Thursday, February 11, 2016

উপনিবেশবাদ বিরোধী চর্চা: কৃষি লুঠ কথা



প্রয়াত আর এইচ রিচারিয়া ছিলেন দেশের অন্যতম প্রধান কৃষি, ধান বিশেষজ্ঞ। আজকের দিনের দেবল দেব বা অনুপম পাল যে বৈপ্লবিক কর্মটি করছেন, সেই কাজটি তিনি শুরু করেছিলেন পাঁচের দশক থেকে তখন ভারতীয় কৃষিতে ফোর্ড, রকফেলার ফাউন্ডেশন সহ বিভিন্ন আন্তির্জাতিক দাতা এবং বহুপাক্ষিক সংগঠনের সহায়তায় ভারত সরকার দেশজ কৃষির বৈচিত্রময় বনিয়াদ ধ্বংস করে নিয়ে আসছে বহুজাতিকদের উৎপাদন তত্ত্ব অনুসারী বৈচিত্রহীন লাভজনক অর্থকরী কৃষিকর্ম অজুহাত ভারতের মানুষ ভুখা মরছে – ভারতের কৃষির ক্ষমতা নেই মানুষকে খাওয়ানোর – তাই প্রয়োজন নয়া কৃষি বিপ্লবের – হিংসামূলক আধুনিক প্রযুক্তির মূলভাবগুলি প্রয়োগ করে বামম্পন্থীদের খাদ্যের দাবিতে রাস্তায় নামিয়ে, মধ্যবিত্তের মগজ ধোলাই করে শুরু হল নতুন কৃষি বিপ্লব – আদতে ঔপনিবেশিক লুঠ(এই নিয়ে জয়া মিত্র সম্পাদিত ভূমধ্যসাগর পত্রিকার পুরোনো এক সংখ্যায় একটি অনবদ্য সম্পাদকীয় রয়েছে)
ভারতে শুধু  ধান বা গম নয়, নানান ধরণের দানা শস্যও মানুষ রোজকার খাবার হিসেবে খেত। মনে আছে আটের দশকের মাঝের দিকে আমরা যখন অর্থনীতিতে সাম্মানিক নিয়ে পড়াশোনা করছি, তখনও দেশজ কৃষিকে পিছিয়ে পড়া বা প্রিমিটিভ এবং ধান বা গম ছাড়া অন্যান্য দানা শষ্যকে আচ্ছেদ্দা করে লেসার গ্রেন হিসেবে দাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তো রিচারিয়াজী ভারত সরকারের বড় পুঁজির হাতে কৃষিকে তুলে দেওয়ার তত্ত্বের বিরোধী ছিলেন – ফলে যখন আজকের জৈব কৃষির অন্যতম প্রবক্তা স্বামীনাথন দেশজ কৃষি ধ্বংস করতে উঠে পড়ে লেগেছেন বহুজাতিকদের সরাসরি সমর্থনে, তখন রিচারিয়াজীকে ছুঁড়েফেলা হচ্ছে বিস্মৃতির অন্ধকারেতিনি নিজস্ব উদ্যোগে ১৯০০০ ধান নথিভূক্ত করেন এবং বহু সংখ্যক ধান সংগ্রহ করেন। তিনি সরাসরি আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা সংস্থার রচিত ভারতীয় কৃষির যন্ত্রীকরণের এবং গবেষণাগারে জিন ইঞ্জিনিয়ারিং এবং রাসায়নিক দিয়ে বীজগুলির সংকর করার এবং মাঠে নির্বিচারে রাসায়নিক প্রয়োগের সরাসরি বিরোধিতা করায়, সরকারি এবং রাজনৈতিক দলগুলির বিরাগভাজন হন। ১৯৮৬ সালের দ্য ইলাস্ট্রেটেড উইকলি অব ইন্ডিয়া ‘পদদলিত, কিন্তু হারি নি’ শীর্ষক রিচারিয়াজীর একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ করে।
ক্লদ আলভারেজের নেওয়া তার সেই সাক্ষাতকারের বঙ্গানুবাদটি তুলে দেওয়ার আগে বলা যাক, তার সংগ্রহ করা ১৯০০০ দেশীয় বীজ ছত্তিশগড়ের ইন্দিরাগান্ধী এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটির হাতে ছিল। সঙ্গে জুড়েছিল আরও ৫০০০টি প্রজাতি। ২০০২ সালে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ ২৪০০০টি বহুজাতিক কৃষি সংস্থা সিনজেন্টাকে ‘বৈজ্ঞানিক গবেষণার’ জন্য তুলে দেওয়ার চুক্তি করে। কোম্পানিটি সেই বীজগুলিকে জিন পরিবর্তন করে বাজারে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেই খবর স্থানীয় একটি পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ায় চুক্তিটি আটকে যায়।
ধান বিষয়ে রিচারিয়াজীর বক্তব্য ছিল সহজ সাধারণ। তার লেখা Our Strategy on the Rice Production Front in Madhya Pradesh (Raipur: M.P. Rice Research Institute, 1979, pp. 5-6) বই তে তিনি বলছেন The reasons (whatever they be) why growers have stuck to such a high number of rice varieties and still go on increasing them cannot be overlooked. This deep-seated attitude of the growers alone is responsible for the reason why the new plant types [of Government] have, as yet, not penetrated into our rice culture and which have saved us from a crisis on the rice front when the inputs, required for the new types, are in short supply.
The growers would not give up the cultivation of such reputed rice varieties as Dubraj of Sehava Nagari, Chinnor of Balaghat, Kalimuchh of Gwalior and Til Kasturi, Badshahbhog, Basmati, Tulsibhog and many other quality rice. Practically in every Block, some types of quality and scented rice varieties are grown and which remain confined to those localities and are in great demand, well known and locally recognized, e.g. Chini Samundra, Tulsi-Bas, Ghandhak, Manki Kathi, Chameli and Ilaychi. There are many other varieties with high yield potential, such as Pandri Luchai, Chhatri and Safri group of paddy which yield at 3000 kg/ha, on the average, under the existing fertility.
The rice growers would also not give up the cultivation of such types as Assam chudi and other chudi types which are mostly confined to the Bastar region, because of climatic preference and some of them being also tolerant to non-lodging. Such types as Nariyal chudi yield as high as 42 bags/acre or 7780 kg/ha, and Naina Kajal, an early maturing rice variety, giving a similar yield. Varieties such as Alcha, Sonth, Gaduwan, Karhani and Maharaji, known locally for their medicinal properties and which form a special class by themselves would not be given up. Whether this rice therapy is a myth or not remains to be seen, as their action cannot be explained in modern scientific terms, but the fact remains that their cultivation will not be easily given up. The Nagkeshar group of rice varieties, utilized for eradicating wild rice (Karga), an age-old practice in Chhattisgarh, of which there are about 42 varieties, adapted to the local practice of rice cultivation, cannot be dropped, although they are low yielders because of the specialized function they perform in increasing the yields indirectly.
Post a Comment