Sunday, October 29, 2017

গরীব কাহারে কয়৮ - উন্নয়নের বিশ্ব রাজনীতি তত্ত্ব

এনকাউন্টারিং ডেভেলাপমেন্টঃ দ্য মেকিং এন্ড আন্মেকিং অব দ্য থার্ড ওয়ার্লডঃ আর্তুরো এসকোবারএর বই থেকে

নৃতত্ত্ব এবং উন্নয়ন বিতর্ক
উপনিবেশ সম্পর্কিত তার প্রবন্ধগুচ্ছ নিয়ে রচিত বই, Anthropology and the Colonial Encounter (1973), তালাত আসাদ বলছেন আজও পেশাদার নৃতাত্ত্বিকেরা তাঁদের অধীতবিদ্যার মধ্যে যে ক্ষমতার কাঠামোটা রয়েছে, সেটা স্বীকার করতে গড়মসি করেন, বিশেষ করে খুবই ঝামেলার দুটি বিষয় উপনিবেশবাদ এবং নব্যউপনিবেশবাদ, এবং তাদের রাজনৈতিক অর্থনীতি এবং সঙ্গঠনগুলো বিষয়কে তারা উপেক্ষা করতে থাকেন। উপনিবেশবাদ একসময়ে একটি নৈকট্যমূলক ভূমিকা পালন করেছিল - যার দ্বারা মনে হয় তারা উপনিবেশের মানুষের একটা এক ধরণের মানবিক নৈকট্য তৈরি করছে। আদতে সে নৈকট্যের ভিত্তি নৃতত্ত্বের মাঠকর্ম নির্ভরশীল, এবং সেটা নিশ্চিত করে যে সেই নির্ভরতা এক রৈখিক এবং শর্তাধীন। এরই সঙ্গে বলা যায়, যদি ঔপনিবেশিক আমলে নৃতত্ত্বের লক্ষ্যচ্যুতি উপনিবেশের বৈষম্যমূলক বিশ্ব তৈরিতে হুঁশিয়ারি না হয়ে ওঠা বোঝায়, তাহলে কি একই অবস্থা আজকের উন্নয়নের অবস্থায় ঘটছে বলা যাবে না? মোটামুটি একই প্রাসঙ্গিকতায় আমরা বলতে পারি না নৃতত্ত্বের সঙ্গে উন্নয়নের বিতর্ক হোক।

এটা ঠিক যে উন্নয়ণের বিতর্কে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে যে মধ্যে যে প্রতর্কে গরীব ধনী এই বর্গে রাষ্ট্রগুলি বিভাজিত হল, সেই বিতর্কে সে সরাসরি অংশ নেয় নি বা সেটায় বড় ভূমিকা তার ছিল না এটা সত্য। যদিও অধিকাংশ নৃতাত্ত্বিক উন্নয়নের মূল উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, বিশেষ করে পরম্পরার মানুষদের পক্ষে দাঁড়িয়ে১২, কিন্তু বিপুল সংখ্যক নৃতাত্ত্বিক উন্নয়নের মূল কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংগঠন বিশ্বব্যাঙ্ক, ইউএসএইডএর মত সংস্থার সঙ্গে উন্নয়নের কাজে জুড়ে থেকেছেন। ১৯৭৫-১৯৮৫ পর্যন্ত এই সময়ে তাঁদের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহন বিষয়ে আমি বিশদে অন্য নানান যায়গায় আলোচনা করেছি। Stacy Leigh Pigg (1992) স্পষ্টভাবে বলছেন প্রায়োগিক নৃতাত্ত্বিক হিসেবে নৃতাত্ত্বিকেরা সরাসরি উন্নয়নকর্মের সঙ্গে জড়িয়েছিলেন, বা তারা উন্নয়ন প্রক্রিয়ার বাইরে দাঁড়িয়ে দেশজ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গী এবং তাঁদের কৃতি বর্ণনা করে গিয়েছেন। উন্নয়নকর্মের ভিতরে দাঁড়িয়ে অথবা বাইরে থেকে তাকে সমালোচনা করে উন্নয়নের কর্মকে কৃষ্টির রূপ দেওয়ার চেষ্টাকে প্রশ্ন করেছেন। হাতে গোনা কিছু নৃতত্ত্ববিদ((Taussig 1980; Fals Borda 1984; Scott 1985; Ong 1987; see also Comaroff 1985 and Comaroff and Comaroff 1991 for resistance in the colonial context)) সরাসরি উন্নয়নের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে লড়ায়ের প্রচেষ্টার ব্যখ্যাকার হয়েছেন।

উন্নয়ন একটি প্রশাসনিক বিষয়, নৃতত্ত্ববিদদের এই প্রতর্কে না ঢোকাটা একটা দুঃখজনক বিষয়। যদি সত্য হয় যে তৃতীয় বিশ্বের ধারণা তৈরির প্রচেষ্টা থেকে উপনিবেশবাদ অনেকটা সহনশীল, কিন্তু মনে রাখতে হবে সাম্রাজ্যবাদীদের থেকে উন্নয়নবাদীরা কম অনুপ্রবেশকারী(pervasive) এবং কার্যকর ছিলেন না। হয়ত এই দুটি বিষয় অনেক কাছাকাছিরও বটে। সঈদ দুঃখ করে বলছেন, সাম্প্রতিক আমেরিকিয় তাত্ত্বিকেরা আলোচনায় আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদী তাত্ত্বিকতা কিভাবে আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদী দখলদারি চরিত্রকে তৈরি করল, সে বিষয়ে প্রতর্কেযুক্ত থাকেন না বলা চলে। এই সাম্রাজ্যবাদী দখলদারির নানান স্তর রয়েছে অর্থনৈতিক, সামরিক, রাজনৈতিক, এবং কৃষ্টিগত – যেগুলিকে উন্নয়নের কারবারিরা একসঙ্গে জুড়ে নিয়ে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ করেন। সঈদ আরও বলছেন, যেভাবে পশ্চিমি তাত্ত্বিকেরা তৃতীয় বিশ্বের জ্ঞানচর্চকদের সমালোচনামূলক উপনিবেশ, ইতিহাস, পরম্পরা এবং কর্তৃত্ব – এবং এখানে আমি জুড়তে পারি উন্নয়ন বিষয়ক – আলোচনা নিয়ে বিন্দুমাত্র মাথা ঘামান এমন কোন নিদর্শন দেখতে পাওয়া যায় না। তৃতীয় বিশ্ব থেকে উন্নয়নের প্রতর্ককে এক্কেবারে রদ করার গলা চড়ছে নৃতাত্ত্বিকদের এটা সুখবর।

১৯৭০র দিকে নৃতত্ত্বের বিপুল গভীর পরিবর্তন আসে, সে বলার চেষ্টা করে শুধু পশ্চিমী জীবনযাত্রাই একমাত্র পথ নয় বরং সারা বিশ্বজুড়ে নানান ধরণের পথ আছে এবং সেটা তৃতীয় বিশ্বের মানুষের পক্ষে উপযোগী (Strathern (1988, 4))। এই আত্মসমালোচনামূলক মন্থন থেকে একটা বিষয় উঠে আসে, সেটা হল, অন্যদের নিয়ে লেখালিখি, বিতর্ক নিয়ে কোন ঝামেলা নেই, কিন্তু সেটা করতে গিয়ে প্রান্তিক দাগিয়ে দেওয়ার অধিকার কারোর নেই। এই প্রতর্কে নিগুঢ এবং গঠনমূলক ধারণা ক্রমশ উঠে এল যে, কৃষ্টি আদতে মিথস্ক্রিয় এবং ঐতিহাসিক(Clifford 1986,)। নৃতাত্ত্বিক লেখালিখিতে এই বিষয়ে যে পরিবর্তন ঘটল ‘তারা অভূতপূর্ব রাজনৈতিক এবং ঐতিহাসিক চেতনা নিয়ে কৃষ্টিগত বৈচিত্রকে উপস্থাপন করতে লাগলেন।(Marcus and Fischer 1986)’।

গরীব কাহারে কয়৭ - উন্নয়নের বিশ্ব রাজনীতি তত্ত্ব

এনকাউন্টারিং ডেভেলাপমেন্টঃ দ্য মেকিং এন্ড আন্মেকিং অব দ্য থার্ড ওয়ার্লডঃ আর্তুরো এসকোবারএর বই থেকে
আরেকটি বিনির্মানিক প্রচেষ্টা হল স্যাক্সের The Development Dictionary: A Guide to Knowledge as Power। উন্নয়নের প্রতর্কে বাজার, পরিকল্পনা, জনসংখ্যা, পরিবেশ, উৎপাদন, সাম্য, অংশগ্রহণ, চাহিদা, দারিদ্র এবং এই ধরণের নানান শব্দ ব্যবহার করে বিশ্লেষণ করা হয়। ইওরোপিয় (অ)সভ্যতায় এই শব্দ(বা ধারণা)গুলোর বিবর্তন লক্ষ্য করে প্রত্যেক অধ্যায়ে বিশ্লেষণ করা হয়েছে ১৯৫০এর পর আজ পর্যন্ত এই ধারনাগুলো কিভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।
এই বইএর উদ্দেশ্য হল এই ধারনাগুলির যদৃচ্ছ ব্যবহারের বিরুদ্ধে কলম ধরা, সেগুলির কৃষ্টিমূলক ও ঐতিহাসিক কুড় খুঁজে বার করা এবং কিভাবে এই ধারণাগুলি ব্যবহার করা হয়েচক্সহে তৃতীয়বিশ্ব নামক একটি বিমূর্ত ধারণা তৈরি করতে৮। এই ধরণের আরেকটি দল কাজ করছেন ‘জ্ঞানের ব্যবস্থা’ নামক বিকাশশীল একটি জ্ঞানচর্চায়। এই দলটি বিশ্বাস করে কৃষ্টি, শুধু প্রথা বা নৈতিকতা ভিত্তি করে গড়ে ওঠে না, বরং কিভাবে জ্ঞান অর্জিত হচ্ছে সেটার ওপরেও নির্ভর করে। উন্নয়ন শুধু একটা জ্ঞানচর্চা অর্থাৎ আধুনিক পশ্চিমি জ্ঞানচর্চার ওপর নির্ভর করে গড়ে উঠেছে। এই জ্ঞানচর্চার একাধিপত্য অপশ্চিমি জ্ঞানচর্চাকে প্রান্তিক বা অযোগ্য প্রমান করে ছেড়েছে। এই পরবর্তি জ্ঞানচর্চাগুলিতে এই লেখক সমেত, আগ্রহী এবং গবেষকেরা আর্থিক বা খণ্ডিতকরণের বাইরে বেরিয়ে এসে সামাজিক কাজকর্মগুলিকে অন্যরকমভাবে বোঝার চেষ্টা করছেন।
১৯৭০এর দশকে হঠাৎ আবিষ্কার করা গেল মহিলাদের এড়িয়ে উন্নয়ন কর্মীরা কাজ করে চলেছেন। এই ‘আবিষ্কার’ ঘটায় ১৯৭০ এবং ১৯৮০র দশকগুলোয় নতুন এক ধারনার বিকাশ ঘটল উন্নয়নে নারীরা(উইমেন ইন ডেভেলাপমেন্ট)। এই ধারণাটাকে পরের দিকে চন্দ্রা মোহান্তি এবং এডিলে মুলার(Adele Mueller)এর মত গবেষক বিশ্লেষণ করবেন। এরা বলছে কিভাবে নামী উন্নয়নের সঙ্গঠনগুলো তাদের গ্রহীতা তৈরি ব্যবস্থাপনা করে। এ ধরণের আরও দুটি বিষয়, অর্থনীতি এবং পরিবেশ, কিভাবে উন্নয়নের বিষয়গুলিকে প্রভাবিত করে সেটি আমরা আগামী অধ্যায়গুলিতে আলোচনা করব১০।
একদল সুইস নৃতাত্ত্বিক তাদের কাজ হিসেবে বেছে নিয়েছেন, কিভাবে উন্নয়ণ এবং আধুনিকতাকে ব্যবহার, প্রশ্ন, এবং তাকে বাঁকিয়েচুরিয়ে বিভিন্ন সামাজিক কন্টেক্সটে বিশ্বের বিভিন্ন এলাকায় ব্যবহার করা হয়েছে। সামগ্রিক ব্যবহারের, কর্মপদ্ধতির, এইসব লব্জ ব্যবহারের প্রভাব, যা আদতে খুবই স্থানিক, এই সব ধারনাপুঞ্জ তারা আবিষ্কার করার চেষ্টা করেছেন এবং তা ক্রমশ বাইরে আসছে। পাপুয়া নিউগিনির কোন গ্রাম, বা কেনিয়া বা ইথিয়োপিয়ার ছোট শহরে জটিল এক প্রক্রিয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে পরম্পরার রীতিনীতি, উপনিবেশের ইতিহাস, এবং সেই সময়ের বিশ্বের অর্থনীতিতে নানান পণ্য এবং প্রতীককে অনুযায়ী আধুনিকতা আর উন্নয়নের ধারনাকে (Dahl and Rabo 1992) স্থানিক করার চেষ্টা করা হয়েছে। ঠিক এই ভাবে পিগ কাজ করেছেন নেপালের স্বাস্থ্যব্যবস্থা বিষয়ে। পরের অধ্যায়গুলিতে আমরা এই সব নিয়ে আলোচনা করব।
বিভিন্ন উন্নয়ন প্রতর্কে কিভাবে নানান পরম্পরার জ্ঞানচর্চা প্রভাব ফেলে তা নিয়ে কিছু কাজের বর্ননা দেব। ১৮৮৫ সালে Irene Gendzier লিখলেন Managing Political Change: Social Scientists and the Third World। এতে তিনি বললেন কিভাবে ১৯৫০এর দশকে রাষ্ট্র বিজ্ঞান জাতীয় নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক উপদেশাবলী নিয়ে আধুনিকতার ওপর প্রভাব ফেলে। এ ছাড়াও Kathryn Sikkink (1991) ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনায় ১৯৫০এর দশকে উন্নয়নবাদের যে সব মডেল ছেয়ে গেল তার উদাহরণ নিয়ে আলোচনা করেছেন বিশদে১১। চিলির Pedro Morande (1984) গবেষণা করেছেন, ১৯৫০ এবং ১৯৬০এর দশকে ল্যাটিন আমেরিকা জুড়ে উত্তর আমেরিকার পরম্পরাকে আধুনিকীকরণের তত্ত্ব গৃহীত এবং প্রযুক্ত হল তার ইতিহাস। Kate Manzo (1991) বললেন, উন্নয়নের সঙ্গে জুড়ে থাকা আধুনিকতার ধারণা সংক্রান্ত ভুলত্রুটিগুলি বিশেষ করে উন্নয়নের জন্য নির্ভরতার তত্ত্ব, এবং তিনি একই সঙ্গে বললেন উন্নয়ন-বিরোধী তত্ত্ব, যা তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলির শেকড়ে লুকিয়ে রয়েছে, তাকে তুলে আনতে হবে। উন্নয়নের মূলে কৃষ্টির ধারণাকে ফিরিয়ে আনতে তিনি তার বইতে বারবার বলেছেন।
এই আলোচনায় আমরা দেখলাম ছোটকরে, কিন্তু সঠিক দিশায় উন্নয়ন বিরোধী আলোচনা শুরু হয়েছে। আমার এই বই এ বিষটে খুবই সাধারণ আলোচনা বিশেষ।

Sunday, October 22, 2017

করবী দিদি প্রথম নীলাম্বরী শাড়িটিতে

দুবছর আগে Karabi তোয়াদিদি প্রথমতম নীলাম্বরী শাড়িতে।
প্রথমের দিকের কাজে যারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। 
Dipankarদা না থাকলে অনেক কিছুই করে ওঠা সম্ভব হত না।

স্বদেশি আজও টিকে আছে ভারতের দক্ষিণ প্রান্তে - বাঙ্গালি মূলত ইওরপপ্রিয়

তার বাল্য, যৌবন, প্রৌঢত্বের স্বপ্ন সব কিছুইও ইওরোপ ঘিরে
তাই জন্য বাংলার গ্রাম কৃষ্টি রক্ষায় ভদ্রদের এত তাচ্ছিল্য

Bhaswatiকে অনুরোধ করেছিলাম হরিহর মন্দিরের যে ছবিটা দিয়েছিল, সেটি এবং দক্ষিণের সুপ্রাচীন কাঠের অলঙ্কৃত বাড়িগুলি নিয়ে একটা ছোট প্রবন্ধ লেখার। আজও সেখানে সেই শিল্পীরা আছেন তাই সেগুলি সংরক্ষিত হয়, উদ্যমী মানুষজন আছেন, যারা সেই দেশিয় শিল্পকলা প্রযুক্তি সংরক্ষণ কাজে সম্পদ ব্যয় করেন। আমাদের অনুরোধে তিনি এই লেখাটি তাঁর দল AAKARএ লিখেছেন। আমরা কৃতজ্ঞ।

স্বদেশি নিয়ে যখন আমরা ঠিক এর আগেই প্রবন্ধটা লিখছি, প্রশ্ন করছি স্বদেশি শিল্প আন্দোলন নামে যা চলছে তার কতটা স্বদেশি তাই নিয়ে, কিন্তু অবাক হয়ে দেখলাম, দক্ষিণের মানুষেরা কেন জানি আজও তাঁদের শেকড়ে দাঁড়িয়ে আছেন, নিজেদের সম্পদকে নিজেদের বলে ভাবতে ভালবাসেন এবং সেগুলি সংরক্ষণের কাজ হাতে কলমে করে দেখান।

নিচে তাঁর প্রবন্ধটি-

২০১৫ সালের জানুয়ারীতে কোচির ফোক-লোর মিউজিয়ামে গিয়েছিলাম। ২০০৯ সালে তৈরী এই মিউজিয়ামটির অন্যতম আকর্ষণ এর স্থাপত্য বা গঠনশৈলী। এখানেই প্রথম খেয়াল করে দেখি কেরালার বাড়ি তৈরির প্রায় হাজার বছরের পুরোন এই রীতি কে।
কেরালার কোচির পর এই একই গঠন শৈলীর স্থাপত্যের দেখা পেলাম দিন কতক আগে উডুপি বেড়াতে গিয়ে। এখানেই মনিপালে ১৯৮৮ সালে শ্রী বিজয়কান্ত শ্যেনয় শতাব্দী প্রাচীন বাড়ি এবং অন্যান্য স্থাপত্যগুলি কে সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ব্যক্তিগত উদ্যোগেই তৈরী করেন “হস্তশিল্প হেরিটেজ ভিলেজ”। কেরালার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে প্রায় ৮০০ বছরের পুরোন শাল কাঠের হরিহর মন্দির (এটি এখন শুধুই স্থাপত্য, কোন বিগ্রহ এখানে নেই) টি কে অবিকৃত অবস্থায় তুলে এনে এখানে সংস্কার ও সংরক্ষণ করা হয় ১৯৯১ সালে।
উডুপির বিখ্যাত কৃষ্ণ মঠের মূল মন্দিরটিও এই একই রীতিতে তৈরী ।সাম্প্রতিক সংস্কারের কাজ হয়েছে এখানে। বুঝতে পারছিলাম না এটি কেরালার নিজস্ব গঠন রীতি অথবা কর্ণাটকের। স্থানীয় মানুষদের সাথে কথা বলে জানলাম, পশ্চিমে আরব সাগর আর পূর্বে পশ্চিমঘাট পর্বতের মাঝখানের এই উপকূল অঞ্চল আদপে কোঙ্কণ উপকূল। আলাদা আলাদা রাজ্য হলেও এই উপকূলের জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতি তে বেশ মিল রয়েছে।
স্থাপত্যের এই বিশেষ রীতির মূল বৈশিষ্ট্য জানালার গঠন। বছরে দুটো ঘন বর্ষা আর গরম মোকাবিলার জন্য কাঠের তৈরী ঘরের এক দেওয়াল থেকে অন্য দেওয়াল পর্যন্ত টানা এই জানালাগুলিতে কোন পাল্লা থাকেনা। কিন্তু কারিগরি নিখুঁত মাপ আর গঠনশৈলীর জন্য জানালা দিয়ে ঘরে পর্যাপ্ত আলো বাতাস ঢুকতে পারলেও বৃষ্টির জল ঢুকতে পারেনা, তাই ঘরগুলি বসবাসের জন্য আরামদায়ক।
প্রয়োজন, নিজেদের শিকড়ের প্রতি টান আর পরম্পরার প্রতি শ্রদ্ধা আজ প্রায় হাজার বছর ধরে এই স্থাপত্যরীতিকে এখনো টিকিয়ে রেখেছে। সময়ের সাথে সাথে গঠনশৈলী ও উপাদান বিবর্তিত হয়েছে। শাল কাঠের দাম এখন সাধারন মানুষের সাধ্যের বাইরে, রক্ষণা বেক্ষণও কষ্টসাধ্য তাই জানালা কাঠের হলেও ঘরের মেঝে আর বাকি দেওয়াল কংক্রীটের।উডুপি সহরের ইন্দ্রালী তে গড়ে ওঠা যক্ষ্মাগণা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র “শিভপ্রভা” র কিছু ঘর এখনো এই রীতিতেই তৈরী। ঘরগুলি তে তাই ফ্যানের দরকার হয়না।