Monday, June 24, 2013

চরক সংহিতা অবলম্বনে শিশু পরিচর্যা

চরক সংহিতায়, ভিষগ তাত্বিক চরক, শিশু পরিচর্যার বিশদ বর্ণনা রয়েছে। 

তিনি বলছেন শিশু পরিচর্যাগার তৈরি করতে হবে এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের নিযুক্ত করেই। এটির নির্মাণ অবশ্যই সুন্দর, কার্যকরী, শক্তপোক্ত হতে হবে। দেখতে হবে হাওয়া যেন একদিক থেকে গৃহে প্রবেশ করে। এটির নির্মাণ এমনভাবে করতে হবে, যাতে, এই গৃহ যে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবিলা করতে পারে। যায়গাটি হবে এমনই যেন পোকামকড় হীন, এলাকার আশেপাশে  হিংস্র জন্তু শূন্য হয়, ইঁদুর বা পতঙ্গ জাতীয় কিছু না থাকে। যে এলাকায় এটি তৈরি হচ্ছে, সেখানে যেন প্রচুর পরিমাণ জলএর সংরক্ষণ আর সরবরাহের ব্যবস্থা থাকে। রান্নাঘর সুন্দর, প্রশস্ত হয়। পরিচর্যা গৃহের সঙ্গে একটি অবশ্য প্রসারতাযুক্ত প্রসাধন কক্ষ থাকতে হবে। গৃহটি অবশ্যই এমনভাবে তৈরি হবে যেন সব ঋতুতে বাসযোগ্য হয়। প্রত্যেক ঋতুর জন্য প্রশস্ত বিছানা, বিছানা ঢাকা, উপাধান এবং তার সঙ্গে বসার জায়গাও থাকা প্রয়োজন। এছাড়াও বিভিন্ন অপদেবতা যাতে সেই স্থানে কুনজর দিতে না পারে, তার জন্য যজ্ঞ করা প্রয়োজন। বাড়িটিতে উপযুক্ত পারিবারিক চিকিতসকের উপস্থিতিতে পঞ্চকর্মসহ নানান শান্তি স্বস্ত্যয়ন করা দরকার। বাড়িটি নিয়মিত পরিস্কার করে পরিচ্ছন্ন করতে হবে।
শিশুর জন্য বিছানাটি অবশ্যই উপযুক্ত হতে হবে। বড় হতে হবে। ঘরের আসবাবপত্র উজ্জ্বল রঙের, হাল্কা, নরম, পরিস্কার এবং সুগন্ধযুক্ত হতে হবে। ঘেমো, অপরিস্কার, কিটানুযুক্ত নানান বস্তু ঘর থেকে বের করে দিতে হবে। মুখ মোছার বা মুত্র গন্ধযুক্ত জিনিসগুলিও ঘর থেকে বার করে দিতে হবে। ঘরে রাখার জন্য যদি খুব পরিস্কার জিনিসপত্র না পাওয়া যায়, তা হলে, ঘরের যেগুলো অপরিস্কার জিনিস, সেগুলোকে যথোপযুক্তভাবে ধুয়ে, শুকনো করে, সুগন্ধযুক্ত করে, পরিস্কার করার পর নতুন করে ব্যবহার করতে হবে। ঘরের বিছানা, চাদর, এবং ঢাকনাগুলো নিম্নোক্ত দ্রব্যগুলোর সঙ্গে ঘি মাখিয়ে সুগন্ধিত করতে হবে – যব (বার্লি), রেপসিড, লিনসিড, হিং, গুগুল আঠা, সুইট ফ্ল্যাগ, আনজেলিকা, ব্রাহ্মী করিডালি, নারদা, পালঙ্কস, অশোক, কুরোয়া এবং সাপের খোলস
শিশুরা এই দ্রব্যগুলো ঐন্দ্রজালিক দ্রব্যরূপে পরে থাকবে- মণিমাণিক্য, জীবন্ত গন্ডার, ডের(der?), এবং মহিষের বাঁ দিকের শিঙের ওপরের অংশ, আইন্দ্রি, জিবক, রসভকের পাতা। ব্রাহ্মনেরা অথর্ববেদ অনুসরনে এধরনের অন্য কিছুর যদি নিদান হিসেবে দেন, তাও শিশুদের পরিধান করতে হবে এবং তা অবশ্য পালনীয়।

খেলনা
খেলনাগুলি হওয়া উচিত হাল্কা, শব্দযুক্ত, আকর্ষণীয়। এগুলিতে তীক্ষ্ণ সুচিমুখ(শার্প এজেস)ওয়ালা কোনও বাঁক থাকবে না, এগুলো এমন হবে যা শিশুরা কামড়াতে বা গিলতে পারবে না, এবং তাদের জীবন হানিকর হবে  না।
শিশুদের ভয় দেখানো উচিত নয়। সে যদি কেঁদে চলে, বা খেতে অস্বীকার করে, বা দুষ্টুমি করে তাহলে দৈত্য, দানো, ভুত, প্রেত ইত্যাদির ভয় দেখানো চলবে না।

অসুখের চিকিৎসা
শিশুর অসুখ হলে চিকিৎসক নজর দেবেন তার জীবনযাপন, অসুস্থ হয়ে পড়ার পরের নানান উপসর্গ, বিভিন্ন অসুখ হওয়ার আগের ছোট ছোট উপসর্গ, এছাড়াও পারপাশিক বিভিন্ন চিহ্ন এবং উপসর্গ, রোগ জানার এবং নিরূপণ করার তত্বে। এবং এধরনের নানান নিরীক্ষাধর্মী উপসর্গ আলাদা আলাদা করে অথবা একসঙ্গে জুড়ে, শিশু রোগীর অবস্থা এবং সময় বুঝে, চিকিৎসা করতে হবে। তিনি যেসব পথ্য ওষুধ হিসেবে দেবেন, সেগুলি হবে সহজপাচ্য, হালকা, মিষ্টি, ঠাণ্ডা এবং মনোমুগ্ধকর।
চিকিৎসা হবে এমন, যেন সুস্থতা বহুদিন ধরে শরীরে অবস্থান করে। শিশুর সুস্বাস্থ্যের জন্য জীবাণুবিহীন জীবনযাপন পদ্ধতি মেনে চলতে হবে, যাতে সে শরীর মন এবং চিত্তে শুদ্ধতা এবং পরিস্কারভাব অর্জন করে দীর্ঘ সুস্থ উন্নত বিকশিত জীবন লাভ করে, এবং অসুস্থ জীবন এড়িয়ে চলে। এই ভাবেই শিশুকাল থেকে কৈশোর পর্যন্ত তাকে গড়ে তুলতে হবে যাতে উপযুক্ত ধর্মীয় আচার আচরন এবং সামাজিক জ্ঞান অর্জন করতে পারে।






(সুত্রঃ ১। ভারতীয় বিজ্ঞান মঞ্জুষা, এম এস শ্রীধরণ। ২। চরক সংহিতা, টিকা ঋষি আত্রেয় পুনর্বসু, সম্পাদনা ঋষি অগ্নিবেশ, শ্রী গুলাব কুনভেরবা আয়ুর্বেদ সোসাইটি, জামনগর, ১৯৪৯)
Post a Comment