Thursday, November 4, 2010

জলপাইগুড়ির রাভা সমাজের মহিলাদের নৃত্য

জলপাইগুড়ি জেলার আলিপুরদুয়ার বনাঞ্চলের আধিবাসী রাভা সমাজ। এই সমাজে মাতৃতান্ত্রিক রীতিনীতি বহুদিন ধরেই প্রচলিত ছিল বলে রাভা সমাজে মেয়েদের ভূমিকী শুধু ঘরকন্নার কাজে আটকে ছিলনা – চাষবাস, সমাজশাসন, এলাকার এবং সমাজের সুরক্ষায়ও মেয়েদের ভূমিকা ছিল সক্রিয়(যদিও অনেকে জানেন তবুও বলি, একসময় বাংলায় তন্ত্রসভ্যতার রমরমা থাকায় বাংলার সমাজের বিভিন্ন কাজে মেয়েদের ভূমিকা সেদিন পর্যন্ত ছিল অতীব কর্মদ্যোমের – নদিয়ার সীমান্ত এলাকায় অন্ততঃ ১৫ বছর আগে শুনেছিলাম, যে পরিবারের মেয়ে বুনতে জানেন না বা (ধান)রুইতে জানেন না সে মেয়ের বিয়ে হওয়া মুশকিল ছিল। পাঠকেরা এর থেকে কোনো সূত্র উদ্ধার করতে পারলেন কী)। শত্রুর বিরুদ্ধে রাভা রমণীদের ভূমিকা ইতিহাসে লেখা থাকেব। আজ মতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সেই রণসজ্জার অভ্যাস রূপান্তরিত হয়েছে যুদ্ধনৃত্যে। হাণ্ডাবারু রাভা সমাজের এক আকর্ষণীয় যুদ্ধ নৃত্য। আজকের রাভা মহিলারা আক্রমণাত্মক এবং রক্ষণাত্মক যুদ্ধভঙ্গিমা নৃত্যকলার মাধ্যমে প্রকাশ করে থাকেন। সমাজেই তৈরি বিশলকায় তালযন্ত্র হেম গলায় জড়িয়ে দুইহাত যতদূর সম্ভব প্রসারিত করে শ্রীখোলেরমতকরে বাজানোহয়। এর সঙ্গে থাকে ছড়িটানা বাদ্যযন্ত্র বাক্্গডিং, সুষির জাতীয় বাদ্য বাবংশী আর বা-ডাংসী, আর ঘণবাদ্য চিলিংগী আর মুর্শৃংএর মত ট্যাংট্যাং। যন্ত্রীরা সবাই পুরুষ। কৃষিনৃত্য হাঙ্গাই শানিতে মেয়েরা কাঠা দিয়ে শাড়ি আর ফতুয়া পরেন – মাথায় দেন পাগড়ি। কোদাল, কাস্তে আর ঝুড়ি নিয়ে চলে চাষ প্রক্রিয়ার নাচ – যার বিষয়বস্তু চাষের বীজবোনা, চারাফেলা ইত্যাদি নানান প্রক্রিয়া। সাধারণতঃ ভাদ্রমাসে রোয়ার শুরুরদিনই মাঠে এই নাচ হয়।

No comments: