Friday, June 28, 2013

আলালের ঘরের বালখিল্যরা২ - কোম্পানির লাটগিরি, পরের ধনে পোদ্দারি

ধুলিমুঠি টাকা হস্তমুঠি জীবন
যুবকেরা যখন ইংরেজদের দালালি আর আলালি করে কলকাতায় রিফর্ম আন্দোলনের ঝড় তুলছেন তখন শহর কলকাতার অবস্থা বুঝে নেওয়া যাক! ১৮৩০এ প্রকাশিত ইন্ডিয়া ক্রাইজ টু ব্রিটিশ হিউম্যানিটি- রিলেটিভ টু সতী, ইনফ্যান্টিসাইড, ব্রিটিশ কানেকশন উইথ আইডলট্রি, ঘাট মার্ডারার্স এন্ড স্লেভারি ইন ইন্ডিয়া পুস্তকে জেমস পেগ বলছেন লটারি কমিটির কথা ...in Calcutta we have the Lottery Committee making a gradual progress in improving the the centre of the town বিনয় ঘোষ বলছেন, লটারি কমিটির(১৮১৭-২১) উদ্যোগে কলকাতার সঙ্গে পুজ্য ভাগিরথীর পূর্বতীর নতুন করে সেজে উঠছে রায়তদের ঘাম ঝরানো শ্রমলুঠ সম্পদে কলকাতার জলা, পুকুর বুজিয়ে গড়ে তোলার পরিকল্পনা হল সাম্রাজ্যের দ্বিতীয় দেখনদারি শহর কলকাতার মুখ
৮ই ডিসেম্বর ১৭৮৫ খ্রীষ্টাব্দের বিজ্ঞাপনে বিলাতের চার ঘোড়ার গাড়ী মায় সাজ যাহার মূল্য ছয় হাজার টাকা হইবে উহা ত্রিশ খানি দুই শত টাকার টিকিটে লটারি করিবার কথা দেখিতে পাওয়া যায় সেকালে কলিকাতার উন্নতি সৌভাগ্য ও বাবুগিরি লটারির টিকিটে হইত সেজন্য কলিকাতায় দপ্তর ও শভাদি ছিল আবার ২২৩ পৃষ্ঠায় বলছেন উহাতে (লটারিতে - লেখক) কলিকাতার টেরিটি বাজার ওয়েস্টন সাহেব লাভ করেন উহাতে তিনি দাতা হন এবং প্রতি মাসে চুঁচুড়ার বাড়িতে দীন দরিদ্রকে একশত মোহর দান করিতেন টেরিটি সাহেব সেকালের পথ, বাড়ী ও ঘরাদি নির্মাণ মেরামত আদি করিয়া ঐ বাজারের মালিক হন তিনি উহা বিক্রি করিয়া ১৯৬০০০ টাকা অর্থ লাভ করেন... ১৮০৩ খৃষ্টাব্দে ওয়ালেসলির শাসনকালে টাউন উন্নতিকারক সভায় ঐ লটারির টিকিট বিক্রি করিত  ১৮০৫ খৃষ্টাব্দে লটারির দ্বারা কলিকাতায় টাউন হল নির্মিত হইয়াছিল ঐ নির্মাণ কার্য ১৮১৩ খৃষ্টাব্দে শেষ হয় ১৮১৭ খৃষ্টব্দে লটারির টিকিট বিক্রির হিসাবে দেখা যায় যে, ১৭ লক্ষ টাকা ব্যয় করিয়া ৪||০ লক্ষ টাকা উদ্বৃত্ত থাকে ঐটাকায় কলিকাতায় ইলিয়াট রোড, ওয়েলিংটল স্ট্রীট, বেন্টিঙ্ক স্ট্রিট, আর্মহার্স্ট রোড, কলেজ স্ট্রীট, কলেজ স্কোয়ার ও মীর্জাপুর স্ট্রিট আদি অনেক রাস্তা হয় খ্যাতনামা চিত্রকর ডানিয়াল পাশ্চাত্য চিত্রকরের চিত্রগুলির লটারির দ্বারা বিক্রয় করা হইত ... কলিকাতার ধনীরা ঐ সকল লটারির  টিকিট কিনিতেন ও সেই সকল টিকিট বাজারি খরিদ ও বিক্রয় হইত (রায়বাহাদুর প্রমথনাথ মল্লিক, কলিকাতার কথার ২ খন্ড, ৫১ পাতা)
চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে গ্রামে জমির বাজার তৈরি হয়েছে কলকাতায় সেই বাজারের ছোঁয়া লাগল লটারি কমিটির উদ্যোগে গ্রাম থেকে উদ্বৃত্তের মাঠা তুলে এনে কলকাতার নব্যধনীবাবুদের জমির ফাটকায় আঙুল ফুলে কলাগাছপ্রায় মতিলাল শীল জমির ফাটকাবাজি করে মাসে ৩০,০০০টাকারও বেশি অর্থ উপার্জন করেছেন লটারি কমিটির উদ্যমে কলকাতা শহরে মানুষ আর জমির মূল্য ক্রমেই ব্যস্তানুপাতে ক্রমপ্রতিস্থাপিত হতে লাগল ধুলিমুঠি টাকা হস্তমুঠি জীবন পতিত জমি যেখানে বিঘেতেও বিক্রি হতনা, সেখানে কাঠার দর আনা-পাইথেকে বেড়ে শয়ে-হাজার ছুঁতে চাইল গ্রামের পর গ্রাম, হাজার হাজার মানুষ উচ্ছেদ করে সিমলে থেকে চৌরঙ্গী পর্যন্ত জমি কোম্পানি সরকার গড়ে ১০০ থেকে ১৫০টাকা দরে কিনছে জমির নব্যমালিক আর দালালেরা প্রচুর উদ্বৃত্ত অর্থ পেয়ে নব্যধনী হচ্ছেন
উন্নয়ণের পর ১০০ টাকার জমি ২০০ টাকায় বিক্রিতে কমিটির ১০০ শতাংশ মুনাফা থাকত চৌরঙ্গী থেকে চক্রবেড়িয়া পর্যন্ত জমিদারি ইংরেজদের হাতেই ছিল ক্যামাক সাহেবের সঙ্গে দরাদরি করে ১৮২০তে ২৫০ বিঘা জমি ১০০০ টাকা করে কেনার প্রস্তাব ওঠে পরিকল্পনা, ইওরোপিয়দের বসতি অঞ্চল সম্প্রসারণ লটারি কমিটির উদ্যোগে চাঁদপাল ঘাট থেকে বেলেঘাটা(তত্কালীন নাম বালিয়াঘাটা) পর্যন্ত ক্রিক রো (তত্কালীন নাম ডিঙাভাঙা) বুজিয়ে ৯ আগস্ট ১৮২১এ ওয়েলিংটন স্কয়ারকে ধর্মতলার নতুন পার্ক নাম দেওয়া হচ্ছে সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে সেই উন্নত জমি লটারি কমিটি আবার বিক্রি করছে প্রায় দ্বিগুণের বেশি দামে একই জমি বারবার হাত ফেরতা হয়ে বিনা আবাদে সোনা ফলাচ্ছে
লটারি কমিটির রিপোর্ট থেকে কলকাতার বিভিন্ন এলাকার জমির মূল্যের তালিকা-
হেস্টিংস স্ট্রিট, ম্যাঙ্গো লেন(ডাউন টাউন অঞ্চল) ১০০০, ১২০০, ১৫০০ টাকা,
ট্যাঙ্ক স্কয়ার,                        ৬০০ টাকা,
ব্যাঙ্কশাল                           ৮০০ টাকা,
ধর্মতলা                             ৩০০ টাকা,
জানবাজার                         ২৫০ টাকা,  
বৌবাজার                           ২০০ টাকা,
ফ্রি স্কুল স্ট্রিট                       ২০০ টাকা,
সিমলা                              ১৫০ টাকা,
মির্জাপুর                            ১৫০ টাকা,
এন্টালি                              ১২৫ টাকা,
ক্যামাক স্ট্রিট                      ৫০ টাকা

দেশিয় জ্ঞাণচর্চায় উন্নাসিকতা
ইওরোপিয় জ্ঞাণই তখন একমাত্র বিশ্বজ্ঞাণ দেশিয় জ্ঞাণ-বিদ্যাচর্চাকে তাচ্ছিল্য করতেন পাশ্চাত্যমতের শিক্ষিতরা ইংরেজিয়ানার সঙ্গে ইওরোপিয় জ্ঞাণচর্চার অনুগামী সকলে পাঁচটাকা দরে ইংরেজি শিখে অর্জন করা সেই জ্ঞাণের বিচ্ছুরণে কলকাতা সমাজ তখন বেতর এই দেখনদারিতে ধোঁয়া দিচ্ছেন সাগরপারের সাহেব পাদ্রি ডাফ, হেব্বাররা ইওরোপ, আমেরিকার বুদ্ধিজীবিদের লেখা মুখস্থ করে বাংলা-বিহারের একলাখ দেশি পাঠশালার শিক্ষাব্যবস্থা ধংসের উদ্যোগী হয়ে উঠছেন তত্কালীন ইয়ংবেঙ্গলএর মাথারা দূরে গভর্নর হাউস, ফোর্ট উইলিয়ম আর রাইটার্সদের প্রশাসনিক ভবন থেকে সকৌতুকে ভারতীয়দের প্রাণপন ইওরোপিয় হয়ে ওঠার এই প্রচেষ্টা দেখছেন সাম্রাজ্যবাদী বিদ্বান আর প্রশাসকমহল এই খেলার শর্ত তৈরি করেছেন তারাই বিনয় ঘোষ মশাই বিদ্যাসাগর ও বাঙালি সমাজ গ্রন্থে, ছাত্রজীবনের সমাজচিত্র অধ্যায়ে ভূদেব মুখোপাধ্যায়ের একটি দীর্ঘ ভাবনার খোরাক জোগানোর এক অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন ভূদেব মুখোপাধ্যায় সংস্কৃত কালেজের ছাত্র চৌদ্দবছর বয়সে ভর্তি হন ভূদেব মুখোপাধ্যায়ের সহধ্যায়ী ছিলেন কবি মধুসূদন
ভূদেব লিখছেন, রামচন্দ্র  মিত্র নামক জনৈক শিক্ষক আমাদিগকে পড়াইতেন যেদিন আমি প্রথম ভর্তি হইলাম, সেই দিন রামচন্দ্রবাবু পৃথিবীর গোলত্বের বিষয় আমাদিগকে বুঝাইয়া দেন ইংরেজিওয়ালা মাত্রেই বিশেষতঃ ইংরাজী শিক্ষকেরা, ব্রাহ্মণ পন্ডিত ও স্বদেশী শাস্ত্রের প্রতি শ্লেষ বাক্য প্রয়োগ করিতে বড়ই ভালবাসেন আমার পিতা যে একজন ব্রাহ্মণ পন্ডিত ছিলেন রামচন্দ্রবাবু তাহা জনিতেন এবং সেই কারনেই পড়াইতে পড়াইতে আমারদিকে চাহিয়া বলিলেন, পৃথিবীর আকার কমলা লেবুরমত গেল, কিন্তু ভূদেব, তোমার বাবা একথা স্বীকার করিবেন না আমি কোন কথা কহিলাম না, চুপ করিয়া রহিলাম ছুটির পর বাড়ি আসিলাম কাপড়চোপড় ছাড়িতে দেরি সহিলনা, একেবারে বাবার কাছে আসিয়া জিজ্ঞেস করিলাম বাবা, পৃথিবীর আকার কীরকম! তিনি বলিলেন,  কেন বাবা, পৃথিবীর আকার গোল  এই কথা বলিয়া আমাকে একটি পুঁথি দেখাইয়া দিলেন, বলিলেন, ঐ গেলাধ্যায় পুঁথিখানির অমুক স্থানটি দেখ দেখি  আমি সেই স্থানটি বাহির করিয়া দেখিলাম তথায় লেখা রহিয়াছে, করতল কলিতামনলকবদমলং বিদন্তি যে গোলং রচনাটি পাঠ করিয়া মনে একটু বলের সঞ্চার হইল একখানি কাগজে ঐটি টুকিয়া লইলাম পরেরদিন স্কুলে আসিয়া রামচন্দ্রবাবুকে বলিলাম, আপনি বলিয়াছিলেন আমার বাবা পৃথিবীর গোলত্ব স্বীকার করিবেন না কেন, বাবা ত পৃথিবী গেলই বলিয়াছেন, এই দেখুন তিনি বরং এই শ্লোকটি আমাকে পুঁথির মধ্যে দেখাইয়া দিয়াছেন রামচন্দ্রবাবু সমস্ত দেখিয়া ও শুনিয়া বলিলেন, কথাটা বলায় আমার একটু দোষ হইয়াছিল, তা তোমার বাবা বলিবেন বৈ কি তবে অনেক ব্রাহ্মণ পন্ডিত এ বিষয়ে অনভিজ্ঞ(নজরটান মূলের)
শুধু শিক্ষক রামচন্দ্র মিত্রই নয়, তত্কালীন কলকাতার ইংরেজি শিক্ষিতদের মধ্যে দেশিয় প্রযুক্তি আর দেশিয় জ্ঞাণ নিয়ে আলোচনার মূল টানটিই ছিল তাচ্ছিল্যের বিভিন্ন সাময়িকপত্রে এর উদাহরণ ভূরিভূরি ইংরেজদের সঙ্গে গা ঘসাঘসি করা মানুষরা জ্ঞাণবহনকরে চলা ব্রাহ্মণদের অবজ্ঞা করতেন গ্রামীণ বিদ্রোহ দমনে প্রশাসন ল্যাজে-গোবরে সতর্ক সাম্রাজ্য, ইংরেজি শিক্ষিত বাঙালিদের ভাববার এজেন্ডা তৈরি করে দিচ্ছে সেই এজেন্ডা ধরেই সমাজ ভাঙার প্রত্যশিত কাজ করে চলছিলেন আলালি বিদ্বানেরা কলকাতার হালচাল তাঁদের তৈরি করে দেওয়া চিত্রনাট্য অনুযায়ী এগোচ্ছে, বুঝতে ভুলকরেনি সাম্রাজ্য

জ্ঞাণচুরি
ষোড়শ এবং সপ্তদশ শতকে ডাচ, পর্তুগিজ, ফরাসি এবং সবশেষে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতজুড়ে কুঠি স্থাপন করে ভারত দখলের চেষ্টা করছিল খ্রিস্টিয় ধর্মজাজকেরা ভারতীয় সভ্যতার রীতিনীতি, বিজ্ঞাণ, দর্শণ আর ধর্মসহ নানান দিক বুঝে, সেই দিকগুলি চুরি করার(না বলে নথি করাকেও চুরি বলে) কাজ করছিলেন ভারতের পারমার্থিক সম্পদের চুরি চাপা দিতে প্রথম টার্গেট হল ব্রাহ্মণেরা গ্রাম বাঙলায় অর্বাচীণ কালের আগে শুধু ব্রাহ্মণদেরই রমরমা ছিল না। নানান কাজে নানান ধরণের মানুষের আবদান আমরা ভুলেযাই শুধুই ক্ষমতা কেন্দ্রে বসে বিদ্যাচর্চা আর গবেষণার চশমা পরে। বিজয়গুপ্ত, বংশীদাস, নারায়ণ দেব, ক্ষেমানন্দ, কবিকঙ্কণ, মাধবাচার্য, জয় নারায়ণ, নাথ কাব্যের কবিরা, চর্যাপদের কবিরা, গাথা কাব্যের গাথাকারেদের থেকে এই প্রমাণ পাওয়া যায়। শুধুই ব্রাহ্মণেরাই নয়, অন্য জাতের মানুষেরা শিক্ষকতার কাজ করে সমাজের জ্ঞাণ ভাণ্ডার রক্ষা আর প্রসারের কাজ করতেন সেই উদাহরণ ছড়িয়ে রয়েছে ১৮১৮র ওয়ার্ড আর ১৮৩৬এর উইলিয়ম এডামের তিন দফার শিক্ষা সমীক্ষায়। বদল শুরু হল ভারতচন্দ্রের সময় থেকে। ক্রমশঃ পল্লীসাহিত্য চলেযেতে শুরু করল শহরের আঙিনার বাইরে। শহুরে আর গ্রামীণ সাহিত্যের বেড়া টানা হতে শুরু করল। পরিশিলীত বনাম অশ্লীলের দ্বন্দ্বে পল্লীসাহিত্যকে লৌকিক এই তকমা পরিয়েদেওয়া হল। জ্ঞাণ আর সাহিত্য চর্চা হয়েগেল ইংরেজি শিক্ষিত শহুরে উচ্চবর্ণীয় মানুষদের খোরাক  
ব্রাহ্মণ আর পুরোহিতের পার্থক্য মুছে ফেলাহল ক্রমশঃ ইংরেজি শিক্ষার প্রভাবে, মধ্যবিত্তের সক্রিয় উদ্যমে দেশজ বিদ্যালয়গুলো উঠে যেতে শুরু করল দেশি বিদ্যাচর্চার আঙিনাও মলিন হয়ে পড়ল ইয়ং বেঙ্গলদের সময়ে এই মিথ্যে আরও গতি পেলে জ্ঞাণ চুরি আর জ্ঞাণ বিস্তারের পরিকাঠামো ভাঙাও সহজ হয়ে গেল এই মিথ্যে জোরালো হয়েছে শহুরে বাঙালির চালকলা বাঁধা বামুন শব্দবন্ধে এশিয়ার চুরি করা জ্ঞাণ, লুঠ হওয়া বাণিজ্য আর ধংস করেদেওয়া উত্পাদন পরিকাঠামোর বলে ইওরোপ তার ফুটোফাটা প্রযুক্তি সারিয়ে শিল্পবিপ্লবের পথ পরিস্কার করল
মধ্য অষ্টাদশ শতক পর্যন্ত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে রাজনীতি, আইন, দর্শণ, বিজ্ঞাণসহ নানান স্তরের জড়ো করা বিশাল পরিমান নথিকৃত তথ্য ইওরোপে নানান ভাষায় অনুদিত হতে থাকে ভলতেয়র, এবে রেনেল, জাঁ বেইলিরাও এই তথ্যগুলি নিয়ে নাড়াচাড়া করতে থাকেন অপরিসীম উত্সাহে(ধরমপালজী দ্য বিউটুফুল ট্রি বইতে বলছেন, For instance according to her doctoral thesis presented in April 1980 at the Sorbonne, Paris, Gita Dharampal: Etude sur le role des missionaries europeens dans la formation premiers des idees sur l’Inde, an early eighteenth century manuscript still has several copies extant The manuscript is titled Traite de la Religion des Malabars, and its first copy was completed in 1709 by Tessier de Queraly, procurator of the Paris Foreign Mission in Pondicherry from 1699 to 1720, nominated Apostolic Vicar of Siam in 1727 Copies of this Ms are to be found in the following archives: Paris (Bibliotheque Nationale 3 copies, Bibliotheque de L’Arsenal 1 copy, Bibliotheque Ste Genevieve 1 copy, Archives Nationales 1 copy); Chartres (Bibliotheque Municipale 1 copy, formerly belonging to the Governor Benoit Dumas), London (India Office Libr 2 copies in Col Mackenzie’s and John Leyden’s collections respectively); Rome 1 copy (Biblioteca Casanatesa, containing Vatican collection) Published as La Religion Des Malabars, Immense, 1982)
ইংলন্ডে এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডাম ফার্গুসন, আধুনিক সমাজতত্বের উদ্গাতা তাঁর সঙ্গে উইলিয়ম রবার্টসন অথবা অংকবিদ জন প্লেফেয়ার নথিকরণকরা তথ্যগুলি নিয়ে নাড়াচাড়া করতে শুরু করেন ১৭৭৫এ বাঙলার সাময়িক গভর্নর জেনারেল হয়ে আসেন জন ম্যকফারসন(১৭৮৪-৮৫) এডাম ফার্গুসন, ভারত প্রধাণ জন ম্যকফারসনের ভূতপূর্ব শিক্ষক ফার্গুসন তাকে নির্দেশ দিলেন, ‘to collect the fullest details you can of every circumstance relating to the state and operation of policy in India...That you may the better apprehend what I mean by the detail...select some town and its district. Procure if possible an account of its extent and number of people. The different classes of that people, the occupations, the resources, the way of life of each. How they are related and their mutual dependencies. What contributions Government, or subordinate masters draw from the labourer of any denomination and how it is drawn. But I beg pardon for saying so much of an object which you must know so much better than I do. The man who can bring light from India (i.e. of its material resources, etc.) into this country and who has address to make his light be followed may in a few years hence make himself of great consequence and here I shall conclude my letter...
অন্যদিকে এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়েরই এ ম্যকানচি প্রথমে ১৭৮৩ পরে আবার পরে ১৭৮৮তে বলছেন, ‘our monarch, the sovereign of the banks of the Ganges...as may be necessary for discovering, collecting and translating whatever is extent of the ancient works of the Hindoos. তিনি বিশ্বাস করতেন যদি ব্রিটিশেরা ‘procured these works to Europe, astronomy and antiquities, and the sciences connected with them would be advanced in a still great proportion তিনি আরও মনে করতেন, ‘the antiquities of the religion and Government of the Hindoos are not less interesting than those of their sciences’; তার বিশ্বাস ছিল ‘the history, the poems, the traditions, the very fables of the Hindoos might therefore throw light upon the history of the ancient world and in particular upon the institutions of that celebrated people from whom Moses received his learning and Greece her religion and her arts. তখনও বেনারসে জোতির্বিদ্যা পাঠদান হত এবং সেটিও নকল করার ফর্মায়েস পাঠানো হল আমরা যেন মনেরাখি, সমুদ্র যাত্রায় বেরিয়ে, ভারত খুঁজতে ততদিনে আমেরিকা আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ আবিষ্কার করে বসে আছে পশ্চিম।
ভারতে যারা শাসন ব্যবস্থায় ছিলেন তাঁদের উদ্যোগে নানান বিদ্যা, শাস্ত্র অনুবাদ শুরু হল আজও ইংরেজিজানা ভারত বিশ্বাসকরে এ সবই ভারতের উন্নতির জন্য ব্রিটিশদের অবদান কিন্তু ...জানহ সন্ধান এডাম ফার্গুসনের হাত ধরে দেশিয় পণ্ডিতদের নিয়ে হিন্দু মুসলমান আইন, রাজস্ব ব্যবস্থা, উত্তরাধিকার ব্যবস্থাপত্রেরমত হাজারো জ্ঞাণ পার্সি আর সংস্কৃত থেকে অনুবাদ হওয়া শুরু হয় পাদরিরা ভারতীয়দের খ্রিস্টধর্মের গুণগান শোনাতে আর হিদেনদের স্বার্গীয় আলো দেখাতে, ভারতের ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় প্রচার পুস্তিকা তৈরি করে ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ভারতীয় ভাষায় ব্যকরণ প্রণয়ন করারও প্রয়োজন হয়ে পড়ল উইলিয়ম উইলবারফোর্সএর ভাষায়, দেশি ভাষায় স্বর্গীয় পুস্তক রচনা করা যার ফলে পশ্চিমি ভাবুকরা বিশ্বাস করছেন, সে দিন সুদূর নয়, ভারতীয়রা would, in short become Christians, if I may so express myself, without knowing it যেমন করে সব ধর্মকে প্রায় উপড়ে ফেলে, আফ্রিকা এবং আমেরিকায় খৃস্ট ধর্মকে গেঁথে দেওয়া গিয়েছে।
Post a Comment