Saturday, May 21, 2011

বারাঠাকুরের জাতাল উত্সব

(পরিপার্শ্ব পার্ষদ পীর গোরাচাঁদ পুস্তক থেকে)
...বারাঠাকুরের পূজানুষ্ঠান জাতালের মধ্যেও আদিম সভ্যতার বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়. জাতাল পুজা হয় বনাঞ্চলে নিশীথকালে. বনের মধ্যে মাঠে প্রয়োজনমত জায়গা পরিষ্কার করে মাটির বেদী নির্মাণ করা হয়. খেজুর শাখায় সেই বেদী বেষ্টন করা হয়. বেদীর ওপর দুটি বারামূর্তি থাকে যার একটি পুরুষ অন্যটি নারী. কাছাকাছি কোন গাছের ওপর লাল পতাকা উড়িয়ে দেওয়া হয়. গভীর রাত্রে মশাল জ্বালিয়ে ঢাকঢোল বাজেয়ে মদ-মাংস-গাঁজা নৈবেদ্য দিয়ে, সেই বারা মূর্তি পূজা করা হয়. পূজায় কাঁস-পাঁঠা-মুরগী প্রভৃতি বলি দেওয়া হয়. বলিদেওয়া পশু পাখির রক্তে প্রাঙ্গণ ভেসে যায়. নেশায় মশগুল ভক্তরা কপালে রক্তের তিলক পরে মশাল হাতে নৃত্য করতে থাকে. কেউ কেু অশ্লীল অঙ্গভঙ্গী করে উক্তি-প্রত্যুক্তি করে. পূজা চলার সময় উত্কট চিতকার এবং প্রচন্ড বাজলার আওয়াজে কান ফেটে যাওয়ার উপক্রম হয়. জাতালে অশ্লীলতা যৌন শিথিলতা উতকট চিত্কার ইত্যাদি অবশ্য পালনীয় প্রথা. একটি লৌকিক ছড়ায় জাতালের বৈশিষ্ট্য ভারি সুন্দর ফুটে উঠেছে - জাতালে মাতাল কান্ড খুনোখুনি সারা/মদ-মাগী রক্ত-মাংস সামাল সামাল বারা.
দক্ষিণ রায়ের বারামূর্তি পূজায় ক্ষেত্র বিশেষে অনেকগুলি মুণ্ডমুর্তি পূজা হলেও সকাধারণ যুগ্মমূর্তির পূজাই হয়ে থাকে - যার একটি গোঁফযুক্ত পুরুষ, অপরটি নারী. অনেক ক্ষেত্রে, একক পুরুষমূর্তির পাশে জলঘটকে নারীমূর্তি কল্পনা করেও পূজা করা হয়. বারামূর্তি পূজা বাড়িতে হয় না- হয় বনে, বৃক্ষশাখে, বৃক্ষতলে বা নদীতীরে বা পানের বরোজে কিম্বা গ্রামের সীমান্তে. প্রায় সর্বত্র বারামূর্তির পাশে মনসা গাছ দেখা যায়. আদিমস্যতার সঙ্গে মনসার গাছের যোগ নিবিড়. বর্ণ হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় বারা ঠাকুরের পূজা করেন. ব্রাহ্মণ পুরোহিত, অন্যত্র শাস্ত্রমন্ত্রহীন লোকায়ত ভঙ্গিতে এঁর পূজা হয় গ্রাম বা সমাজগতভাবে.
Post a Comment