Monday, September 6, 2010

বাংলাদেশের ভাটিয়ালি গান

এই বিষয় নিয়ে সংগীত-সাহিত্যে প্রবন্ধ লেখা হয়েছে খুবই কম। যাঁরা এই ভাটিয়ালি গান রচনা করেন তাঁদেরকে কোন নামে ডাকা হয়? বাংলার বহু বাউলের গান পাই ভাটিয়ালি সুরে। বরিশাল অঞ্চলের অনেক রচয়িতা বিচ্ছেদী গান রচনা করেছেন-তাঁদেরই বা কোন নামে ডাকা হবে? পদাবলি কীর্তনের যাঁরা রচয়িতা তাঁদের বলে মহাজন বা পদকর্তা। কবিগান যাঁরা লেখেন তাঁদের বলা হয় কবিয়াল। এমনি করে সব গানেরই রচয়িতার একটি নাম পরিচয় থাকা জরুরি, কিন্তু নেই। ভাটি অঞ্চলে বহু রচয়িতা বাউল নামে পরিচিত কিন্তু তাঁদের রচনা ভাটিয়ালি। ভাটিয়ালি গানের মূল বিষয় হল নদী-নৌকা-মানুষ। এর বাইরে ভাটিয়ালি সুরের কাঠামো ব্যবহার করে কীর্তন রচনা থেকে শুরু করে রোমান্টিক প্রেম-বিরহের গান রচনা হচ্ছে। ভাটি অঞ্চলের বাউলরা প্রায় সকলেই গৃহী। সংসারের মধ্যে থেকে নিয়মিত সংগীত রচনা ও সুর যোজনার কাজটি করে চলেছেন। বাউল নামে খ্যাত হলেও তাঁরা কেউই সম্পন্ন অর্থে বাউল নন। বাউলের সাধনা তাঁদের নেই। ভাটিবাংলার নিজস্ব রূপে তাঁরা গান রচনা করেন। নেত্রকোণা ও সুনামগঞ্জের হাওড় অঞ্চলকে বাংলাদেশের সংগীতাঞ্চল ঘোষণা দেয়া উচিত। বারো মাসই শোনা যায় সেখানে গান। ঘরে ঘরে চলে চর্চা। প্রায় সব গানই ভাটিয়ালি অঙ্গের। এমন গানপাগল মানুষের বাস আর কোনো অঞ্চলে আছে কি-না জানি না। ভাটিয়ালি শুধুই এক প্রকার গান নয়, একটি সংগীতপদ্ধতি। নানা বৈচিত্র্যের ভাটিয়ালি প্রচলন রয়েছে আমাদের এই বাংলায়। ওরে, ওহে, বন্ধুরে, মাঝিরে ইত্যাদি টানসমৃদ্ধ গানের বাইরেও রয়েছে নানা কথামালার ভাটিয়ালি গান। এই গান বাংলার মানুষের মননে গভীর ছাপ ফেলেছে। বৈচিত্র্যপূর্ণ লোকসংগীতের মধ্যে ভাটিয়ালি একটি অন্যতম প্রধান ধারা।
Post a Comment