আশ্বিন সংক্রান্তি প্রায় সমগ্র রাঢ় বাংলায় সম্পদের অধিষ্ঠাত্রী দেবী লক্ষ্মীর আরাধনার সময়। এর পোষাকি নাম ডাক সংক্রান্তি। আশ্বিনে মাঠে মাঠে সবুজ ধানের গাছে ফুলে ভরে ওঠে। এই অবস্থায় সম্পদের দেবীর আগমন বার্তা পোঁছে যায় চাষী গৃহস্থের কাছে। আদতে চাষ শুধুই এক জীবিকাই নয়, বিশ্বের মানুষের মুখে খাদ্যতুলে দেওয়ার কাজ করেন, ফাঁকা মাঠে জীবনের অনুষঙ্গ ফুটিয়ে তোলেন। সেই চাষী-গৃহস্থ-প্রধান শুদ্ধ বস্ত্র পরিধান করে এক গাছি শর গাছ নিয়ে বিকেলে ধানখেতে ঈশান কোণে প্রথিত করেন। একইভাবে শরগাছ সারগাদাতেও প্রথিত করতে হয়। আতপচাল, নানান ফল, মিষ্টি আর তালের শাঁস এক সঙ্গে মেখে দেবীর উদ্দেশ্যে নিবেদন করতে হয়। এই নিবেদন আদতে ক্ষেতে যাতে ফসলের চারা ফলে ফুলে ভরে যায় সে উদ্দেশ্যে নীরব প্রার্থনা – ধান-ফুল-ফুল। শেষে এক ঘটি জল মাঠ থেকে নিয়ে এসে গৃহস্থের সবার মাথায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়। অবশিষ্ট জল ঘরের চালে ছড়ানো হয়। মোয়োরা ছড়া কাটেন – লোকের মাঠ আলথাল, আমার মাঠে শুধুই চাল।
No comments:
Post a Comment