Tuesday, December 20, 2016

বাংলা যখন বিশ্ব সেরা২৪ - লাইফ অব মীর জুমলা, জেনারেল অব আওরঙ্গজেব

জগদীশ নারায়ণ সরকার

৫। মীর জুমলার কর্ণাটক দখলে ধর্মীয় প্রভাব
কুতুব শাহ মীর জুমলাকে একটি চিঠিতে লিখলেন, ‘হিন্দু কর্ণাটক অঞ্চলের গ্রাম থেকে দূর্গ পর্বত আমার শাসনাধীন। মুসলমান ধর্মের প্রচার সেখানে শুরু হয়েছে। ধর্মাচারের জন্য মন্দির, মূর্তি ইত্যাদি সব ইসলামি রীতি অনুযায়ী পাল্টানো আর বিশ্বাসীদের ধর্মাচারণের সুযোগ দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। একটি শহরের অধীনে তিনিটি কুইট(?) গ্রাম শারিয়িতি আইনের অধীনে আনা এবং নজফের অধিবাসীদের বাসের জন্য আলাদা করে রাখা হয়েছে। এই এলাকাটি যেহেতু মীর জুমলার উদ্যোগে অধিকৃত হয়েছে তাই তাঁর এবং তাঁর পরিবারের অধীনে অঞ্চলের গ্রামগুলির অসীম সময়ের জন্য মোতোয়ালি দেওয়া হল। এই অঞ্চলের মোট রোজগার নজফে পাঠাতে হবে। আমার উত্তরাধিকারীদের নির্দেশ দিয়ে যাচ্ছি এই নির্দেশের কোন ব্যত্যয় যেন না হয়’।

কর্ণাটকের বিজয়ের পরে মীর জুমলা পারস্যের উজির নবাব খলিফাইসুলতানকে লিখলেন, ‘সর্বশক্তিমানের সদিচ্ছায় এবং পাদসাহীর ভাগ্যক্রমে এই অবিশ্বাসীদের দেশ কর্ণাটকে ইসলামের পতাকা উড্ডীন হয়েছে এবং হিন্দুস্তানও একদিন পদানত হবে... ইসলামের বাণী এবং সুফিদের কাজকর্ম এখানে প্রতিভাত হচ্ছে।’ ধর্মীয় স্থান মন্দির থেকে মসজিদে রূপান্তরিত করার একটা উদাহরণ দেওয়া যাক, ১৬৫৩ সালে হাবিলদার রুস্তম বেগ, পুনামাল্লি দূর্গের মাথার মন্দিরটির ওপরের অংশটি ভেঙ্গে ফেলে মসজিদে রূপান্তরিত করে।

মীর জুমলা মন্দিরগুলি লুণ্ঠন করে তাঁর মূর্তি, সোনাদানা, রূপা, তামা ইত্যাদি সংগ্রহ করে কামান বানানোর কাজে লাগিয়ে দেন।

অন্যদিকে লিপিসূত্রে(এপিগ্রাফিক) জানা যাচ্ছে, হিন্দুরা ভগবান এবং পুরোহিতকে কিন্তু তাঁর পরেও দান দিতে থাকেন। তেলুগুতে পাথরলেখতে জানা যাচ্ছে ১৫৭২ শকে/১৬৫০ সালে গ্রামের বৈশ্য, নাগর এবং গ্রামের অন্যান্য জাতিরা ভগবান গোপালস্বামী এবং হনুমন্তরায়া আর পুরোহিত গোপালভট্টকে নানান দান দিয়ে গিয়েছেন।

৬। মীর জুমলার অবস্থা দৃঢ হল
পক্ষপাতহীন লেখক বিশেষ করে বিদেশি বণিকেরা মীর জুমলার ক্ষমতা আর তাঁর সম্পদের ভার দেখে অবাক হয়ে গিয়েছেন। ওল্টার লিটন এবং ভেঙ্কট ব্রাহ্মণকে ব্রিটিশেরা তাদের স্বার্থ দেখতে নবাবের কাছে পাঠিয়েছিল(জানু ১৬৫১)। তারা লিখছেন, ‘সমগ্র গোলকুণ্ডা রাজ্যটা তিনিই শাসন করেন। রাজার সামনে যেমন করে ভয়ে মানুষ উঠে দাঁড়ায়, সেই ঘটনাটি ঘটত ঠিক তাঁর রাজ্যতেও।’ ১৬৫৪ সালে এমনকি আওরঙ্গজেবও সম্রাটকে লিখলেন, ‘মীর জুমলা দূর্গ, বন্দর এবং খনি সমৃদ্ধ মাঝারি গোছের জনবহুল রাজ্যের নিয়ন্ত্রক। তাঁর ব্যবহার আরামদায়ক এবং সুন্দর, তিনি জ্ঞানী এবং সুন্দর মুখাবয়বযুক্ত, ইঙ্গিতেই বুঝতে পেরে যাওয়ার ক্ষমতাযুক্ত। তাঁর মত দক্ষ মানুষের নিয়ন্ত্রণে বহু উপযুক্ত কর্মচারী রয়েছে। ছোট করে বললে, যদিও মীর জুমলার অবস্থানটা অনেকটা অভিজাতদের স্তরেই, কিন্তু ক্ষমতা, সম্পদ এবং প্রাচুর্যে তিনি যে কোন শাহজাদার সমতুল’। হায়দ্রাবাদে মুঘল অভিযানে মীর জুমলার বিদ্রোহ, এবং মুঘল প্রধান রূপে তাঁর প্রতিষ্ঠা ঘটেছিল কর্ণাটক দখলের পরবর্তী ঘটনাবলী রূপেই।

(চলবে)
Post a Comment