Saturday, November 23, 2019

মহারাষ্ট্রীয় অভিচার - বিচার শাসনের মত ঔপনিবেশিক কাঠামোর দফারফা

আজ মহারাষ্ট্র যা হচ্ছে, সেটা বঙ্গভাগের পরে শুরু করেছিল কিন্তু কংগ্রেসি এবং তাদের থেকে বেরিয়ে আসা নানান দল। এই ঔপনিবেশিক শাসন, বিচার আর্থব্যবস্থার কাঠামোয় নানান অভিচার অতিচার করেও তাদের শেষ অবদি এই ঔপনিবেশিক কাঠামো রক্ষার দায় ছিল। তারা উত্তরাধিকার সূত্রে এই কাঠামোগুলি ব্রিটিশবাবাদের থেকে লাভ করেছিল। উপনিবেশ উত্তর ভারতে নানান ঔপনিবেশিক কাঠামো তারা তৈরি করে। এই কাঠামো ব্যবহার করে ইন্ডিয়া রাষ্ট্র মূলত ছোটলোকেদের কতল, আর যতটুকু ধনসম্পদ তাদের হাতে অবশেষ ছিল সেগুলি কেড়ে নেয়। একই সাথে ভদ্রলোকেদের আর বড় পুঁজির শ্রীবৃদ্ধি ঘটায়। ভারত রাষ্ট্র পুঁজি আর পুঁজির প্রধান সেবক ভদ্রলোকদের জন্যে দ্বারা এবং উদ্দেশ্যে কাজ করতে থাকে। বাজপেয়ী সরকারও নানান টানাপোড়েনের মধ্যে সেই ঔপনিবেশিক কাঠামো বজায় রাখার চেষ্টা করে গিয়েছে।
নতুন যারা ক্ষমতায় এসেছে তাদের উপনিবেশিক কাঠামো রক্ষা নিয়ে নিয়ে কোনও মাথা ব্যথা নেই। ফলে তাদের উপনিবেশিক সম্পদ/কাঠামো/তত্ত্ব রক্ষার দায় নেই। তারা মনের আনন্দে উপনিবেশিক কাঠামোর নানান সম্পদ পুঁজিতে লীন করাচ্ছে আর সেগুলির নানানভাবে সম্মানহানি ঘটাচ্ছে।
অথচ উপনিবেশ কাঠামো ভাঙ্গার পরবর্তী সময়ের নতুন সমাজ অর্থনীতি রাষ্ট্র ব্যবস্থা, তার কাঠামো ইত্যাদি কী হবে সেটা চর্চা বা বোঝার দায় বা ক্ষমতা কোনওটাই নেই নব্য লুঠেরাদের। আজ তাই ২৫০ বছর ধরে প্যাম্পারিত ঔপনিবেশিকতায় জারিত ভদ্রলোকেদের সামাজিক নিরাপত্তা যেমন প্রশ্নের সামনে পড়েছে, তেমনি উচ্ছেদে মশগুল থাকা নেহেরুর উত্তরাধিকারীরা অভদ্রদের হাতে যতটুকু সম্পদ রেখেছিল, সেটাও ডিমনি করে কেড়ে নেওয়া হয়।
শেষ অবদি উপনিবেশের কাঠামোগুলো বরবাদ হতে থাকলেও শুধু বড় পুঁজির উদরপূর্তি ছাড়া কোনও পক্ষেরই কোনও লাভ হয় না।
---
তাত্ত্বিকভাবে জাতিরাষ্ট্রের এর থেকে বেশি দূর যাওয়ার ক্ষমতা নেই। বিশ্বজুড়ে এই ঘটনাই ঘটছে। ভারত ব্যতিক্রম নয়।

No comments: