Saturday, June 29, 2013

সাম্রাজ্যবন্ধু- দ্বারকানাথ ঠাকুর এবং রামমোহন রায় - দয়ালু বেন্টিঙ্কের পঞ্চম আইন, Fifth Regulation of Bentinck

লগেলগে এসেগেল ১৮৩০এ এল দয়ালু বেন্টিঙ্কের পঞ্চম আইন আইনে বলাহল কোনও রায়ত দাদন নিয়ে চুক্তিবদ্ধ হয়ে নীল চাষ না করলে ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে সোপার্দ করা যাবে ঐতিহাসিক সুভাষ ভট্টাচার্য বলছেন, Such insidious contracts, and for the matter, regulations, through highly unfair to the peasents, failed to satisfy the planters. Some newer economic measures were necessary and these were attempted by the Charter Act of 1822. (Indigo Planters, Ram Mohan Roy and the 1833 Charter Act, Social Scientist, by Subhas Bhattacharya,  http://www.jstor.org/pss/3516354 ) নীলকরেরা শান্ত হয় নি আরও কঠোর আরও দুর্দম শাস্তিবিধান চাইল ভারতে ব্যবসা করা নানান ব্রিটিশ সংগঠণও ব্রিটিশদের জমি কেনার অধিকারের সপক্ষে জোরদার সওয়াল করতে থাকে লিভারপুল ইস্ট ইন্ডিয়ান কমিটি পার্লামেন্টের সিলেক্ট কমিটির সামনে ভারতে ব্রিটিশদের বাধাবন্ধহীন জমি কিনতে সওয়াল করে একই দাবি জানাল গ্লাসগো আর ম্যানচেস্টারের ব্যবসায়ীদের সংঘও দাবি ব্রিটিশদের ভারতে জমি কেনার অধিকার দিতে হবে ব্রিটিশ সরকার যে সহানুভূতির সঙ্গে এই দাবি বিচার করছে তা প্রকাশ পেল বাঙলা সরকারের প্রাক্তণ বড় আমলা, হোল্ট ম্যাকেঞ্জির বক্তব্যে আই কনসিডার এভরি ইওরোপিয়ন হু সেটলস ইন ইন্ডিয়া মাস্ট এড সামথিং টু রেভিনিউ  এরই পশ্চাদপটে রচিত হল ১৮৩৩এর সনদ
রামমোহনের রায়ের সঙ্গে দ্বারকানাথ ঠাকুর কলকাতায় কলেনাইজেশনের পক্ষে সওয়াল করেছেন সংবাদপত্রে চিঠি লিখে, জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত করে ১৮২৯এর ১৫ নভেম্বর কলকাতার টাউন হলে আন্দোলনের অন্যতম নেতা দ্বারকানাথের তত্বের পক্ষে সরাসরি দাঁড়ালেন রামমোহন রায় রামমোহন বললেন, এ্যাজ টু ইন্ডিগো প্ল্যান্টারস, আই বেগ টু অবজার্ভ দ্যাট, আই হ্যাভ ট্রাভলড থ্রু সেভারেল ডিস্ট্রিক্টস ইন বেঙ্গল এন্ড বিহার, এন্ড আই ফাউন্ড দ্য নেটিভস রিসাইডিং ইন দ্য নেবারহুড অব ইন্ডিগো প্ল্যান্টেশনস এভিজেন্টলি বেটার ক্লথড এন্ড বেটার কনডিশনড দ্যান দোজ হু লিভ এট আ ডিসট্যান্স ফ্রম সাচ স্টেশনস দ্বারকানাথ আরও এক ধাপ এগেয়ে গিয়ে বললেন, উইথ রেফারেন্স টু দ্য সাবজেক্ট ইমিডিয়েটলি বিফোর দ্য মিটিং, আই বেগ টু স্টেট দ্যাট, আই হ্যাভ সেভারেল জমিনদারিজ ইন ভেরিয়াস ডিস্ট্রক্টস এন্ড আই ফাউন্ড দ্য কালটিভেশন অব ইন্ডিগো এন্ড দ্য রেসিডেন্স অব ইওরোপিয়নস হ্যাভ কনসিডারেলি বেনিফিটেড দ্য কানট্রি এন্ড দ্য কমিউনিটি এট লার্জ
রামমোহন এবং দ্বারকানাথের সই করা একটি দাবি সনদ গভর্নর জেনারেল, উইলিয়ম দয়ালু বেন্টিঙ্কের স্বাক্ষরিত মন্তব্যসহ ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রেরণ করা হল দাবি পত্রটি আদতে রামমোহন আর দ্বারকানাথের টাউনহলের বক্তব্যের সংক্ষিপ্তসার সেই আলোচনার পর পার্লামেন্টে পাঠানো আর এক স্মরকলিপিতে রামমোহন আলাদাকরে লিখলেন, নীলকর সাহেবদের সম্বন্ধে আমি আমার মত সবিনয়ে উল্লেখ করিতেছি বাঙলা, বিহার, উড়িষ্যার বিভিন্ন জেলা আমি পরিদর্শন করিয়াছি আমি দেখিয়াছি নীল চাষের জমির নিকটবর্তী অঞ্চলে অধিবাসীদের জীবনযাত্রার মান অনেক উন্নত ...নীলকরদের দ্বারা হয়ত সামান্য কিছু ক্ষতি সাধিত হইতে পারে কিন্তু সরকারি কিংবা বেসরকারি যত ষুরেপীয় এখানে আছেন তাহাদের যেকোনও  অংশের তুলনায় নীলকর সাহেবগণ এদেশীয় মানুষের অকল্যাণের তুলনায় কল্যাণই বেশী করিয়াছেন
দ্বারকানাথ তাঁর স্মারকলিপিতে স্পষ্টভাষায় ইংরেজ এবং নীলকরদের পক্ষে লিখছেন, আমি দেখিয়াছি, নীলের চাষ এদেশের জনগণের পক্ষে সবিশেষ ফলপ্রসূ হইয়াছে জমিদারগণের সমৃদ্ধি ও ঐশ্বর্য বহুগুণে বৃদ্ধি পাইয়াছে এবং কৃষকদেরও বৈষয়িক উন্নতি সাধিত হইতেছে যে এঞ্চলে নীলের চাষ নাই সে অঞ্চলের তুলনায় নীল চাষের এলাকা ভুক্ত আঞ্চলের মানুষ অধিকতর সুখ স্বাচ্ছন্দ্য ভোগ করিতেছে ...আমি ইহা কেবল জনশ্রুতির উপর নির্ভর করিয়া বলিতেছিনা, প্রত্যক্ষদর্শী হিসাবে নিজের অভিজ্ঞতা হইতে আমি ইহা বলিতেছি দ্বারকানাথ তার উক্তির সত্যতা প্রমাণের জন্য নিজের জমির কথা উল্লেখ করেবলছেন, পূর্বে এই জমি হইতে সরকারী খাজনা দিবারমত যথেষ্ট আয় হইতনা কিন্তু এখন এই জমি হইতে আমি যথেষ্ট মুনাফা লাভ করিতেছি এমনকী আত্মীয়বন্ধুরাও যে তাঁদের জমি থেকেও নীলচায করে যথেষ্ট আয় করছেন তাও তিনি সরাসরি উল্লেখ করতে ভোলেন নি(বাঙলায় সব উদ্ধৃতিই, সুপ্রকাশ রায়, ভারতের কৃষক স্বাধীণতা সংগ্রাম ও গণতান্ত্রিক সংগ্রাম থেকে নেওয়া)।

বিলেতী রামমোহল
ইংলন্ডে গিয়ে রামমোহন ১৮৩১এ পার্লামেন্টের সিলেক্ট কমিটির সামনে সাক্ষ্য দেন রামমোহনকে তার বক্তব্যের সপক্ষে প্রমাণ জমা দিতে বলা হয় তিনি বোর্ড অব কন্ট্রোলের সঙ্গে চলতে থাকা কথাবার্তার উল্লেখ করেন এই সমস্ত প্রমাণ হাউস অব কমন্সের সিলেক্ট কমিটির সমীক্ষার সঙ্গে ক্রোড়পত্ররূপে জুড়ে দেওয়া হয়েছে এটি প্রকাশিত হয় ১৮৩১-৩৩এ কলোনাইজেশনের পক্ষে তার সরাসরি প্রস্তাব ছিল ইংরেজদেরমত চরিত্রবান পুরুষসিংহদের এবার থেকে ভারতে জমিকিনে কোনও বাধাবিঘ্ন ছাড়াই বসবাসের অনুমতি দেওয়া হোক, এজুকেটেড পার্সন্স অব ক্যারেক্টর এন্ড ক্যাপিট্যাল শুড নাউ বি পারমিটেড এন্ড এনকারেজড্ টু সেটল ইন ইন্ডিয়া, উইদাউট এনি রেস্ট্রিকশন অব লোকালিটি অব এনি লায়েবিলিটি টু ব্যানিশমেন্ট এট দ্য ডিসক্রিশন অব দ্য গভর্নমেন্ট  

রামমোহন ভারতে জমি কিনে ব্রিটিশদের বসবাসের পক্ষে নয়টি সুযোগ-সুবিধের কথা বলেছেন, যার মধ্যে শিক্ষা বিস্তার অন্যতম(হায়! এর বছর পাঁচেক পরেই বন্ধু পাদ্রি উইলিয়ম এডামের শিক্ষা সমীক্ষা প্রকাশ পাবে আর ইংরেজি শিক্ষাবিস্তারের পক্ষে যাঁরা দাঁড়িয়ে সওয়াল করেছিলেন, তাঁদের ইংরেজি শিক্ষার যুক্তির দাবি অযৌক্তিক হয়ে উঠবে সমীক্ষার সুপারিশে পাদ্রিমশাই নিজে বাংলা ভাষায় পারম্পরিক শিক্ষার পক্ষে জোর সওয়াল করবেন প্রাণ বাজি রেখে ইংরেজি শিখতে মরিয়া, বাঙালি মধ্যবিত্ত আর ইংরেজদের চক্রান্তে, আরও দেড় শতাব্দ এই সমীক্ষাটি ঠান্ডাঘরে পচবে, যতক্ষণ না মহাত্মা ধরমপালজীর হস্তস্পর্শে নতুন জীবন ফিরে পাচ্ছে) এছাড়াও ছিল ভারতের কৃষিতে আরও আরও বেশি ইওরোপিয় বিনিয়োগ, ইংরেজ শাসিত ভারতে দয়ালু আর আলোকপ্রাপ্ত সরকারের সুশাসন ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি খুব সাধারণ কিছু ইংরেজ সাম্রাজ্যের অহংবৃদ্ধির ছদ্ম-তত্বকথা, যা বলার জন্য তাঁরমত ধীমান ব্যক্তিত্বের ইংলন্ডে দলাদলি করতে যাওয়ার প্রয়োজন ছিল না
Post a Comment