Tuesday, June 5, 2018

চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম দুটো বিষয়ে আলোচনা


১) পলাশীর পর ব্রিটিশ লুঠের সঙ্গী হয়ে নবকিসেন, কান্তবাবু, নন্দকুমার, দুলাল রায়, গঙ্গাগোবিন্দ সিঙ্গি, রেজা খাঁ ইত্যাদিদের উত্তরপুরুষের হাতে যে ছিটেফোঁটা বাড়তি সম্পদ এসেছিল তা লুঠে নেওয়া। যে সম্পদ বাঙ্গালির অব্রাহ্মণ ধনীদের হাতে ছিল, তা কাজে লাগল শিল্পবিপ্লবে, বাংলার শিল্পধ্বংসে। 
২) জমির ব্যক্তিমালিকানা দেওয়া আর নবাবেরা যে সব দেবোত্তর, পীরোত্তর, লাখেরাজ, ইত্যাদি(বাংলা জুড়ে প্রায় ১৭০০০ এরকম ব্যক্তি আর সংগঠনের বিপুল জমি ছিল) রাজস্ব আওতায় আনা।
উত্তরপাড়ার মুখোপাধ্যায়দের দিয়ে প্রচুর বেনামি জমি উদ্ধার করিয়েছে, সাম্রাজ্য, এটা আমার জানা - ভরতপুর লুঠে যে জমিদারি, তা নিলামমে উঠলেও ব্রিটিশ বদান্যে আবার বড় জমিদারি আর্জন। বাংলা জোড়া এরকম প্রচুর মুখোপাধ্যায় ছিলেন যারা ব্রিটিশদের হয়ে প্রচুর জমি রাজস্বের আওতায় এনে দিয়েছিলেন। ঐতিহাসিকেরা তাদের প্রগতিশীল বলতে বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করেন নি। সে প্রমান আমার হাতে আছে।
গুজরাটি আর পারসি উভয়েই ভদ্রবিত্ত বাঙ্গালিদের থেকেও বড় ব্রিটিশ দালালি করেছিল। পাশাপাশি তারা ব্যবসাটাও মন দিয়ে করেছিল ব্রিটিশদের সঙ্গে। গুজরাটিরা বস্ত্র শিল্প মরতে দেয় নি - বাংলা দাক্ষিণাত্যের মত। আফ্রিকার দুই উপকূলের সঙ্গে, মধ্য এশিয়ায় এই সেদিনও কাপড় ব্যবসা করেছে। আফ্রিকা গুজরাটিদের বড় ঘাঁটি। পার্সিরা ব্রিটিশদের সহায়তায় আফিম ব্যবসা করেছিল চিনের সঙ্গে। সেই অর্থেই মুম্বাইএর জন্ম। অমর ফারুখির ওপিয়াম সিটি পড়ে নিতে পারেন। 
কিন্তু ভদ্রবিত্ত বাঙালি করল চাকরি, চাকরি আর চাকরি - আদতে দালালি আএ সাম্রাজ্যকে লুঠতে সাহায্য করা। 
ব্যবসা আজও করে বাংলার ছোটলোক।
চিরস্থায়ীর বড় উদ্দেশ্য ছিল এতদিনে বাংলার রাজনীতিতে ব্রাত্য উচ্চবর্ণকে সরাসরি দালাল, চাকরিজীবি বানানো - সাম্রাজ্য সরাসরি যা করতে পারে না সেগুলি এই দালালদের দিয়ে করানো।
এর ৪০ বছর পর মেকলের আবির্ভাব আর উচ্চবিত্তের মন জয়।
সে উদ্দেশ্য আজও অসাধারণভাবে সফল।

No comments: