Saturday, August 27, 2016

ভারতীয় পশ্চিমী জ্ঞানচর্চায় সামরিকতার পদধ্বনি - যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় পাচ্ছে সামরিক গবেষণার জন্য ১০০ কোটি


 দীপঙ্কর শিবুদা ফেবু প্রকাশনায় এই খবরে কপাল কুঁচকেছেন; এবং সেটি পড়ে গেল গেল রব উঠেছে প্রগতিশীল সমাজে।
খুব ভাল। খুব ভাল। বন্দে বঙ্গমাতরম বলা বোধহয় ছাড়তে হবে।
এত দিন ভারতে সামরিক সাহায্যের প্রবণতা ছিল কিন্তু হাতে গোনা বিশ্ববিদ্যালয়ে, যারা ডিআরডিওর ভর্তুকি পেত। ভারতের মধ্যবিত্ত জীবনযাত্রায় পশ্চিমি সমস্ত আদবকায়দা নকল করছে, জ্ঞানচর্চায় তাদের পায়ে নিজেদের মাথা ঢেলে দিয়েছে। ক্রমশ সামরিকতার কেন্দ্রিকতা চেপে বসছে সারা ভারতীয় ভদ্রলোকিয় সমাজে আরও বেশি বেশি করে। কেন যে সেই সামরিকতার পশ্চিমি প্রবণতা ভারতের মধ্যবিত্তিয় জীবনযাত্রায় কেন ব্যপ্ত হবে না, তা এক জন গ্রামীন মানুষের স্বাতন্ত্র্য রক্ষার আন্দোলনের কর্মী হিসেবে বুঝে পাই না - কেন ভারতের মধ্যবিত্ত সামরিকতা বুঝতে শুধু যুদ্ধ বুঝবে - তার আগেও যে মারণ গবেষণার সলতে পাকানো হয় সেগুলিতে কেন 'আমাদের বুদ্ধিমান' ছেলেমেয়েদের অন্তর্ভূক্ত করা হবে না? কেন? কেন? কেন? পশ্চিম যদি তার সমাজকে ধ্বংস করে সামরিক জ্ঞানচর্চা নির্ভর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে তাহলে ভারত কেন পিছিয়ে থাকবে?
যুক্তি বুঝে পান না ভদ্রলোক সমাজ।
পশ্চিমের আগ্রাসী প্রাতিষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় খ্রিষ্ট ধর্মের যাত্রা শুরু হয়েছিল দেশগুলির পরম্পরার জ্ঞানী, পাগানদের জ্ঞান, প্রযুক্তি, জীবনযাত্রা লুঠ, ধ্বংস, হত্যা করে। নিজেদের দেশে উপনিবেশ তৈরি করাই পশ্চিমের ক্রমশঃ। পাগান ধ্বংস ক্রিয়ার সাফল্যের অভজ্ঞতা তারা ছড়িয়ে দিতে থাকে দেশে দেশে দিকে দিকে। সামগ্রিকভাবে সমগ্র ইওরোপ হয়ে ওঠে সামরিক সভ্যতার বিকাশ। সারা রাষ্ট্রের(সমাজ তখন মৃত, ব্যক্তিগত সামাজিক উদ্যোগ রাষ্ট্রের পায়ে মাথ কুটছে বেঁচে থাকার জন্য, যদি তা সামগ্রিকভাবে রাষ্ট্রের সামরিক এবং পীড়নশীল বিকাশের অংশীদার না হয়)।
লগে লগে 'এনলাইটমেন্ট'এর যুগ এল, পূর্ব থেকে সামাজিক, প্রাযুক্তিক, জ্ঞানের নানান দিক নথিকৃত(এবং চুরি - যার প্রধান বাহক হল ঝেঁটিয়ে দক্ষিণ ভারতের উপকূলে নামা নানান দেশের, মূলত ইতালির এবং ফ্রান্সের জেসুইট পাদ্রিরা) হয়ে চলে যাচ্ছে, তারা দেখছে ভারতে রাষ্ট্রীয় সামরিক উদ্যমের বাইরেই সামগ্রিক বিকাশ ঘটছে সগর্বে - গ্যালিলিও, নিউটন, লিবিনিতজ ইত্যাদি 'মহান'ও কাজ করেছেন রাষ্ট্রীয় সামরিক বিদ্যা বিকাশের লক্ষ্যে এটা যেন ভুলে না যাই।
এমতাবস্থায় কিছু ভাবুক সামরিকতার জ্ঞান চর্চার বাইরে রেরোতে চাইছিলেন। অথচ প্রায় প্রত্যেকটা জ্ঞানের ধারায় সামরিকতার উচ্চকৃত দখল। তাই তৈরি হল সিভিল উপসর্গ যোগে নানান শিক্ষা চর্চা (এঞ্জিনিয়ারিং)। কিন্তু সেটা খুব একটা বড় ভূমিকা পালন করে নি। আজও ইওরোপ আমেরিকার প্রযুক্তির বিকাশ ঘটে প্রাথমিক সামরিক প্রয়োজনে সামরিক রাষ্ট্রের উদ্যোগে সাধারণের পকেট কেটে - বিভিন্ন যুদ্ধাঙ্গনে সেটা পরীক্ষিত হয় বাস্তবিকভাবে মানুষ মেরে; পরে সেটা তুলে দেওয়া হয় কর্পোরেট নেতাদের হাতে, আরও বেশি মানুষকে কেন্দ্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণের জন্য, লুঠের জন্য।
আরও বেশি লুঠের জন্য প্রয়োজন মধ্যবিত্তকে আরও বেশি সামরিকী করণের আওতায় আনা।
সেই প্রবণতা বোধহয় বাংলায় ছিল না।
ভদ্রলোকেদের পরিবেশ সামরিকীকরণ শুরু হল।
বাংলা সেই প্রবণতার আওতায় এল।
জয় হিন্দ!
সূত্র - http://economictimes.indiatimes.com/news/defence/drdo-to-start-rs-100-crore-research-centre-at-jadavpur-varsity/articleshow/52884655.cms?from=mdr
Post a Comment