Wednesday, August 15, 2012

একটাই আশা, আজও গ্রামীণেরা নিজের শেকড়ে দাঁড়িয়ে


অসাধারণে সাধারণ গ্রামব্যবস্থা
ভারতের গ্রাম সংগঠণের মূল বৈশিষ্ট্য ভূমির স্বত্বহীনতা জয়া মিত্রের লেখায় পাই, সেদিনও রাজস্থানে আদমসুমারিতে যাওয়া কর্মীরা জমির মালিকের নাম প্রশ্নকরলে গ্রামীণের উত্তর দিয়েছিলেন, সমুদায়, অর্থাত সবার ইওরোপে রাজা সমান রাষ্ট্র সর্বশক্তিমান
ভারতবর্ষে রাজা নিজে ভূমিসত্ব ভোগ করতেন না রাজা ছিলেন রাষ্ট্র পালনের পরিচালনের অছিমাত্র রাজা শুধু জমিদারদের রাজস্ব সংগ্রহের অধিকার দিতেন নাম জমিদার জমির মালিক তিনি নন রাজার কাজ ছিল, রাষ্ট্রের শাসন ব্যবস্থাকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালন করা যেন অছি
জৈমিনি পূর্ব মিমাংসায় বলছেন, রাজা ভূমি হস্তান্তর করতে পারেন না রাজা ভূমির মালিক নয় যারা খেটে জমি চাষ করে, তারাই জমি চাষের মালিক সায়নাচার্যও বলছেন, রাজার কর্তব্য অপরাধীকে দণ্ডদান নিরাপরাধকে আশ্রয়প্রদান মালিক রাজা নন জৈমিনিরমতই তিনিও চাষীদেরই জমির অছি হিসেবে বলছেন রাজা পাল্টেছে রাজ্য পাল্টেছে কিন্তু সমাজিক এই ব্যবস্থায় জমির মালিকানা নিয়ে বিতর্ক বাধেনি
৭ নভেম্বর, ১৮৩০এ চার্লস মেটকাফ মিনিট অন দ্য সেটলমেন্ট ইন ওয়েস্টার্ন প্রভিন্স-এ বলছেন, Hindoo, Patan, Mogul, Mahratta, Sikh, English, are all masters in turn; but the village community remains same…. The sons will take place of their fathers’ the same sight for the village, the same position for the houses, the same land will be reoccupied by the decedents of those who were driven out when the village was depopulated… The union of the village comities, each one forming a separate little state in itself, has ….contributed more than any other cause to the preservation of the people of India through all the revolutions and changes which they have suffered, and is in a high degree conducive to the happiness, and to the enjoyment of a great portion of freedom & independence. 
এ তথ্য অনেকেই হয়ত জানেন অনেকে মানেনই না সাধারণতঃ সনাতন বৃহত্তর ভারতের নানান সমাজের প্রশাসনে দেশের কেন্দ্রিয় অথবা প্রাদেশিক সরকারের বড় ভূমিকা থাকত না প্রত্যেকটি গ্রামগোষ্ঠী উত্পাদনের সঙ্গে প্রশাসনকর্মেও ছিল স্বয়ংসম্পূর্ণ গ্রামগোষ্ঠীগুলি হাজার হাজার বছর ধরে গড়ে ওঠা প্রাকৃতিক নিয়ম যথাসাধ্য মান্য করত যত কম সম্ভব দ্রব্য ব্যবহার করত সেগুলো বারংবার ব্যবহার করে নিজেদের সাধারণতম জীবন জীবিকা অসাধারণ সাধারণত্বে নির্বাহ করত

সমবায়ীভাবে বাঁচার নাম হল দারিদ্র্য
এই জীবনধারণের দর্শণ নাগরিক, ইওরোপিয় লুঠেরা অপচয়ী দর্শণের বোধগম্যতার বাইরে জীবনধারণের প্রক্রিয়াকে হয় পশ্চিম বুঝতেই পারেনি, না হয়, সঠিক ভাবে বিশ্লষণ করতে পেরে বুঝেছিল, গ্রামীণ ভারতের সহজিয়া দার্শনিক নীতিতে, ইওরোপিয় লুঠেরা আর প্রকৃতি ধংসকারী, বিশ্বব্যাপী লোভাতুর রাজত্ব গড়ে উঠতে পারেনা বিশ্বপ্রকৃতিকে যথাসাধ্য অবিকৃতরূপে সুরক্ষিত রেখে, অতিরিক্ত চাহিদাবিহীন ভারতীয় যৌথ সমবায়ী সমাজের বেঁচে থাকার দর্শণটির নাম পশ্চিম দিল, দারিদ্র্য
এর বিপরীতে আমেরিকা-ইওরোপের মধ্যবিত্ত-উচ্চবিত্তদের প্রকৃতি ধংসাশ্রয়ী জীবনধারণের পদ্ধতিক নাম কোয়ালিটি অব লাইফ সারা বিশ্বকে এই প্রকৃতি ধংসকারী জীবনধারণ নকল করতে অর্বুদ ডলার-পাউন্ড-ইয়েন দান আর জড়ানো-প্যাঁচানো ঋণ দিয়ে চলেছে অবলীলায় বিশ্বের নানান প্রান্তজুড়ে শপাঁচেক বছর আগেথেকে অমিত পরিমান অর্থ-সম্পদ-জ্ঞাণ লুঠ করে চলছিল ইওরোপিয়রা সেই লুঠের সম্পদের আসলের সুদেই রমরমিয়ে আজও চলছে তথাকথিত তৃতীয় বিশ্ব উন্নয়ন ব্যবসা চক্র
বিশ্বে দারিদ্র্যতত্ব সব থেকে বড় রপ্তানির বস্তু ডান বাম, সব ইওরোপিয়রই মূলগত জীবনবেদ, চাহিদার সংস্কৃতি যেসব মানুষের আমেরিকীয়-ইওরোপিয় তত্ব অথবা দ্রব্য অথবা সেবা, কোনও কিছুরই চাহিদা নেই, হয় সে গরীব, নয় সে মুর্খ, না হয় লৌকিক কিংবা আদিবাসী, না হয় অজ্ঞ কুসংকরাচ্ছন্ন, নিদেনপক্ষে তৃতীয় বিশ্বের অধিবাসী আর সামন্ততন্ত্রে গলা পর্যন্ত ডুবে থাকা গেঁয়ো ক্ষমাঘেন্নার পাত্তর
হাজার হাজার বছরের ভারতীয় সমবায়ী সমাজগুলির নীতি ছিল, অপচয়মুখী উত্পাদন, বন্টন, জীবনধারণ দর্শণের বাইরে যথাসাধ্যভাবে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলার পথ তৈরি করা নানান টানাপোড়েনে তৈরি সমবায়ী সংস্কৃতির পথ বেয়ে সমাজের স্বচ্ছলেরাই বাঁচত না সমাজের প্রত্যেকেরই অংশগ্রহণ ছিল সেই জীবনযাত্রায় প্রত্যকেরই কিছু না কিছু দেওয়ার ছিল সেই সমাজকে গড়ে তুলতে, তার সম্পদ তৈরি করতে, জ্ঞাণভান্ডার অর্জন আর তৈরি করতে
Post a Comment