Friday, August 24, 2012

ব্রিটিশ পূর্ব সমাজে সাধারণ জীবন এবং চেঙ্গলপট্টু সমীক্ষা১



দক্ষিণ ভারতের বেশ কিছু মন্দির তৈরি হয়েছিল ষষ্ঠ শতকে. মাদ্রাজের কাছে দশম শকতের উত্তিরামেয়ুর (Uttiramerur) মন্দির লিপির পাঠোদ্ধারে সেই এলাকার সামাজিক জীবনের একটা ছবি উঠে আসে.
সাধারণভাবে ভারতবর্ষ ৪০০টি ছোট ভৌগোলিক এলাকায় বিভক্ত ছিল যার মধ্যে ১৫-২০টি প্রধাণ ভাষা এলাকা. এই ৪০০টির প্রত্যেকটি জেলায় কাপড় বোনা হত. মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সিতে ১৮১০র পর্যন্ত Moturpha আর Veesabuddy কর আদায়ের ব্রিটিশ তথ্য বলছে প্রত্যেক জেলায় ১০,০০০ থেকে ২০,০০০ হাতে চালানো তাঁত ছিল. সারা ভারতে ১০,০০০ ধাতু গলানো চুল্লিতে লোহা আর মর্চেছাড়া ধাতু(ক্রুসিবল স্টিল)র জিনিস তৈরি হত. সারা বছরে ৪০ সপ্তাহ ধরে ২০ টন উচ্চমানের লোহা তৈরি করতে পারত. এছাড়াও অন্যান্য ধাতু শিল্পী ছিল. খনিতে কাজ করার মানুষ ছিল. পাথর তক্ষণ শিল্পী, ছবি আঁকার শিল্পী, বাড়ি তৈরির কারিগর ছিল. চিনি, নুন আর জনসংখ্যার অনুপাতে তেল তৈরির কারিগরের সংখ্যা ছিল ১শতাংশ. যাকে আমরা হস্তশিল্প বলছি এবং ততসহ কারখানায় নিযুক্ত ছিলেন ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ মানুষ. এছাড়াও সুতো কাটারও অনিয়মিত প্রচুর কারিগর ছিল. আট ঘন্টা তাঁত চালাতে প্রয়োজন অন্ততঃ ২৫ ঘন্টার সুতো কাটার কাজ করা. মোট গৃহস্থদের তুলনায় ৫ শতাংশ যদি তাঁতি হয়, তাহলে ভারতের প্রত্যেকটি বাড়িতে সারা বছরই সুতো কাটাতে হত. মূল স্বাস্থ্যবিধান গ্রামেই হত. ১৮০০ সাল পর্যন্ত সাধারণ প্লাসটিক সার্জারি জলভাত ছিল. টিকা দেওয়াও খুব সাধারণ রেওয়াজ ছিল. এলাহাবাদেরমত গরমতম স্থানেও বরফ তৈরি করার চলতি প্রযুক্তি সাধারণের মধ্যে ছিল. দক্ষিণ আর পূর্ব ভারত থেকে সিড ড্রিল ব্রিটেনে পাঠানো হয় গবেষণার জন্য. মাদ্রাজের এগমোরে এন্ড্রু বেলের নথি করা বেল পদ্ধতি বিশ্ব শিক্ষাব্যবস্থায় প্রভূত প্রভাব ফেলেছে. ১৮০০ পর্যন্ত ব্রিটেনে শিশুদের পড়ানোর সার্বজনীক ব্যবস্থা ছিল না. অনেকেই কৃষি, পশুপালনের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও কৃষির অনুষঙ্গ প্রচুর শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন বহু মানুষ. সে সময়ের সেচ, বীজ বোনা, হাল দেওয়া, ঝাড়াই মাড়াই, বীজের সংরক্ষণ আর সংকর করা ইত্যাদি নানান বিষয়ে প্রচুর আলেচনা নথিকরণ হয়েছে. ১৮০৩ সালে এলাহাবাদ বারানসী এলাকার কৃষি উত্পাদনে সঙ্গে ব্রিটেনের তুলনা করা হয়. ভারতের উত্পাদন দেখা যায় অন্ততঃ দুই থেকে আড়াই গুণ বেশি. বেলারি আর কুডাপ্পার জেলার ১৮০৬টি এলাকার বিশদ বিবরণে পাই, সমগ্র জনগণকে তিনভাগে ভাগ করা হয়, উচ্চ(২৫৯৫৬৮ জন) মধ্য(৩৭২৮৮৭) ও নিম্ন শ্রেণীর(২১৮৬৮৪). অর্থ মূল্যে সারা বছরের consumption expenditure অনুপাত ছিল ৬৯, ৩৭, ৩০. ঘি আর তেলের অনুপাত ছিল ৩, ১, ১ আর পালসেস ছিল ৪, ৪, ৩.
Post a Comment