Saturday, February 16, 2013

ব্রিটিশদের সোরা ব্যবসা


EURO-ASIAN TRADE OF THE ENGLISH EAST INDIA COMPANY শীর্ষক থেকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সোরা ব্যবসার ইতিকথা বর্ণনিা হল. এর পর আরও বিশদে বিশ্ব ইতিহাসে বাঙলা সুবার সোরা ব্যবসার ইতিহাস বর্ণনা হবে.

ভারত থেকে ইওরোপে সল্টপিটার অথবা সোরার রপ্তানির ইতিহাস প্রণিধানযোগ্য এ বিষয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যেও খুব বেশি আলোচনা হয় নি, কিন্তু ইংরেজদের বিশ্ব সাম্রাজ্যস্থাপনে সোরা এক বড় ভূমিকা গ্রহন করেছিল এ কথা আজ আর অস্বীকার করা যায় না, যদিও সে সম্বন্ধে আলোচনা খুব বেশি এগোয় নি
বারুদ তৈরিতে সোরার নির্দিষ্ট পরিমানে অনুপান প্রয়োজন সে সময সোরা উত্পাদনে ভারত বিশ্বের অগ্রণী দেশ ছিল ইওরোপে ক্রমশঃ বারিদের চাহিদা বাড়তে থাকায়, ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ব্যবসায় সোরা একটি বড় স্থান দখল করল প্রথমের দিকে ইওরোপে সোরা আমদানিতে কড়া নিষেধাজ্ঞা ছিল কিন্তু লুণ্ঠনে লিপ্ত ইওরোপের দেশগুলোয় ক্রমশঃ অস্ত্রশস্ত্রের কারখানার সংখ্যা বাড়তে থাকায় ভারত থেকে ইওরোপে সোরা রপ্তানির পরিমান বাড়তে থাকে এবং একচেটিয়া ব্যবসায় অধিকার পাওয়া ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এই ব্যবসায় প্রভূত লাভ করতে থাকে রাজনীতি এবং সমর নীতি(চার্লস এবং পার্লৈমেন্টের গৃহযুদ্ধের)র জন্য ইংলন্ডে সোরার চাহিদা বাড়ে
বিশ্বজুড়ে যুদ্ধে এবং লুঠে লিপ্ত ইওরোপের নিজস্ব সোরার উত্পাদন কম পড়তে থাকে প্রাচীন কাল থেকেই ভারতে অভূতপরিমানে সোরা উত্পাদন হত ইওরোপের প্রত্যেকটি দেশের চোখ পড়ল ভারতের সোরার দিকে প্রথম দিকে ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, ভিওসি, প্রভূত পরিমানে সোরা তাদের দেশে নিয়ে যেত এই ব্যবসায় পরে যোগ দেয় বৈমাত্রেয় ভাই ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৬১৭র কোম্পানির কোর্টের মিনিটসএ সোরা বিষয়ে আগ্রহের কথা পাওয়া যায় তখন ব্রিটেনে সোরা উত্পাদনে ঘাটতি দেখা দিচ্ছে ১৬৩৪এ নৌবাহিনীর কমিশনারেরা নিষেধাজ্ঞা তুলে ভারত থেকে সোরা আমদানির অনুমতি চাইছেন সেই বছরেই আমদাবাদের সোরা সুরাট থেকে ব্রিটেনে পাঠানো হয়
ভারতে  নানান স্থানে সোরা উত্পন্ন হত তবে ব্রিটিশেরা প্রথম সোরা সন্ধান শুরু করে করমন্ডল তটরেখা ধরে পরে আহমেদাবাদ, আগিরা, বুরহানপুর এবং কোঙ্কন উপকূলের রাজপুর থেকে সোরা বাণিজ্য শুরু হয় পরে ওড়িশা, বিহার এবং বাংলা থেকে সোরা কেনা শুরু হল সোরা উত্পন্ন হওয়ার এলাকায় একের পর এক কুঠী তৈরি হল ১৬২৫এ কোম্পানি ভারত থেকে এক লপ্তে ৪৫ টন সোরা ইংলন্ডে রপ্তানি রপ্তানি করে ১৬৩০ সালে এই পরিমান বেড়ে দাঁড়ায় ৬৯৭ চার্লস(কত!) ১৬৩১এ চার্লস জাহাজে ৭০০ চার্লসএর কাছাকাছি পরিমান সোরা রপ্তানি হল ১৬৩০সালে কোম্পানি ২০০ টন সোরা রপ্তানি করে ১৬৩৯এ পরিমান ছিল ৩৩ টন ১৬৪৩ থেকে ১৬৪৮ পর্যন্ত কোম্পানি বছরে গড়ে ৪০ টন সোরা লন্ডনে পাঠাতে থাকে ইংলন্ড থেকে অনেকসময় ইওরোপের নানান দেশ, যেমন আমস্টার্ডামে রপ্তানি হত ১৬৩৫ থেকে ইংলন্ড থেকে বারুদ রপ্তানি নিষিদ্ধ হল রাজারা বারুদের ব্যবসা করার অধিকার নিজেদের হাতে নিয়ে এল চাহিদা থাকা সত্বেও ষোড়শ শতকে নীল অথবা ক্যালিকোরমত বিশাল পরিমান বাণিজ্য করতে পারে নি সোরা তখন সেটি শুধু জাহাজে বালাস্টরূপে ব্যবহৃত হতে থাকে  ১৬৪৬এ ঔরঙ্গজেব বিদেশিদের সোরা ব্যবসায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেন কিন্তু এতদসত্বেও কোম্পানি কুঠিগুলির তথ্য বলছে তারা নির্দিষ্ট পরিমান সোরা সংগ্রহ করত
পাটনায় কুঠী স্থাপন হওয়ার পর থেকে ব্রিটিশ সোরা ব্যবসার পরিমান বাড়তে থাকে লুঠে উন্মত্ত ইওরোপের বারুদের চাহিদা বৃদ্ধি পেতে থাকায় সোরা ব্যবসায় নতুন করে মন দিল ব্রিটিশেরা ১৬৫৩তে ভারত থেকে ২০০ টন সোরা রপ্তানি হয় কোম্পানির একচেটিয়া সনদ পাওয়ার পর বাংলা এং বিহার থেকে বছরে ৮০০ টন সোরা রপ্তানি করতে শুরু করে কোম্পানি এই কাজে বিহারে ভিত্তি স্থাপন করল
ইংলন্ডের গৃহযুদ্ধ সোরা এবং বারুদের চাহিদা বাড়িয়ে তোলে রাজ্য এবং ব্যবসা চালানোয় সোরা এবং বারুদের গুরুত্ব এবং একই সঙ্গে এই দ্রব্যগুলোর অপ্রতুলতার দরুণ এটি ক্রমশঃ কোম্পানির মুখ্য ব্যবসা হয়ে ওঠে ইংলন্ডের রাজা তার সার্বভৌমত্ব বজায় রাখতে সোরা আর বারুদের ওপর নিয়ন্ত্রণ কায়েম করেন এবং তখন থেকেই কোম্পানি একমাত্র সরবরাহকারী হয়ে পড়ল সরকারকে কোম্পানি বড় পরিমানে সোরা সরবরাহ করত প্রতি ওজন ৪ পাউন্ড
Post a Comment