Saturday, February 16, 2013

The Indian saltpeter trade, the military revolution and the rise of Britain as a global superpower. জেমস ডব্লিউ ফ্রে


সপ্তম অংশ

জেমস ডব্লিউ  ফ্রে, অসকোস, উইসকনসিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপক। তিনি বাঙলা সুবার পাটনার সোরা ব্যবসা সম্বন্ধে বিশদে ইতিহাস রচনা করেছেন. এই ইতিহাস যেমন মনোগ্রাহী, তেমনি বাঙলার ইতিহাস এবং প্রযুক্তি চর্চকদের আর শিক্ষার্থীদের কাছে শিক্ষার বিষয়. ব্রিটিশ আধিপত্য বিশ্লষণে নানান দিকগুলি এর আগে বিশদে বিশ্লেষিত হয়েছে, কিন্তু সেই আলোচনায় সোরার ভূমিকার কথা আর সেই উত্পাদনে বাঙলা সুবার পাটনার কথা খুব একটা উঠে আসে নি। বলা দরকার প্রাচীন কাল থেকেই ১৯০০ সাল পর্যন্ত পাটনা বিশ্ব সোরা বাজারে বিশাল এক ভূমিকা নিয়েছে. এই ইতিহাস আমরা বিশদে এই প্রবন্ধে কয়েকটি অংশে ভাগ করে দেখব. এবারে সপ্তম অংশ. 
বিশ্বেন্দু


১৭৯৩ থেকে ১৮০৩ পর্যন্ত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ব্রিটেনের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত আয়ুধ দপ্তরকে ২৫,১৬৭.৮ টন সোরা সরবরাহ করে এই পরিমান ব্রিটেনের ব্যক্তিগত মালিকানায় চলা সোরা কোম্পানিগুলির উত্পাদন পরিমানের সমান ১৭৯১তে Act XXXI of George III (1791), chapter 42এর আইন বলল কোম্পানিকে একতৃতীয়াংশ দামে সরকারকে সোরা সরবরাহ করতে হবে ভারতে যখন কোম্পানির রোজগারের খাতায় আয়-ব্যায়ের বৈষম্য বেড়ে চলছে, তখন এই ব্যবসায় ৪ লক্ষ ৩৬ হাজার পাউন্ড স্টারলিং ক্ষতি হয় ১৮১১ সালে সোরা ব্যবসায় একচেটিয়া অধিকার চলে যাওয়ায় কোম্পানির ডিরেক্টররা হাঁফ ছেড়ে বাঁচে ১৮১২র যুদ্ধে হেরে আটলান্টিক থেকে ছিটকে আসা ব্যবসায়ীরা পাটনা সোরা বাজারে হামলে পড়ল এরা নেপোলিয়নের সঙ্গে শেষ দিকের যুদ্ধে লন্ডনে অসম্ভব পরিমানে সোরা সরবরাহ করতে থাকে পাটনবার বাজারে একসঙ্গে এত খরিদ্দার ঢুকে পড়ায় বাজারে গোলমাল বাধতে শুরু করে কোম্পানির সঙ্গে ব্যবসা করে সন্তুষ্ট দাদনি বণিকেরা ১৮১৩তে বাজারের ওঠাপড়া বন্ধকরে কোম্পানিকে বাজারে ফিরিয়ে আনে কোম্পানি দেখল, ইওরোপের যুদ্ধ হওয়া সত্বেও সোরার দাম বাড়ছে না, বরং চাহিদা কমতে শুরু করেছে ১৮১৫ থেকে ১৮৩০এর মধ্যে কলকাতা বন্দর হয়ে বছরে ১৫২৫২ টন  সোরা কলকাতা বন্দর দিয়ে রপ্তানি হয় যুদ্ধের সময়ের একতৃতীয়াংশ
১৮৫০ সালেও পূর্বভারতই সোরা ব্যবসার কেন্দ্র হয়ে দাঁড়ায় পাটনার সোরা উত্পাদনের ওপর নির্ভর করে ব্রিটিশ পরিকল্পিতভাবে পরপর কূটনৈতিক ও সামরিক সাফল্য লাভ করতে থাকে দক্ষিণের সোরা কেন্দ্রগুলো আবার নতুন করে খোলার কাজ শুরু হল সালেম, কোয়েম্বাটোর, মাদুরাই এবং ত্রিচিনাপল্লী এবং ভেলোরসহ কৃষ্ণা জেলার বহু অংশে সোরা উত্পাদন শুরু হল উত্তরে, আরও উত্তরের দিকে সোরা কেন্দ্র খোঁজার কাজ চলতে থাকে
নতুন ধরণের অস্ত্র, লাভজনক নতুন নতুন বাজার আর একচেটিয়া ব্যবসা সত্বেও সোরা ব্যবসায় কোম্পানির ক্ষতি সহ্য করতে হচ্ছিল এই ক্ষতির দায় চাপানো হল ভারতের আপামর জনগণের ওপর এর পর আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র হয়ে ওঠে পাটনার সব থেকে বড় সোরার বাজার আমেরিকায় বিশাল পশ্চিমাঞ্চলে জঙ্গল সাফ, পরিকাঠামো তৈরির কাজ এবং চাষের কাজে নাইট্রেট ব্যবহার হতে শুরু করে বিহারের সোরা ব্যবসার ওপর নির্ভরশীলতা কাটাতে দুপঁ কোম্পানি গবেষণায় শিল্পক্ষেত্রে সোরার বিকল্প হিসেবে সোডা পাউডারের প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে তবে আমেরিকায় গৃহযুদ্ধ তাকে শেষ পর্যন্ত আবার টেনে নিয়ে আসে পাটনায় যুদ্ধ শুরুর সময় আমেরিকায় সোরা রপ্তানির পরিমান তিনগুণ বাড়ে, ৬ লক্ষ পাউন্ড স্টার্লিং পরে যুদ্ধ শেষের দিকে তা ৯ লক্ষ পাউন্ড স্টার্লিং হয়ে দাঁড়ায়
এদিকে ১৮৩০এ ব্রিটিশ বিনিয়োগে পেরুতে সোরা তৈরির কাজ শুরু হয় পাটনা থেকে মুখ ফিরিয়ে ব্রিটেন জার্মানি আর ফ্রান্স পেরুর সোরা আমদানি করতে থাকে পাটনা দ্রুত বিশ্ব বাজার হারাতে থাকে কিন্তু পাটনার সোরা আমেরিকা আমদানি করতে থাকে নিয়মিতভাবে এমনকী ব্রিটেনের থেকেও বেশি পরিমানে ১৯০৪-১৯০৫এর ভূতত্ব সর্বেক্ষণের সোরার সমীক্ষা বলছে, শুধু উত্তর ভারতের ৩৯৯টি সোরা কারখানা বছরে ১৯,৪৩৮.৮ টন সোরা রপ্তানি করেছে এর মধ্যে ২৮১টি কোঠি বিহারের নিযুক্ত ছিল ৫০,৪৬৯ কর্মী এবং বছরে ৪১ লক্ষ টাকা রোজগার করত পাটনার সোরা বাজার মরে যাওয়াতো দূরস্থান, বড় শিল্প, চাষ আর বাজি তৈরির শিল্পে নতুন করে বাজার খুঁজে নিল ১৯০৯এ জার্মানির হেবার-বশ পদ্ধতিতে তৈরি সোডিয়াম নাইট্রেট আবিষ্কার পাটনার সোরা ব্যবসা প্রায় বন্ধ হয়ে যেতে বসে ১৯২০তে চিলির সোরা বাজার থেকে হটে যায় প্রথম বিশ্বযুদ্ধ আবার পাটনাকে সোরা ব্যবসার কেন্দ্রস্থলে নিয়ে আসে
আমরা এই প্রবন্ধে দেখলাম, ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সোরার ওপর নিয়ন্ত্রণের এক বড় প্রভাব পড়েছে, ভারতে ব্রিটিশরাজের রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাব বৃদ্ভিতে শুধুনয়, বিশ্বের ইতিহাসেও যদিও সাম্রাজ্যের সাফল্যের সব কিছুই সোরার ওপর নির্ভর করত না
Post a Comment