Saturday, February 16, 2013

The Indian saltpeter trade, the military revolution and the rise of Britain as a global superpower. জেমস ডব্লিউ ফ্রে

তৃতীয় অংশ

জেমস ডব্লিউ  ফ্রে, অসকোস, উইসকনসিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপক। তিনি বাঙলা সুবার পাটনার সোরা ব্যবসা সম্বন্ধে বিশদে ইতিহাস রচনা করেছেন. এই ইতিহাস যেমন মনোগ্রাহী, তেমনি বাঙলার ইতিহাস এবং প্রযুক্তি চর্চকদের আর শিক্ষার্থীদের কাছে শিক্ষার বিষয়. ব্রিটিশ আধিপত্য বিশ্লষণে নানান দিকগুলি এর আগে বিশদে বিশ্লেষিত হয়েছে, কিন্তু সেই আলোচনায় সোরার ভূমিকার কথা আর সেই উত্পাদনে বাঙলা সুবার পাটনার কথা খুব একটা উঠে আসে নি। বলা দরকার প্রাচীন কাল থেকেই ১৯০০ সাল পর্যন্ত পাটনা বিশ্ব সোরা বাজারে বিশাল এক ভূমিকা নিয়েছে. এই ইতিহাস আমরা বিশদে এই প্রবন্ধে কয়েকটি অংশে ভাগ করে দেখব. এবারে তৃতীয় অংশ. 
বিশ্বেন্দু

মাদ্রাজের ইংরেজদের নথিপত্রে জানাযাচ্ছে স্যানথোমএর পর্তুগিজ বাসিন্দারা ১৬৯০তে খুব বড় আকারে সোরা ব্যবসা করত দাক্ষিণাত্যের ব্যবসার পথে নিরন্তর গন্ডগোল চলতে থাকায় দক্ষিণ ভারতের সোরা ব্যবসা করমণ্ডল উপকূলে উঠে আসে মাদুরাই থেকে ব্যবসা করা এজেন্টরা স্থানীয় এলাকা থেকে সোরা জোগাড় করে পুলিকট, সানথোম এবং মাদ্রাজ ডেনিসদের বসতি (Tranquebar!)ত্রিবাঙ্কোর ছাড়াও তাঞ্জাভুর ও রামনাদএর তট ধরে ডাচ ও পর্তুগিজদের কুঠিতে সোরা সরবরাহ করত এখানেও সোরা ব্যবসা কাপড় আর চালের ব্যবসার অনুগামী হয়ে চলত ১৬৩০ সালেও দেখা যায় মাদুরাইএর সোরা তুতিকোরিন এবং কয়ালপট্টনমএরমত ছোট বন্দরেও ব্যবসার জন্য পাঠানো হত যতদূর সম্ভব মোপলা(Moplah) এবং লুবাই(Lubbai) পেডলার্সদের দ্বারা এই কাজ সম্পন্ন হত ১৬৩৩-১৬৩৫ এই সময়টি Antonio Bocarro's Livro das Plantas খুব বিশদে বর্ণনা করেছেন  সোরা ছাড়াও ব্যবসা হত মুক্তো, কোরাল, হাতি, রুবি, চাল এবং সুতিদ্রব্য ইক্কেরির রাজা এবং অন্যান্য ব্যবসায়ীরা পর্তুগিজদের সঙ্গে ব্যবসা করতেন
তবে ভারতে শুধু নয়, বিশ্বের অন্যান্য পণ্যেরমতই সোরা উত্পাদনের অন্যতম প্রধান অঞ্চল বাঙলা আর বিহার ১৬৩০এ পর্তুগিজদের পাটনায় ব্যবসায় উপস্থিতির হদিস পাওয়া যাচ্ছে ইংরেজদের নথিপত্র থেকে তবে এই আনঅফিসিয়াল পর্তুগিজেরা সোরা ব্যবসায় ছিল কি না, সেই তথ্য স্পষ্ট নয় তখনও কিন্তু পাটনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পণ্য সোরা Barendse বলছেন ম্যাকাওএর ব্যবসায়ী Francisco de Carvalhoর কথা তিনি বাঙলায় পর্তুগিজদের একচেটিয়া ব্যবসায়ী(মনোপলি কনট্রাক্টর) কার্ভালো গোয়া শাসকদেরও সুনজরেও ছিলেন তবে তিনি একাই জাভা থেকে বাঙলা হয়ে গোয়া পর্যন্ত একাই সোরাসহ অন্য ব্যবসা ফেঁদে বসেছিলেন এ তথ্য খুব একটা গ্রহনযোগ্য নয়
ইওরেপিয়রা মোগল সাম্রাজ্যকে বারুদ নিয়ন্ত্রিত কামান সাম্রাজ্য(গান পাউডার এম্পায়ার এই অভিধাটি মার্ক্সিয় ঐতিহাসিকদের দান সোভিয়েত ঐতিহাসিকদের অনুসরনে জি এস হজসন, সাফাভি, অটোমান, হ্যুপসবার্গ, মুঘলদের গান পাউডার সাম্রাজ্য বলে দাগিয়ে দেন তাঁর দাবি এই সাম্রাজ্যগুলো বারুদ এবং অস্ত্রশস্ত্রের কারখানা রাষ্ট্রীয় করণ করে সাম্রাজ্য টিকিয়ে রেখেছিল কিন্ত ভারতে অন্ততঃ মেগল আমলে দেশের ভূস্বামীরা বারুদ তৈরির অধিকার নিজেদের হাতে রেখে রাজশক্তির নানানভাবে বিরুদ্ধাচরণ করছেন) বলে দাগিয়ে দিয়েছেন এ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে মুঘল সাম্রাজ্যে কামান বেশ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ইব্রাহিম লোদিকে হারিয়ে বাবরের জয়ে ঐতিহাসিকেরা কামানের গুরুত্বকে বড় করে দেখিয়েছেন, কিন্তু বাবর নিজে কামানের থেকে নিজের বুদ্ধি আর পরিকল্পনার ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন পাণিপথ যুদ্ধের পর এই প্রথম ভারত সভ্যতায় কামানের মুখে শত্রুদের দাঁড় করিয়ে ওড়ানো হয় বাবরের যুদ্ধ জয়ে পদাতিক সৈন্যের ভূমিকা কামানের গুরুত্বের থেকে অনেক বেশি হুমায়ুন গুজরাটের তুর্কী কামান বিশেষজ্ঞ রুমী শাকে দিল্লীতে আনতে উদ্গ্রীব ছিলেন এমনকী শের শাহ যত বারুদ ব্যবহার করেছেন তা বেশ নগন্য পরিমানে ছিল যদিও তিনি বিষ্ফোরনে প্রাণ হারান আকবরের সঙ্গে সোরা(নিমকীশোর - ইংরেজরা এশিয় শব্দ উচ্চারণ করতে পারত না বলে শব্দ ভেঙে লেখার চল করে, নিমকিশোর লিখিত নথিতে তাই নিমক-ই-শোর) ব্যবসায়ী হিমুর লড়াই হয় এবং হিমুর মৃত্যু ঘটে চোখে তীর বিঁধে কামান অথবা বন্দুকের গুলিতে নয় যদিও যুদ্ধে আকবর কামান ব্যবহার করছেন, কিন্তু আকবর জিতছেন বাবরেরমতই সাংগঠনিক প্রতিভায় বরং মুঘল সাম্রাজ্যকে বলাভাল কাগজে(অথবা পরিকল্পনা) ভিত্তিক সাম্রাজ্য, টিকেছিল সুচারু কর আদায়, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং বিশাল পরিমান তথ্য ব্যবস্থাপনার দক্ষতার ওপর শেরশাহর সেনা বাহিনীতে ছিল গাঙ্গেয় সমভূমির বন্দুকবাজেরা এর আগে আমরা দেখেছি এই এলাকাটাই কিন্তু ভারতের সোরা উত্পাদনের অন্যতম কেন্দ্রস্থল পরের দিকে মুঘলদের সেনা বাহিনী এবং ব্রিটিশদের সেনা এই এলাকা থেকেই সংগ্রহ করা হয়েছে
আকবর কীভাবে বারুদ সংগ্রহ করতেন তার বিশদ বিবরণ পাওয়া যায় না, কিন্তু তিনি যে এটিকে বেশ গুরুত্ব দিতেন তা বোঝা যায় কেননা সোরার উত্পাদনের প্রযুক্তি এবং ব্যবহারেরদিকে অনেক বেশি নজর দিয়েছেন আবুলফজল বিহারের বিস্তীর্ণ সোরা উত্পাদন এলাকার কথা উল্লেখ করছেন না, যদিও আকবরের সময় তা বিস্তৃতভাবে ব্যবহার হয়েছে আইনিআকবরি থেকে মোটামুটি ধারণা করা যায় অস্ত্র ব্যবহার এবং বারুদ তৈরি খুব একটা কেন্দ্রীভূত ছিল না, অন্ততঃ আকবরের সময়টুকু তিনি বলছেন নির্দিষ্ট কিছু অস্ত্র ছাড়া রাষ্ট্রশক্তি অস্ত্র তৈরির ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করত না এই সূত্র ধরেই আমরা ধারণা করতে পারি তখনও সরকারি আমলাদের এই ব্যবসা এবং উত্পাদনে অংশগ্রহণ ছিল ন ব্যক্তি সেনা অথবা সেনানায়ক যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় বারুদ জোগাড় করতেন এমনকী রাষ্ট্রশক্তিও বাজার দামে বাজার থেকে বারুদসহ নানান সামরিক দ্রব্য কিনত ১৫৮০র পর বিশেষ করে জাহাঙ্গীরের সময় থেকেই সমাজ অর্থনীতির অন্য নানান অংশ নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সঙ্গে সোরা উত্পাদনে নিয়ন্ত্রণ কায়েম করল
Post a Comment