Monday, September 6, 2010

চিল্কিগড়ের কনকদুর্গা

অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি চিল্কিগড়ের সামন্ত রাজা গোপীনাথ সিংহ মত্তগজ স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে তার তিন রানির হাতের কঙ্কন দিয়ে তৈরি করেন দেবী কনকদুর্গার মূর্তি। দেবী চতুর্ভুজা, অশ্ববাহিনী। দেবীর ওপরের বাম হাতে খর্পর, নীচের বামহাতে অশ্বের লাগাম। উপরের দক্ষিণ হেস্ত খড়্গ, নীচের দক্ষিণ হেস্ত বরাভয়। সালঙ্কারা দেবীর অঙ্গে নীলবস্ত্র।
আশ্বিন মাসের শুক্লা সপ্তমীতে চিল্কিগড়ের জঙ্গলে কনকদুর্গার মন্দিরের প্রতিষ্ঠা হয়। রাজা গোপীনাথ ও তার পাটরানি গোবিন্দমণির কন্যা সুবর্ণমণির বিয়ে হয় ধলভূম পরগনার সপ্তম জগন্নাথ দেও ধবলদেবের সঙ্গে। পরে সপ্তম জগন্নাথ দেও ধবলদেব ও সুবর্ণমণির জ্যেষ্ঠ পুত্র কমলাকান্ত দেও ধবলদেব চিল্কিগড়ের রাজা হন। তার পর থেকে বংশানুক্রমে ধবলদেব বংশের উত্তরসূরিরা মন্দিরের সেবার দায়িত্ব পান। দেবীর প্রতিষ্ঠাতা রাজা গোপীনাথ সিংহ মত্তগজ ওড়িশা থেকে রামচন্দ্র ষড়ঙ্গী নামে এক ব্রাহ্মণকে দেবী পূজার দায়িত্ব দেন। অদ্যাবধি রামচন্দ্র ষড়ঙ্গীর বংশধরেরা মন্দিরের পূজারীর দায়িেত্ব আছেন। তবে, ১৯৬০ সালে কনকদুর্গার সোনার মূর্তিটি চুরি হয়ে যায়। এর পর তিন দশকেরও বেশি সময় মূর্তিহীন মন্দিরেই দেবীর পুজো হতে থাকে। রাজ বংশের উত্তরসূরিদের উদ্যোগে ১৯৯৬ সালে অষ্টধাতুর কনকদুর্গার একটি মূর্তি (রেিপ্লকা) মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই মূর্তিতেই এখন পুজো চলছে।
কনকদুর্গার মন্দিরের চারপাশে ৬৪ একর এলাকা জুড়ে শ্যামল অরণ্যানী সত্যিই মনোরম। রয়েছে বহু পুরনো শাল, মহুল, কেঁদ, বট, অশ্বত্থ, ঁসিদুর, রুদ্রাক্ষ, আমলকি, হরতুকি, বহেড়া, চালতা, হাড়ভাঙা গাছ। আছে ১০৮ রকমের দুষ্প্রাপ্য ভেষজ গাছ-গাছড়ার সমারোহ। মন্দিরের ধারে ছোট ডুলুং নদীর জল একেবেকে সাপের ফনার মতো ফুসে চলেছে।
Post a Comment