Monday, June 9, 2014

কেরলের জোতির্বিদ অচ্যুত, Acyuta The Astronomer of Kerala

কেরলে অচ্যুতের পরিচয় হল ত্রিকন্ত্যিয়ুর অচ্যুত পিসারতি। ত্রি-ক-কন্তুয়ুর, সংকৃতে কুণ্ডপুর, দক্ষিণ মালাবারের তিরুরের কাছে একটি জনপদ। এখানে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। পিসারতি তাঁর জাতির নাম। তাঁর জাতির মানুষেরা মন্দিরের বাইরের কাজগুলি (এক্সটারনাল ফাংশানারিজ) করতেন। তিনি ব্যাকরণ এবং জ্যোতির্বিদ্যায় অদ্ভুত পারদর্শী ছিলেন। তিনি স্বয়ং জয়স্থদেবের শিষ্য এবং অচ্যুতের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন ভেট্টাটুনাদএর রাজা রবি বর্মা(শ্রীযুক্ত প্রকাশ-বিশ্ব prakasa-visaya)। ভেট্টাটুনাদ আজকের দক্ষিণ মালাবারের পোন্নানি তালুকের উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। কবি বাসুদেব, ভৃঙ্গসন্দেশ পুস্তকে অচ্যুতের জ্যোতির্বিদ্যা বিষয়ক জ্ঞানের বিষয়ে প্রভূত সাধুবাদ জানিয়েছেন। অচ্যুতের শিষ্য নারায়ন ভর্তৃহরি গুরুর কাছে ব্যাকরণ শিখে বলছেন তাঁর গুরু শুধুই ব্যাকরণ বা জ্যোতির্বদ্যাতেই পারদর্শী ছিলেন না, তাঁর আয়ুর্বেদ আর পোয়েটিক্সএও যথেষ্ট বুৎপত্তি ছিল।
অচ্যুত তাঁর শিক্ষক জীবনে বহু শিষ্য তৈরি করেন। তাদের মধ্যে প্রধানতম শিষ্যরা হলেন মেলপুত্তুর নারায়ণ  ভর্তৃহরি, যিনি আজও কেরলের অন্যতম প্রধান কবি এবং তিনি প্রক্রিয়াসর্বস্ব নামে পুঁথি ছাড়াও বহু গ্রন্থের প্রণেতা। এছাড়াও রয়েছেন অচ্যুতের বেশ কিছু প্রখ্যাত ভাবশিষ্য  – ত্রিপনিক্কর পোডুভাল, নব্যয়িককুলত্তু আঝাতি, পুলিমুখাট্টু পোট্টি এবং নেদুমপায়িল কৃষ্ণ আসান। এঁরা অনেক পরে জ্যোতিষ বিষয়ে তাঁর অনেক পুস্তক অনুবাদ করেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় প্রত্যেকে নিজের সময়ে উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক ছিলেন। শিষ্যদের ঔজ্জ্বল্য আদতে গুরুর প্রতিভাকেই প্রোজ্জ্বল করে তোলে(শিষ্যপ্রসিদ্ধির যশাসে গুরুনাম্‌), এই আপ্ত বাক্যটি অচ্যুতের ক্ষেত্রে অসম্ভব প্রযোজ্য।
সময়
যতদূর সম্ভব তাঁর আবির্ভাবের বছরটি হল ১৫৫০ সাল। তাঁর প্রখ্যাত শিষ্য নারায়ন ভর্তৃহরি ১৫৬০ সালে জন্মান(সূত্র এস ভেঙ্কিটসুব্রমণিয়া আইয়ারের সম্পাদনায়, নারায়ণ ভট্টের প্রক্রিয়াসর্বস্ব)। বিদ্যাত্ম্য স্বরসরপাট নারায়ণ ভর্তৃহরির গুরুর মৃত্যু বিষয়ক পদ্যতে বলছেন তাঁর তিরোধান বছর ১৬২১ সাল।
অচ্যুতের রচনা
প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য রচিত ব্যাকরণ পুস্তক, প্রবেশক-ই অচ্যুতের একমাত্র ব্যকরণ পুঁথি পাওয়া গিয়েছে। জ্যোতির্বিদ্যা বিষয়ক পুঁথি স্ফূটনির্ণয়-তন্ত্রএর ছটি অধ্যায়ে তিনি অদ্ভুত দক্ষতায় গ্রহগুলির সংখ্যা নির্ণয় করেছেন। চয়ষ্টকতে তিনি চাঁদের শঙ্কু আকৃতির ছায়ার মাপ নিয়ে বিশদে আলোচনা করেছেন। এ ছাড়াও করণোত্তম-র পাঁচটি অধ্যায়ের পুঁথি, চার অধ্যায় বিশিষ্ট উপগ্রহ ক্রিয়া-কর্মএ তিনি চন্দ্র-সূর্‍্য গ্রহণের সময় নির্ণয় করেছেন। হোরাসারোচ্চয় (horasaroccaya)তে তিনি শ্রীপতির জাতকপদ্ধতির সাতটি অধ্যায় নিয়ে আলোচনা করেছেন আর সঙ্গমগ্রামের মাধবএর বেনবারোহ(venvaroha)র মালায়লম টিকা রচনা করেছেন।

সূত্র
তাঁর শিষ্য বিষয়ে জানতে ডায়রেক্ট লাইন্স অব এস্ট্রোনমিক্যাল ট্রাডিশন ইন কেরল, কে ভি শর্মা
অচ্যুতের রচনাগুলি জানতে পি এস আনন্তনারায়ণ শাস্ত্রীর কোচিন সংস্কৃত সিরিজ দেখতে হবে
স্ফূটনির্ণয়-তন্ত্র বিষয়ে জানতে কে ভি শর্মার মুখবন্ধ এবং ১০০ নম্বর জোড়াপাতা(এপেন্ডিক্স) দেখতে হবে
চয়ষ্টক বিষয়ে জানতে আগের বইএর ১০ নম্বর জোড়াপাতা দেখতে হবে

করণোত্তম বিষয়ে জানতে কে রাঘবন পিল্লাইএর সম্পাদনায় পুস্তকটি দেখতে হবে
Post a Comment