Wednesday, March 23, 2016

ফারাক্কার আশনি সঙ্কেত

কলাবতী মুদ্রা যে আন্তর্জাতিক ক্রুজে অনুষ্ঠান করে, সেটি গঙ্গা বয়ে কলকাতা থেকে মুর্শিদাবাদ পর্যন্ত যায় - বিদেশি পর্যটকেদের এতই ভিড় থাকে যে মাসে চারটে ট্রিপ করতে হয় - কর্তৃপক্ষ জানিয়ে ছিলেন আগামী দু বছর তাঁদের জাহাজের সমস্ত ট্রিপ ভর্তি হয়ে গিয়েছে।
অথচ গত পনের দিন ধরে সেই ক্রুজ প্রায় বন্ধ। জানা গেল গঙ্গায় জলের অভাবেই জাহাজ খুব কষ্ট করেই যাতায়াত করছে - এবং শেষ পর্যন্ত বন্ধ করে দিতে হয়েছে। এই মাসে তিনটে দলের ভ্রমণ বাতিল করতে হয়েছে। অথচ বুকিং ছিল পয়লা বৈশাখ পর্যন্ত - সেগুলিও বাতিলের মুখে। কর্তৃপক্ষ জানালেন হয়ত এই মরশুমে হয়ত আর জাহাজ চালানো যাবে না।
ফারাক্কা বিষয়ে দূরদর্শী 'পাকিস্তানি চর' কপিল ভট্টচার্য যা বলেছিলেন, তা গত কয়েক দশক ধরে বর্ণে বর্ণে ফলে যাচ্ছে-
(১) গঙ্গা থেকে অপসারিত ৪০,০০০ কিউসেক জল সংযোগ(ফিডার) খাল কিম্বা হুগলী-ভাগরথী ধারণ করতে পারবে না।
(২) গঙ্গা এবং ভাগরথীর প্রবাহ রেখার উচ্চতার তারতম্যের জন্য জল প্রবাহ দুষ্কর হবে। ফলে গঙ্গা নদী তার স্বাভাবিক প্রবাহের জন্য অন্য পথ খুঁজবে।
(৩) ব্রক্ষপুত্রের তুলনায় গঙ্গা কম গতি শক্তির নদী - এবং এটি গঙ্গার নিম্নতম প্রবাহ। তাই গতিপথ হয় আঁকা-বাঁকা (meandering)। এক বাঁক থেকে আরেক বাঁকের দূরত্বকে বলে মিয়ান্ডার দৈর্ঘ্য এবং একটি নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে কয়টা বাঁক রয়েছে তাকে বলে মিয়ান্ডার ফ্রিকোয়েন্সি। হঠাৎ করে মৃতপ্রায় হুগলী-ভাগরথীর মধ্য দিয়ে কৃত্রিমভাবে বিপুল পরিমাণে পানি প্রবাহিত করলে হুগলী-ভাগরথী ও উজানে বিহার অবধি সব নদীর মিয়ান্ডার ফ্রিকোয়েন্সির উপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। ফলে ঐ সমস্ত নদীতে নদী ভাঙ্গন এবং চর সৃষ্টি হবে।
(৬) ভাটি অঞ্চলের সকল নদীর নাব্যতা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হবে।
(৭) শুষ্ক মরসুমে জল প্রবাহ কম হওয়ার জন্য জলবায়ুর পরিবর্তন হবে।
গত কয়েকদিন ধরে ২১০০ মেগাওয়াটের ফারাক্কা জলবিদ্যুৎ প্রকলপের বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ আছে। ফারাক্কা কর্মীদের বসতিতে ব্যবহারের জন্য জল পাওয়া যাচ্ছে না - জল কিনতে হচ্ছে - যেমন করে বাইরে থেকে বিদ্যুৎ কিনে বহু বাঁধের বিদ্যুৎ প্রয়োজন মেটানো হয়। সংযোগ খালে জল শুকিয়ে ফুটিফাটা।
দূরদর্শনে শোনাগেল ফারাক্কায় জলবিদ্যুত উৎপাদন বন্ধ। চ্যানেলগুলোর হাহাকার বিহার, ঝাড়খণ্ড আর বাংলা, অসম বিদ্যুৎ পাবে না - অথচ গঙ্গার মৃত্যুতে দক্ষিণবঙ্গের অর্থনীতি মরে যাবে - নিম্ন বাংলা মরতে বসেছে - সে কথা উঠছে না। শুধু অকালেই ক্রুজ বন্ধ বা বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হওয়া, নয় গত কয়েক দশকে গঙ্গার ভাঙ্গন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। কয়েক লক্ষ মানুষ ঘরবাড়ি থেকে ভাঙ্গনের জন্য উচ্ছেদ হচ্ছেন সর্বস্বান্ত হচ্ছেন বহু হাজার পরিবার।
এই বাংলা বা ভারত সরকার নতুন করে ভাবুক কি করা যায়।
Post a Comment