Wednesday, August 15, 2012

বাঙলায় উপেক্ষিত এক শিক্ষা সমীক্ষা২


এডামের শিক্ষা সমীক্ষা
ব্রিটিশ আমলের আগে বহুচর্চিত গ্রাম বাঙলায় সাম্প্রদায়িকতা, জাতি বিভেদেরমত প্রায়স্বতঃসিদ্ধ বিষয়গুলোকে প্রমাণ অপ্রমাণের অন্যতম হাতিয়ার এডামের শিক্ষা সমীক্ষা ১৮৩৫ থেকে ১৮৩৮ পর্যন্ত পাদরি উইলিয়ম এডামের শিক্ষা সমীক্ষায় অধিকাংশ বাঙালি গবেষক নীরব থেকেছেন বিনয় ঘোষ একলাইনে সেরেছেন এডামের প্রতিবেদন একমাত্র ভারতপথিক ধরমপালজী, দ্য বিউটিফুল ট্রি পুস্তকে এডামের সমীক্ষাজাত তথ্য ব্যবহার করলেন অসমসাহসিক দক্ষতায়
১৮১৮তে ভারতে ধর্মপ্রচারে আসেন ব্যাপটিস্ট মিশনারি উইলিয়ম এডাম ধর্মপ্রচারের থেকে বেশি করেছেন সাংবাদিকতা রামমোহন রায়ের ঘনিষ্ঠতম বন্ধুদের মধ্যে একজন মধ্যবিত্ত বাঙালি আর এই কাজের দাতা, কোম্পানির বিরাগভাজন হবেন জেনেও, এডাম সরকারকে নিদান দেন, বাংলার সার্বজনীন গ্রামীণ শিক্ষাদান পদ্ধতিকে অবিকৃত রেখে দেওয়ার জন্য
উইলিয়ম এডামের শিক্ষা সমীক্ষার পেষাকি নাম Reports on the State of Education in Bengal 1836 and 1838 সরকারের অর্থ সাহায্যে ১ জুলাই ১৮৩৬ প্রথম(বাঙলার বিভিন্ন জেলায় প্রথাগত শিক্ষা পদ্ধতির হাল হকিকত আর তথ্যাবলী বর্ণনা), ২৩ ডিসেম্বর ১৮৩৬ দ্বিতীয় (রাজসাহী জেলার নাটোর থানার শিক্ষা পরিকাঠামোর লেখাজোখা), ২৮ এপ্রিল ১৮৩৮ তৃতীয় ও শেষ(মুর্শিদাবাদের একাংশ, গোটা বীরভূম, বর্ধমান, দক্ষিণ বিহার ও ত্রিহুতের শিক্ষা ব্যবস্থার সমীক্ষা এবং এডামের বিশ্লেষণ, সুপারিশ, আর সমীক্ষার ইতিটানন)- এই তিন দফায় সনাতন বাঙলা-বিহার সমাজের শিক্ষাদানব্যবস্থার তথ্য সংগ্রহের কাজ করেছেন
বিশ্বের দ্বিতীয় শহর কলকাতায় তখন চলছিল মহাশিক্ষা বিতর্ক ছাত্রদের পড়ানো হবে কোন পদ্ধতিতে ব্রিটিশ পদ্ধতির পক্ষে এংলিসস্টরাই ছিলেন দলে ভারি মেট্রোপলিটনের শিক্ষা ব্যবস্থা হনুকরণের জন্য বাংলার উচ্চমধ্যবিত্তদের মধ্যে হুড়োহুড়ি(ঈশ্বরচন্দ্রমশাইএর পিতাঠাকুর, ঠাকুরদাসমশাই ১৮২০তে কলকাতায় মাসে ২ টাকা রোজগার করে নিজেকে স্বচ্ছল ভাবছেন, তারও তিন বছর আগে মাসে পাঁচ টাকা ব্যয়ে হিন্দু কালেজে ইংরেজির পাঠ নিচ্ছেন আগামী দিনের নবজাগণের অগ্রগূতেরা) তখনও ব্রিটিশ শিক্ষাব্যবস্থায় সার্বজনীন শিক্ষার ধারণাটাই আসেনি শিক্ষা ছিল মুষ্টিমেয়র ক্রয়যোগ্যবস্তু ব্রিটেনে পঞ্চদশশতক থেকে বাইবেলও পড়ার অধিকার ছিলনা জনগণেশের ‘that the English Bible should not be read in churches. The right of private reading was granted to nobles, gentry and merchants that were householders. It was expressly denied to artificers’ prentices, to journeymen and serving men “of the degree of yeomen or under”, to husbandmen and labourers’ so as ‘to allay certain symptoms of disorder occasioned by a free use of the Scriptures.(ধরমপালজীর দ্য বিউটিফুল ট্রি বইটি থেকে)
এংলিসিস্টদের ইংরেজবাদী আন্দোলনে, বেন্টিঙ্ক, ট্রেভলিয়ান, মেকলে, রামমোহন, বিদ্যাসাগরের উদ্যমে দেশের গ্রামীণ চিরাচরিত শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়ল ইংরেজি মাধ্যমের, পশ্চিমি দর্শনের পড়াশোনার পদ্ধতি(১৭৯৭তে ভারতে ধর্মপ্রচারে আসা পাদ্রি এন্ড্রু বেল চেঙ্গলপট্টু, আজকের চেন্নাইএর শিশুদের নিজস্ব পড়াশোনার পদ্ধতি নথিকরে দেশে নিয়ে যান এই নথি প্রকাশিত হয় এন এনালাইসিস অব এক্সপেরিমেন্ট ইন এডুকেশনস মেড অ্যাট এগমোর নিয়ার ম্যাড্রাস পুস্তকে  বিশ্ব শিক্ষাব্যবস্থা বিকাশে এর প্রভাব প্রভূত) ভারতের শহরগুলোয় প্রবেশ করবে, ভারত স্বাধীণ হওয়ার পরও তার শেকড় চরাবে ভারতে
সে সময়কার এংলিসিস্টদের আন্দেলনের বিরোধিতা করতে গিয়ে ওরিয়েন্টালিস্টরা দেশজ সংস্কৃত বা আরবি-ফারসী মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থা চালু রাখার আন্দোলন করেছেন আদতে দুপক্ষই সরকারি ব্যয়ে শহুরে মধ্যউচ্চশ্রেণীর মধ্যে সীমিত শিক্ষাব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন রামমোহন রায় এবং ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরমশাই ভারতীয় পাঠশালি টোল ব্যবস্থার প্রতিভূ তাঁরা বাংলার সার্বজনীন শিক্ষা ব্যবস্থা সম্বন্ধে উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে নীরব থাকলেন যদিও ১৮৩৫এ রামমোহন নেই কিন্তু বিদ্যাসাগর এই ব্যবস্থার চরমতম বিরোধিতা করেছেন মেকলের অশ্লীল, উদ্দেশ্যপূর্ণ শিক্ষা প্রস্তাব সমর্থন করেছেন সগর্বে বলছেন পশ্চিম প্রমাণ করেছে সাংখ্য আর বেদান্ত মিথ্যা দর্শণ এগুলিকে পাঠ্যক্রম থেকে বর্জন করা প্রয়োজন এই দুই মহাতেজের প্রভাব আর শহুরে আন্দোলন গ্রামবাঙলার ব্যাপকতম শিক্ষা পরিকাঠামো সমূলে ধংস করল
অষ্টাদশ শতাব্দ পর্যন্ত নানান সামাজিক-অর্থনৈতিক ঝড়-ঝাপটা সহ্যকরে বাংলার সার্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থা দাঁড়িয়েছিল মাথা উঁচু করে উইলিয়ম এডামের সমীক্ষার আগেই মাদ্রাজে লিটনারের (১৮২২-২৬) তার আশেপাশে বম্বে আর পাঞ্জাবের সমীক্ষাও প্রকাশ পায় সে প্রসঙ্গে রেভারেন্ড এফ ই কে লিখছেন, “there was.., before the British Government took over the control of education in India, a widespread, popular, indigenous system. It was not confined to one or two provinces, but was found in various parts of India, though some districts were more advanced than others. In the inquiry made for the Madras Presidency in 1822-26, it was calculated that rather less than one-sixth of the boys of school-going age received education... In the similar inquiry made for the Bombay Presidency (1823-28), the number of boys under instruction was put down to about one in eight... অথচ ১৮১৪ সালের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ডিরেক্টরদের পাঠানো প্রথম এডুকেশন ডেসপ্যাচ এপর নির্ভর করে এ পি হাওয়েল ১৮৫৪তে বলবেন, “There is no doubt that from time immemorial indigenous schools have existed... In Bengal alone, in 1835, Mr. Adam estimated their number to be 100,000; in Madras, upon an inquiry instituted by Sir Thomas Munro in 1822, the number of schools was reported to be 12,498, containing 188,650 scholars; and in Bombay, about the same period, schools of a similar order were found to be scattered all over the Presidency
Post a Comment