Tuesday, June 5, 2018

উপনিবেশ বিরোধী চর্চা - চেতনার চূড়ান্ত চক্কর

গতকাল এক ভদ্রলোক বললেন ইংরেজরা না এলে বাঙালি অচেতন থাকত। ছাপাখানাই চেতনা বিকাশের সূচক। বিনয় ঘোষ, চিন্মোহন সেহানবিশ ইত্যাদি অনুসরণে আজও বহু বাম মনে করেন মেকলেই আধুনিক আর ঠিক - কেউ কেউ প্রকাশ্যে বলতে পারেন না, কিন্তু ব্যাপারস্যাপার সেই দিকেই ইঙ্গিত দেয়। বড় পুঁজি, লুঠেরা প্রযুক্তি সর্বরোগহর। ইওরোপের থেকে বড় চেতনাজীবি আর দুটো জন্মায় নি।
গুরু Arupsankarদা বলেছেন মার্ক্সবাদী আর জ্যোতিষী প্রায় একই স্তরে বিরাজ করেন, কারণ উভয়েই ভবিষ্যৎ দেখতে পারেন আর জানেন যে বর্তমান কোন দিকে চলেছে।
---
যিনি ইওরোপিয় চেতনার কথা বলেছেন, তাঁর উত্তরে আমরা লিখলাম-
কোন চেতনা? কোন ইতিহাস? সে ইতিহাসের রচয়িতা সাম্রাজ্য আর উপনিবেশ? যে বলে দেয় অগ্রগতি কি, আর চেতনাই বা কি।
এই চেতনায় চিতিয়ে বাঙালি ইংরেজি শিক্ষিত শিক্ষিত দারোগা পলাশীর ৫ বছর পর ফকির সন্ন্যাসী থেকে সাঁওতাল যুদ্ধ, যতরকম সাম্রাজ্য বিরোধী লড়াই হয় সব কটা দমন করেন। একজনও নবজাগরণের অগ্রদূতেদের সেই লড়াই সমর্থনের পাশে পাওয়া যায় না তো বটেই, মৌখিক আহা উহু করতে দেখা যায় না।
শিক্ষিত দ্বারকানাথ তাঁর নিজের ব্যাঙ্ক ব্রিটিশ লুঠ করেছে দেখেও চুপচাপ ভর্তুকি দেন - প্রগতিশীল সাম্রাজ্য নবজাগরণের উত্তরসূরীদের ভিত তৈরি করছে এবং রাণীর সঙ্গে দেখা করাটা সম্মানের ব্যাপার বলে মনে করতেন। চোয়াড়, বাউড়ি, নীল, তিতুমীরের, সিপাহী যুদ্ধ, না কোন যুদ্ধতেই চেতনাধারীদের পাশে পাওয়া যায় নি - বরং সিপাহীদের বিরুদ্ধে লড়াইতে বিদ্যাসাগর বিদ্যালয়কে সেনা ছাউনি বানাতে সাহায্য করেন। ছিয়াত্তর আর উনপঞ্চাশ এবং তাঁর মাঝখানের হাজারো বাঙ্গালির গণহত্যা হল তখন সাম্রাজ্য আর চেতনার চাকরিজীবি ভদ্রলোক মিলে ছোটলোকেদের টিপে টিপে খুন করল আর ফুলে ফলে সেজে উঠল নুনের আফিমের বাণিজ্য চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আর উনপঞ্চাশে যুদ্ধের বখরা পেয়ে। চেতনার চূড়ান্ত চক্কর।
হায় কি চেতনা কর্পোরেট কোম্পানির বন্ধুদের - তারা বাংলার কারিগরদের বিদেশি বাজার প্রযুক্তি, জ্ঞান লুঠ ধ্বংস করল, বাংলায় বিশিল্পায়ন হল, বাংলায় লুঠের ছোট তরফের বাঙালি শিক্ষিত মেকলের তত্ত্ব জারিত ভাগিদারেরা বেন্থাম, মিল, কোঁত সাম্রাজ্যবাদী হেগেল(যিনি বলেছিলেন আফ্রিকিয়দের ইওরোপের মত হতে বহু সময় লাগবে) পড়া চেতনাবাজেরা ব্রিটিশ বিরোধিতা করেও লন্ডনে থিতু হন(রামবাগানের রমেশ দত্ত - এবং জগদীশচন্দ্র বাংলায় ফিরে আসতে চাইলে তাকে প্রাণপণে বাধা দেন)।
বাংলার বিকশিত শিক্ষা, উতপাদন ব্যবস্থা ধ্বংস করেন চেতনাবাজেরা, যাতে ইওরোপে শিল্পবিপ্লব বাংলার লুঠের অর্থে সম্পন্ন হতে পারে। তাদেরই উত্তরপুরুষ বাংলা ভাগ করে ক্ষমতায় আসে এবং গ্রাম ধ্বংসের সেই সাম্রাজ্যবাদী নীতি অনুসরণ করে।
তিনি যে চেতনা কথা বলছিলেন সেটা সাম্রাজ্যবাদী চেতনা। হ্যাঁ সেটা পেয়েছে ভদ্রবিত্ত। স্বীকার করছি।

No comments: