxian [Dhyanabhadra?] and Zhikong [Sunyadisya?] ), the Indian master was trained and ordained at Nalanda before he traveled to Beijing, the Mongol capital, in 1254. Nalanda seems to have continued to receive support in the thirteenth century from wealthy merchants and the Magadhan king Buddhasena, who had forged an alliance with the local Muslim rulers]

আমাদের নিজেদের ইতিহাস অদীক্ষিত মানুষদের দিয়েই লিখতে হবে

বখতিয়ারের হাতে মিনহাজের বয়ানে নালন্দা ধ্বংস বা না ধ্বংস নিয়ে বিস্তর কথা বলা যায়। সমস্যা হল, আধুনিক ইতিহাস ঔপনিবেশিক গালগল্পে আটকে আছে - ঠীক যেমন মুঘল আমল - শাহজাহান আওরঙ্গজেবের ধর্মান্ধতা ইত্যাদি। পরিকল্পিতভাবে ইসলামফোবিয়া তৈরি করা হয়েছে ব্রিটিশদের উদ্যমে।
তানসেন সেন চিন-ভারত বৌদ্ধ সম্পর্ক নিয়ে অসামান্য কাজ করেছেন, তিনিও বলেছেন বখতিয়ারের ধ্বংসের কথা। মিনহাজে কোথাও নালন্দা ধ্বংসের কথা উল্লেখ নেই সেটা তানসেন বলেন নি। তিনিও অন্যান্য ঐতিহাসিকের মত ধরে নিয়েছেন বখতিয়ারের গপ্পটি।তাঁর বলা দরকার ছিল হলেও হতে পারে, নাও হতে পারে, নিশ্চিত নই। যে জন্যে দেখুন তারপরের ৩৫ বছরে এবং ৫০ বছরে নালন্দায় নির্দিষ্টভাবে বিদেশে যাওয়ার জন্যে পাঠ নেওয়ার উল্লেখ পাচ্ছি। আর পাচ্ছি পূর্ব অঞ্চলে বৌদ্ধপন্থ এবং নালন্দার ঢালের দিকে যাওয়ার প্রবণতার কথা - অর্থাৎ বিপুল বিশাল সরকারি ফান্ডিং বন্ধ হওয়ার গপ্প।
আমাদের নিজেদের ইতিহাস অদীক্ষিত মানুষদের দিয়েই লিখতে হবে।