Tuesday, April 19, 2016

উপনিবেশবাদ বিরোধী চর্চা - ভারতের নিজস্ব জ্ঞানচর্চাকেরলিয় বিদ্যাচর্চা এবং নীলকান্ত সোমাইয়াজী

(http://iks.iitgn.ac.in/…/The-Traditional-Indian-Planetary-M…)
কৃষ্ণমূর্তি রামসুব্বামনিয়ম
শুদ্ধ ভদ্রলোকীয় ইওরোপবাদী না হলে যে কোন ভারতীয় জ্ঞানচর্চাকারী ব্যক্তিই স্বীকার করবেন ইওরোপে গ্রহনক্ষত্র জ্ঞান বিকাশের বহু আগে থেকেই কেরল বিদ্যাজীবিরা সে বিষয়ে বহু বছর এগিয়েছিলেন। সঙ্গমগ্রামএর মাধবএর(১৩৪০-১৪২০) সময় থেকে যে কেরলিয় জ্ঞানচর্চা শুরু হয় তা প্রবাহিত হয়েছিল বহু শতাব্দ পরেও। কেরলিয় বিদ্যাজীবিরা পাইএর অসীম সিরিজ, সাইন কোসাইন চলক এবং তার ফাস্ট কনভারজেন্ট আপ্রক্সিমেশনও নির্ণয় করেন। এই লেখায় লেখক দেখিয়েছেন কিভাবে মাধবের শিষ্য বটসেরির পরমেশ্বর(১৩৮০-১৪৬০) ৫৫ বছর ধরে গ্রহ চলাচলের নানান তথ্য নিরূপন করেন। তিনি পুরোনো পরহিত ব্যবস্থার স্থলে দ্রাগ-গণিত চালু করেন। ভারতীয় জ্যোতির্বিদ্যা চর্চায় তাঁর অবদান সুপ্রচুর।
ত্রাক্কান্তিয়ুরের নীলকান্ত সোমাইয়াজী(১৪৪৪-১৫৫০) পরমেশ্বরের শিষ্য দামোদরের পুত্র। তিনি ভারতীয় জ্যোতির্বিদ্যায় প্রভূত অবদান পেশ করেন। ১৫০০ সালে রচিত তন্ত্র সংগ্রহতে নবতম গ্রহনক্ষত্রের অবস্থান নতুন করে রচনা করেন। বিশেষ করে মন্দচ্চ আর শীঘ্রচ্চ গ্রহগুলি বিষয়ে তাঁর গণন কৃতি অসাধারণ। ফলে পূর্বসূরী বা ইসলামি অথবা গ্রিকো-ইওরোপিয় জ্ঞানচর্চকদের থেকে তিনি কয়েক কদম এগিয়েছিলেন। কেপলার তারো একশ বছর পরে এই কাজটি করবেন। নীলকান্ত যে তাত্ত্বিক গণনা করেছেন, তাঁর সঙ্গে কেপলারের গণনার সাযুজ্য অসাধারণ।
ফলে যে পথ ভেঙে পথ তৈরি করার কাজটি ইওরোপের আগে নীলকান্ত সোমাইয়াজী করেছেন, এবং তা ইওরোপতুল্য হয়েছে এমন ইওরোপিয়মুখ্যতায় আমাদের আস্থা নেই - বরং দাবি তুলব এই জ্ঞান কি সত্যিই ইওরোপে গিয়ে সেখানে 'নতুন' জ্ঞান সৃষ্টিতে সাহায্য করেছিল?
তিনি আর্যভটিয়-ভাষ্যে কেন তিনি নতুন করে গ্রহ নক্ষত্র বিদ্যা আলোচনা করতে গেলেন সে বিষয়ে বিশেদে লিখেছেন। তাঁর কৃতির আগে ভারতীয় কেন, বিশ্বে নানান জ্ঞানচর্চায়, পৃথিবীর কক্ষের বাইরের আর তার কক্ষের আর সূর্যের মধ্যে গ্রহের অক্ষাংশ নির্নয় করা হত আলাদাভাবে। প্রথমোক্ত গ্রহগুলির অক্ষাংশ নির্ণয় করা হত মন্দষ্ফূট তত্ত্বের দ্বারা আর দ্বিতীংশের নির্ণয় হত শীঘ্রচ্চ তত্ত্বের দ্বারা। নীলকান্ত প্রথম বললেন, অন্যকিছুর নয়, একমাত্র গ্রহের সাপেক্ষে এই অক্ষাংশ নির্নয় হয়, তাঁর উভয় গ্রহের অক্ষাংশ নির্ণয় করা যাবে শীঘ্রোচ্চ তত্ত্বের দ্বারা।
এবং এই বইতে তিনি তাঁর প্রস্তাবিত গ্রহতন্ত্রের ছবিও এঁকেছেন। নতুন তত্ত্ব তিনি আরও বিশদে বর্ণনা করলেন গোলসার আর সিদ্ধান্ত-দর্পনে। তাঁর শিষ্য জ্যেষ্ঠদেব গণিতযুক্তিভাষা-য়(১৫৩০খ্রি) তাঁর গুরুর কাজ আরও বিশদ-ভাবে বর্ণনা করবেন।
Post a Comment