Friday, February 23, 2018

দ্বারকানাথ ঠাকুরের ব্যাঙ্ক লুঠের লেখা বিষয়ে কারিগরদের বক্তব্য

দ্বারকানাথ ঠাকুরের ব্যাঙ্ক লুঠের তথ্য ভাইরাল হয়ে ফেসবুকে, হোয়াটসএপে ঘুরছে। 
লেখাটা Pinakiদার। তথ্যগুলো আমাদের দেওয়া। এটা এমনকি আমাদের গুরু Dipankarrদা বন্ধু Karabiiদিদিও বোঝেন নি। এটা আমাদের একটা বড় কাজ "দ্বিতীয় ইতিহাসঃ লুঠেরা ইংরেজ, সাথী ভদ্রলোক, সাংস্কৃতিক গণহত্যা আর গ্রামীন স্বাধীণতা সংগ্রাম"এর একটা ছোট অংশ।
এটাও বলা দরকার এটা কার লেখা জরুরি নয়। লুঠের সময়টা আর সাম্রাজ্যের বন্ধুত্বটা ফাঁস হওয়া দরকার।
মহাপুরুষীয় ঘোমটা উন্মোচনে কেউ কেউ খুব ক্ষুদ্ধ। আমরা যারা কারিগর, পলাশীর পর আমাদের হাত থেকে উৎপাদন ব্যবস্থা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে, বাংলার অর্থনীতি অধমর্ণ হয়েছে তারপর থেকে। ধনী ধনী হয়েছে গ্রামের ছোট উৎপাদক বিশ্ব বাজার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে। যার ফল আজ ভারতের ৭৩শতাংশ সম্পদের মালিক হাতে গোনা ধনী।
উৎপাদন ব্যবস্থার কর্পোরেটিকরণের ভগীরথেদের চহ্নিত করে যাব।
আমরা গবেষক নই। তথ্যসূত্র দেওয়া আছে।
প্রয়োজনে পাতা মিলিয়ে পড়ে নেবেন।

Tuesday, February 20, 2018

শিরদাঁড়াহীন মিরজাফর

মিরজাফরকে মসনদে বসিয়ে ক্লাইভ বিপুল সম্পত্তি নিয়ে লন্ডনে গেলেন। কোম্পানি প্রধান হেনরি ভেরলেস্ট মিরজাফররের ওপরে খাপ্পা। ১৭৬০ সালের ৩ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদের রাস্তায় মিরজাফরকে ঘিরে ধরেছে উন্মত্ত ব্রিটিশ সেনা। অনুপস্থিত ক্লাইভের নাম নিয়েও পাত্তা পাচ্ছেন না ক্লাইভের গাধা মিরজাফর। সেনাবাহিনীর অনুবাদক লাসিংটন ক্লাইভকে সেই ঘটনা চিঠিতে লিখছেন সে সময় শিরিদাঁড়াহীন মীরজাফর হঠাত মরিয়া হয়ে বক্তৃতা দিতে শুরু করেন, ‘The English placed me on the musnud; you may depose me if you please. You have thought proper to break your engagements. I would not mine’. He added, ‘I will desire you will either send me to Sabut Jung (Lord Clive), for he will do me justice, or let me go to Mecca’

ঔপনিবেশিক শিক্ষিত বাঙালি কেন ব্রিটিশদের পদতলে প্রাণ ঢেলে দিল?

কেন ঔপনিবেশিক ইংরেজিশিক্ষিত বাঙ্গালিরা মুঘল বা নবাবী আমলের থেকেও ব্রিটিশ আমলে শাসনকার্যে কম সুযোগ পেয়েও ব্রিটিশ অনুগামী হল তার একটা চলনসই(যদিও সম্পূর্ণভাবে সন্তুষ্ট নই) উত্তর পেলাম Robert Traversএর Ideology and Empire in Eighteenth-Century India The British in Bengal বইতে।
তিনি বলছেন জোন্স বললেন সংস্কৃত বাংলার উত্তরপুরুষ এবং সেটা ধ্রুপদী ইওরপোপিয় ভাষা। ব্যাস মোটামুটি ঐশ্বরিক ইওরোপিয়দের পদতলে পড়ার একটা ছুতো তৈরি হয়ে গেল - ঠিক যেমন করে ইওরোপে রেনেঁসা মধ্যযুগের অন্ধকারময় বর্বরতাকে মুছে ফেলে ধ্রুপদী প্রাচীন সভ্যতার দিকে যাওয়ার প্রণোদনা দিল। হিন্দুরা বহুকাল ধরে মধ্যযুগীয় বর্বর ইসলামি শাসনে ছিল। এবারে এল ইওরোপিয় সভ্যতার আলোর রেখা - যা তার ১০০ বছর পর ব্রাহ্মরা বলবেন কেশব সেনের মুখ দিয়ে। বাঙালি আধুনিক উজ্বল ইওরোপের পদপ্রান্তে ঝাঁপ না দিয়ে কোথায় যায়?

রবার্ট লিখছেন,
The discoveries of William Jones about the connections between Sanskrit and classical European languages offered a new point of historical connection between rulers and ruled in colonial India. The classical civilization of the ancient Hindus, apparently rescued from Muslim bigotry by tolerant Britons, was used to prop up a new conception of colonial enlightenment. Just as in Europe, an emerging ‘enlightenment
narrative’ understood modern commercial society as a reawakening of civilization from the long darkness of ‘barbarism and religion’, so in India the colonial government imagined itself as rescuing the once great classical civilization of the Hindus from a long night of Islamic medievalism.

১৭৬৫ সালে বাংলা সুবার কোম্পানির রাজস্ব আউটসোর্সিংএর পরিমান, আমেরিকার উপনিবেশগুলোর তুলনায় ১০ থেকে ৩৩ গুণ বেশি

The Political Bandits Assailing the Saviour of India

Only two years after talk of impeachment began and a year after the trial’s opening statements, popular support decisively switched from Burke to the Company. Exemplifying the switch of opinion, James Gillray, one of the most famous political cartoonist of the age, drew a cartoon in favor of Hastings and the Company titled The Political Bandits Assailing the Saviour of India. In the cartoon Hastings rides a camel, that more closely resembles a majestic war horse. Hastings is dressed in flowing Indian garbs.73 Hastings and his steed look down in contempt at Burke, caricatured, who is firing a musket, point-blank with bullets labeled “Charges”, at Hastings’s golden “Shield of Honor”. Behind Hastings, a caricatured Lord North stabs Hastings in the back while his comrade, possibly Pitt or Burgoyne, steals a bag labeled Indian tax revenue. Hastings holds a rolled parchment titled “Territory Acquired by Hastings”. 
Richard Newman এর The Dangers of Corporate Champions: The East India Company's Devastating Impact on Britain থেকে

কেন আড়াইশ বছর আগের বাংলায় ব্রিটিশ লুঠের আলোচনা জরুরি?

Richard Newman, The Dangers of Corporate Champions: The East India Company's Devastating Impact on Britain প্রবন্ধে সিদ্ধান্তে আসছেন যে ক্লাইভের দুর্ণীতিকে প্রশ্রয় দেওয়ার ফল ফলছে ২০০৮এর বিপুল ধ্বংসযজ্ঞে, যে কর্পোরেট ধ্বংসক্রিয়ায় রাষ্ট্র সেদিনের মতই অসহায় আত্মসমর্পন করে মাত্র। 
সম্প্রতি আমরা উপমহাদেশের প্রত্যেক নাগরিক কি সেই ব্রিটিশ লুঠের দিনগুলি দেখছি না, যেখানে রাষ্ট্র কর্পোরেটের গৃধ্নুতার কাছে বেবাক হয়ে থাকে?
To the modern reader, the ultimately small price Clive paid for breeding a culture of corruption and bringing India to complete economic collapse may, unfortunately, feel familiar, Leading up to the financial crisis in 2008, almost all major financial institutions greedily and negligently overextended, fraudulently misrepresented bond safety, and created the worst global financial crisis since the Great Depression. Except for a few scapegoats, no banker or corporate executives that engineered the Great Recession received any jail time, and the firms that committed corporate malpractice were fined insignificantly or bailed out with taxpayer money.
...America’s recent judicial reaction to major corporate graft and subsequent financial crisis bears a striking resemblance to the Lord North’s treatment of Robert Clive. The British from 18th and early 19th centuries teach modern Americans the importance to stay vigilant and to stop corruption early. Lessons learned from the issues caused by the East India Company hopefully compels Americans to not allow corporate malpractice fester for a century.

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মালিক কে, ভারতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক

Subhrajyoti Basuর প্রশ্ন। 
আমাদের সম্ভাব্য উত্তর-
1) ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মালিক কে?
ইওরোপ কয়েক হাজার বছর ধরে এশিয়ার অধমর্ণ ছিল। চিন-পারস্য-ভারত(তার মধ্যে মূলত বাংলা) এই অক্ষ বিশ্ব শিল্প আর কৃষ্টি বাণিজ্য উৎপাদনের ৮৫ শতাংশের বেশি অংশিদার ছিল।ইওরোপ বহুকাল ধরেই এশিয়া বিজয়ের চেষ্টা করেছে। কয়েকশ বছর ধরে চলা ক্রুসেড সেই চেষ্টারই ফসল। এশিয়া থেকে যে পণ্য ইওরোপে যেত তা মূলত লন্ডন আমস্টার্ডাম আর ভেনিসের কিছু বিনিয়োগকারী যাদের ভেনিসিয়ান মার্চেন্টস বলত তাদের হাতে ছিল। আর ছিল মস্কোভি্র মত বেশ কিছু কোম্পানি। এগুলি আজকের মত ইওরোপিয় কয়েকজন পুঁজিপতির নিয়ন্ত্রণে ছিল। এরাই পোপের নির্দেশে সারা বিশ্বকে ভাগ করতে চারটে ইওরোপি অক্ষ তৈরি করে যার একটি অক্ষে ছিল ইংলন্ড যাদের ইলিউমিনাতি বলা হত। এই দলের একটি ছোট বিনিয়োগকারী ছিল ইহুদি রথসচাইল্ড বা রথসশিল্ড পরিবার। ১৮০০ সালে ইংলন্ড ফ্রান্স যুদ্ধের ফলাফল কাজে লাগিয়ে তারা ইওরোপের প্রধান বিনিয়োগকারী শক্তি হয়ে উঠে আসে। সারা বিশ্ব ব্যবসায় নিয়ন্ত্রণ আনে। এরাই কালক্রমে ব্যাঙ্ক অব ইংলন্ড তৈরি করে এবং কোম্পানিকে ধার দিয়ে নিয়ন্ত্রণ কায়েম করে। আজ বিশ্বে সব থেকে বড় পুঁজিপতি এরাই। এমা রথসচাইল্ড অমর্ত্য সেনের বউ - ইহুদি পুঁজির সঙ্গে যোগ না থাকলে আজ বিশ্বে বিখ্যাত হওয়া সম্ভব নয় - বিশ্বের প্রখ্যাতরা মূলত ইহুদি এবং ইহুদি লবি ধরা বুদ্ধিজীবি। আমাদের ধারণা ঠকুরবাড়ির দ্বারকানাথ ঠাকুর এবং রামমোহন রায় মার্ফত বাংলায় বিনিয়োগ করতে শুরু করে রথসরা। বিনিয়োগ ফেরত দিতে না পারায় তাদের লন্ডনে হত্যা করে। বিশেষ করে দ্বারকানাথের মৃত্যু খুবই আশ্চর্যজনক এবং সন্দেহজনকভাবে হয়।
2) তিনি বা তারা কি চুক্তির বিনিময় ( যেমন বিড়লা বা অন্য কারোর সাথে) তাদের সম্পত্তি ছেড়ে গিয়ে ছিলেন?
মানে বুঝলাম না।আগে ছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি পরে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য, তারপরে নেহরু, এখন মোদি। ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়ে নি। এরা বিনিয়োগ করে নানা নামে, নানা দেশে নানান কোম্পানিতে। সামনে একটা দেখনদারি কোম্পানি থাকে। পিছনে নিয়ন্ত্রণ থাকে মূল বিনিয়োগকারী রথসদের। সেই জন্য ভারতে টাকাকে ফুল কনভার্টেবল করতে হয়েছিল যাতে লাভের অংশ সহজেই বিদেশে নিয়ে যাওয়া যায়, কোন বাধা ছাড়াই।
3) বাজারে রথচাইল্ড নামক এক ভদ্র লোকের নাম শোনা যাচ্ছে। ব্যাংকিং সিস্টেমের যে লুঠ গত 71 বছর ধরে চলে আসছে তাতে কি সত্যি তার হাত রয়েছে কি না।
এর উত্তর আগে দিয়েছি পরেও পাবেন। বিশ্ব ব্যাঙ্কগুলির মূল নিয়ন্ত্রণ রথসচাইল্ডদের হাতে। সিটি, এইচএসবিসি, মেরিললিঞ্চ ইত্যাদি দিয়ে তারা গত কয়েকশ বছর ধরে ভারতের মালব আর বাংলার আফিম চিনে পাঠিয়ে বিপুল অর্থ লুঠে নিয়ে যারা বিশ্বে নিজেদের নিয়ন্ত্রিত ব্যাঙ্ক তৈরি করেছে। ১৯৯৭ পর্যন্ত ব্যাঙ্ক অব ইংলন্ড(যেমন ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক) রাষ্ট্রীয় ব্যাঙ্ক ছিল না। চার্চিলের পরিবার ছিল এই ব্যাঙ্কের অন্যতম শেয়ার হোল্ডার, ফলে চার্চিল ভারতকে তার বাবার জমিদারি আর ভারতের প্রজাদের তার প্রজা ভাবতেন, এবং এই জন্য ৪৯এ গণহত্যা করতে তার হাত কাঁপে নি।
3) বিড়লা, চন্দন বস, আম্বানির সাথে সত্যি তার কোনো সম্পর্ক আছে কি না।
চন্দন বসু খুবই ছোট্ট খেলোয়াড়। টাটাদের সঙ্গে এবং রথসদের শ্বশুরবাড়ি পারস্যের সাসুনদের(এখনো বম্বেতে সাসুন ডক আছে) সঙ্গে যোগাযোগের কারণে বম্বের পার্সিদের দিয়ে রথসরা চিনে আফম পাঠাতেন। ওমর ফারুখির দ্য ওপয়াম সিটি ভারতে পার্সিদের উত্থান নিয়েই লেখা - এরা ব্রিটিশদের খুব ঘনিষ্ট ছিল - সিপাহি যুদ্ধে সরাসরি ব্রিটিশদের সাহায্য করে। তারা য়াফিম ব্যবসায় বিপুল অর্থ রোজগার করে নতুন বম্বে তৈরি করে। টাটাদের মূল রোজগার এই আফিম ব্যবসাতে। ক্রমশ টাটারা ভারতের অন্যতম প্রধান ব্যবসায়ী হয়ে ওঠায় তাদের ওপরেই বিনিয়োগ করতে থাকে রথররা। জাগুয়ার বা কোরাস ডিলের বিপুল অর্থ যোগায় রথ পরিবার। তারা এই কাজের কন্সালট্যান্ট ছিল।
4) যদি থাকে তবে আমরা তাকে কেন এক্সপোজ করছি না )
আমরা এ নিয়ে প্রচুর লিখছি আমাদের ব্লগে। এরপর আপনার সিদ্ধান্ত।

Thursday, February 15, 2018

উপনিবেশ বিরোধী চর্চা২ - সিরাজ চরিত্র যাঁদের লেখা দিয়ে বিচার হয় - সুশীল চৌধুরীর বয়ানে

এবারে ইওরোপিয় নির্মান
১৭৬৩ সালে ফরাসি প্রধান কুঠিয়াল জাঁ ল, স্মৃতিকথায় সিরাজের বিরুদ্ধে কলম ধরেছেন। ইংরেজদের বাংলা দখলের কূটনীতি মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়ে তিনি, নিজের এবং দেশিয় ব্যর্থতা ঢাকতে তিনি পলাশী কাণ্ডের সমস্ত দায় সিরাজের ওপর চাপিয়েছেন। ইংরেজদের কলকাতা থেকে সিরাজ তাড়িয়ে যখন সিরাজ মুর্শিদাবাদে ফিরে আসেন, তিনি ব্যাঙ্গাত্মকভাবে লেখেন, স্বৈরাচারী(নবাব) এখন (যুদ্ধে) জয়ী হয়ে ফিরে এসেছে। সিরাজকে তিনি অদক্ষ মাথা গরম এবং রাজ্য শাসনের ক্ষমতাহীন বলেছেন। তিনি যে সিরাজের বিরোধী এটা স্পষ্ট হয়ে যায় তার এই মন্তব্যে, সিরাজকে পদচ্যুত করার জন্যে (পূর্ণিয়াতে) একটা ষড়যন্ত্র হয়েছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে রামনারায়ণ যোগ না দেওয়ায় তা সফল হতে পারে নি। তার লেখার ভঙ্গীতেই পক্ষপাতিত্ব পরিষ্কার হয়ে যায়। সিরাজ ইওরোপিয়দের চরম ঘৃণা করতেন এই তথ্য ভিত্তিহীন। সিরাজ চন্দননগরের ফরাসি কুঠিয়াল রেনঁকে লেখেন আহমদ শাহ আবদালির আগ্রগমন আটকানোর জন্যে তিনি ইংরেজদের সঙ্গে আলিনগর(কলকাতা, ফেব্রুয়ারি, ১৭৫৭) সন্ধি করতে বাধ্য হন। ল' একে সিরাজের কাপুরুষতা ঢাকার প্রয়াস বলে মন্তব্য করেছেন। সিরাজ বিরোধী দরবারি চক্রান্তে মোহনলালকে পাশে টানতে না পারায় তিনি তাকে পাজি বদমায়েস উপাধিতে ভূষিত করেন। আর মির্জাফর সম্বন্ধে তাঁর মূল্যায়ন - সাহসী ও সৎ ব্যক্তি, এটি সর্বৈব ভুলে ভরা এবং ফারসি ঐতিহাসিকদের বিবরণে সম্পূর্ণ উলটো বর্ণনা পাচ্ছি।

একইভাবে ইংরেজ কুঠিয়াল লুক স্ক্রাফটন তার দেশিয় স্বার্থে সিরাজের কলকাতা আক্রমণকে নিন্দা করেছেন। স্ক্রাফটন নিজে পলাশী চক্রান্তের অন্যতম ষড়ী। তার উদ্দেশ্যই ছিল নবাবকে ভিলেন প্রতিপন্ন করা।

আজ আমরা সিরাজের মূল্যায়ন যে কটি লেখা ভিত্তি করে করি, সেগুলি বেশ ভুলে ভরা এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত।

সিরাজ সিংহাসনে বসার আগে এক ধরণের চরিত্রের, সিংহাসনে বসে অন্য মানুষ, এই তথ্যটা মাথায় রাখলেই আমরা পলাশীর কারণের দিকে নির্মোহ দৃষ্টিতে এগোতে পারি।

উপনিবেশ বিরোধী চর্চা২ সিরাজ চরিত্র যাঁদের লেখা দিয়ে বিচার হয় - সুশীল চৌধুরীর বয়ানে

গোলাম হোসেন সালিম এবং করম আলি
গোলাম হোসেন সালিমের রিয়াজউসসালাতিন প্রকাশ পায় ১৭৮৬তে. তাঁর ইংরেজ মনিব জর্জ উডনির নির্দেশে. উডনি 'এই অধম ব্যক্তিকে' ওই গ্রন্থ রচনা করতে নির্দেশ দেন। আরেক গোলাম হোসেনের মতই তিনি ইংরেজ অনুরক্ত ছিলেন, এবং এ জন্য সিরাজ তাঁকেও রাজ্য থেকে বহিষ্কার করেছিলেন। ইংরেজদের প্রতি তাঁর চাটুকারিতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে যখন তিনি লেখেন, 'তারা(ইংরেজরা) কোনও প্রতিশ্রুতি দিলে তা রক্ষা করতে এমনই বদ্ধ পরিকর হয় যে নিজেদের প্রাণসংশয় করেও তাতে অবিচল থাকে। মিথ্যাবাদীকে তারা সমাজে বরদাস্ত করে না। তারা উদার, বিশ্বস্ত, সহনশীল ও সম্মানিত ব্যক্তি। প্রতারণা কাকে বলে তারা জানে না। শঠতা ব্যাপারতাই তাদের কাছে অজানা।' এই মানুষটা সিরাজ সম্বন্ধে বলেছেন তিনি বদমেজাজি এবং রূঢ়ভাষী ছিলেন। সব অভিজাত ব্যক্তি ও সেনাপতিদের ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করতেন।
করম আলির মুজফফরনামা ১৭৭২ সালে লেখা এবং তথ্যের ঠিক ঠিকানা নেই। তিনিও ইংরেজদের অনুকূলে সমান পক্ষপাতদুষ্ট। ঘোড়াঘাটার ফৌজদার ছিলেন কিন্তু তিনি সেখানে না থেকে প্রায়ই পূর্ণিয়াতে কাটাতেন। শওকত জঙ্গের পতনের পরে ঘোড়াঘাটার চাকরিচ্যুত হন এবং কারারুদ্ধ হন। সিরাজ তাঁকেও প্রাণে না মেরে পাটনায় নির্বাসিত করেন।
ফরাসীদের বিরোধিতা এবং ইংরেজদের চাটুকারিতার প্রমান হয় যখন তিনি বলেন, আল্লার ইচ্ছা, ফরাসিরা(ইংরেজদের দ্বারা) বাংলা থেকে বিতাড়িত হোক।

উপনিবেশ বিরোধী চর্চা১ - সিরাজ চরিত্র যাঁদের লেখা দিয়ে বিচার হয় - সুশীল চৌধুরীর বয়ানে

'সিরাজদ্দৌল্লা সত্যি সত্যিই ভিলেন জাতীয় নিকৃষ্ট জীব ছিলেন কি না তা বিচার করার আগে যাঁরা তাঁর সম্বন্ধে এ অভিযোগ করেছেন তাঁদের সম্যক পরিচয় জানার একান্ত প্রয়োজন।এ প্রসঙ্গে মনে রাখা দরকার বেশিরভাগ ফারসি ইতিহাসই পলাশীর প্রায় পঁচিশ-ত্রিশ বছর পরে লেখা, যখন ঐ ঘটনাবলী সম্বন্ধে উক্ত লেখকদের স্মৃতি ঝাপসা হয়ে গিয়েছে।তাছাড়া আরও গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হল যে ফারসি ইতিহাসগুলির বেশিরভাগই লেখা হয়েছিল ওইসব লেখকদের ইংরেজ প্রভু বা মনিবদের আদেশে বা তাঁদের পৃষ্ঠপোষকতায়। তাই এগুলিকে সে যুগের ঐতিহাসিক তথ্যের প্রকৃত সূত্র হিসেবে গণ্য করা যায় কি না তা নিয়ে সন্দেহের যথেষ্ট অবকাশ থেকে যায়। সিরাজদ্দৌল্লাকে 'ভিলেন' বা দুর্বৃত্ত প্রমান করা গেলে ইংরেজদের বাংলা বিজয়ের যথার্থ্য প্রমান করা সহজ হয় অর্থাৎ সেক্ষেত্রে বলা যায়যে ইংরেজরা বাংলা জয় করে এক স্বেচ্ছাচারীর হাত থেকে বাংলাকে রক্ষা করেছে। এতে ইংরেজদের বাংলা বিজয়ের একটা যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা মিলবে। ফলে পলাশী ষড়যন্ত্রের চক্তান্ত করা সত্ত্বেও ইংরেজদের ভূমিকা ততটা নিন্দনীয় হবে না।' সুশীল চৌধুরী, পলাশীর অজানা কাহিনী
সিরাজের বিষয় নিয়ে আমরা এর আগে একটা লেখা দিয়েছিলাম। সেটাও সুশীলবাবুর বয়ানে। সিরাজের চরিত্র সেখানে তিনি বিশ্লেষণ করে বলেছিলেন, নবাব হওয়ার আগে এবং পরে সিরাজ দুটি ভিন্ন মানুষ। অথচ সিরাজের ভিলেনি সম্বন্ধে প্রায় সমসাময়িক ঐতিহাসিক ও পর্যবেক্ষকদের মধ্যে ঐক্যমত্য দ্যাখা যায়। সিয়ারেমুতক্ষরিণএর লেখক গোলাম হোসেন খান সব থেকে বেশি সোচার। তাঁর সম্বন্ধে প্রচুর কটুক্তি করেছেন। রিয়াজেও গোলাম হোসেন সেলিমও কড়া সমালোচনা করেছেন। বিপুল সমালোচনা করেছেন ফরাসি কুঠের প্রধান জাঁ ল, ইংরেজ কুঠিয়াল লুক স্ক্রাফটনও।নীচে এদের নিয়ে আলাদা আলাদা করে আলোচনা করব।
এই কিস্তিতে গোলাম হোসেন খান।
১) সিররেমুতক্ষরিণের প্রণেতা গোলাম হোসেন খান।
সেযুগের নামি ঐতিহাসিক এবং সিরাজের কট্টর সমালোচক। আলিবর্দির বাড়ির হাজি বা বাড়ির সরকার। প্রথম থেকেই গোঁড়া ইংরেজ ভক্ত এবং সিরাজ বিরোধী। করম আলির ভাষায় ইংরেজদের বন্ধু হিসেবে তাদের ওকালতি করায় তাঁর চাকরি খুইয়েছিলেন এবং সিরাজ তাঁকে প্রাণে না মেরে বাংলা থেকে বহিষ্কার করেন। এই গোলাম হোসেন খানই শওকত জঙ্গকে প্ররোচিত করেছিলেন ইংরেজদের বিরুদ্ধে জোট বেঁধে এ-ব্যাপারে(পলাশী) অগ্রসর হতে কারণ শোনা যাচ্ছে যে ইংরেজরা সিরাজের বিরুদ্ধে অভিযান করতে চায়।পরে মীর কাশেমের প্রিয়পাত্র হিসেবে প্রচুর ধনসম্পত্তির মালিক এবং অত্যন্ত প্রভাবশালী হয়ে উঠেছিলেন।
সিরাজ ইংরেজদের সঙ্গে পায়ে পা লাগিয়ে বিবাদ করছে এই তত্ত্বটা গোলাম হোসেন খানএর তৈরি। ইংরেজদের প্রতি তাঁর পক্ষপাতিত্ব এবং চাটুকারিতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যখন তিনি লেখেন - 'এই জাতির(ইংরেজ)... শক্তি, সাহস ও মনোবলের কোনও তুলনা হয় না', বা 'এই জাতির সেনাপতিরা অত্যন্ত দক্ষ, সতর্ক ও সব ব্যাপারে অভিজ্ঞ এবং যুদ্ধক্ষেত্রে এরা অসম সাহসী।' তিনি আরও লেখেন, 'এই জাতি কোনও সঙ্গত কারণ ছাড়া কারও সঙ্গে বিরোধ বাধায় না। তিনি আলিনগরের চুক্তি ভেঙ্গে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইংরেজদের দায় ছাড় দিয়ে লেখেন, ...সম্ভবত কোনও গুরুত্বপূর্ণ কারণে নবাবের সঙ্গে বিরোধ করা ছাড়া তাদের কোনও উপায় ছিল না। ...অবশ্য এ বিষয়ে আমার কাছে সঠিক কোনও তথ্য নেই তবে মনে হয় সম্ভবত নবাব(শর্ত অনুযায়ী) টাকা পয়সা দিতে অনিচ্ছুক ছিলেন এবং অকারন দেরি করছিলেন।'
পুর্ণিয়ার নবাব শওকত জঙ্গের সঙ্গে বিজয়ী হয়ে সিরাজ মোহনলালকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন গোলাম হোসেনে আর তার পরিবারের কোনও অনিষ্ট না হয়, তারা যেন নির্বিঘ্নে, নিরাপদে চলে যেতে পারেন। সিরাজের নির্দেশে তিনি নিরাপদে বেনারস তাঁর মামা ও ভাইদের সঙ্গে মিলিত হন। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ তো দূরস্থান এই বদান্যতার জন্য গোলাম হোসেন সিরাজকে ধন্যবাদ তো জানানই নি এ প্রসঙ্গে তিনি পরে লেখেন, তাঁরা অত্যাচারী নবাবের হাত থেকে ভাগ্যক্রমে মুক্তি পেয়েছেন। তাঁর আরও অভিযোগ সিরাজ নাকি জগতশেঠকে সুন্নত করার হুমকি দিয়েছিলেন, যা তৎকালীন কোন তথ্যেই সমর্থিত নয়।
বিশদে লেখার এখানে অবকাশ নেই, উতসাহীরা সুশীলবাবুর বইটা আরও বিশদের জন্য পড়ে নিতে পারেন।
পরের কিস্তিতে রিয়াজ লেখক গোলাম হোসেন সালিম এবং করম আলির বয়ান।

নবাবি আমল জানতে পাঠ্যতালিকা

ইজ্জত চলে যাওয়ার আশংকায় অনেক বন্ধু অপ্রকাশ্যে আলাদা করে ব্রিটিশ-পূর্ব(মূলত নবাবি আমল) সময়ের পাঠ্যসূচী জানতে চেয়েছিলেন।কাউকে বিব্রত না করার জন্য কোন ট্যাগ না করেই আমার জ্ঞানানুযায়ী বইএর তালিকা দিলাম। এর বাইরে কারীর যদি কোন চেনা/অচেনা বই জানা থাকে/মনে পড়ে, দয়া করে দিতে পারেন। কৃতজ্ঞ থাকব।
যদুনাথ সরকার হিস্ট্রি অব বেঙ্গল, দ্য মুঘল এডমিনিস্ট্রেশন, দ্য ফল অব মুঘল এম্পায়ার, শিবাজী (বাংলা), মিলিটারী হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া, দ্য রানি অফ ঝাঁসী, ফেমাস ব্যাটেল্‌স্‌ অফ ইন্ডিয়ান হিস্ট্রি, শিবাজী এন্ড হিজ টাইম, ক্রোনোলজী অফ ইন্ডিয়ান হিস্ট্রি
আবদুল করিম মুর্শিদকুলি এন্ড হিজ টাইম
কালিকিঙ্কর দত্ত আলিবর্দি এন্ড হিজ টাইমস
কালিকিঙ্কর দত্ত সিরাজুদ্দৌলা
ব্রিজেন গুপ্ত সিরাজুদৌলা এন্ড ইংলিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি
রমেশচন্দ্র মজুমদার বাংলাদেশের ইতিহাস
দিনেশচন্দ্র সেন বৃহতবঙ্গ
উইলিয়াম উইলসন হান্টার দ্য এনালস অব রুরাল বেঙ্গল
আলেকজান্ডার ডাও, দ্য হিস্টোরি অব হিন্দোস্তানঃ ফ্রম দ্য ডেথ অব আকবর টু দ্য কমপ্লিট সেটলমেন্ট অব দ্য এম্পায়ার আন্ডার আওরঙ্গজেব
সৈয়দ গোলাম হোসেন সিয়ারুল মুতাক্ষরিন
গোলাম হোসেন সালিম রিয়াজুস সালাতিন
সালিমুল্লাহ তারিখই বাংলা
য়ুসুফ আলি আহবালই মহব্বতজঙ্গ
করমআলি মুজফফরনামা
সুজন রায় ভাণ্ডারী খুলাসাতউসরাওয়ারিখ
রায় ছত্রমন চাহার গুলশন
ভারতচন্দ্র অন্নদামঙ্গল
রামপ্রসাদ কালীকীর্তন এবং বিদ্যাসুন্দর
গঙ্গারাম মহারাষ্ট্র পুরাণ
রামেশ্বর শিবায়ন
কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি বাণেশ্বর বিদ্যালঙ্কার বর্গীদের পটভূমিকায় চিত্রচম্পূ
সুশীল চৌধুরী ফ্রম প্রস্পারিটি টু ডিক্লাইন, এইটিনথ সেঞ্চুরি বেঙ্গল
কালীপ্রসন্ন বন্দ্যোপাধ্যায় বাঙ্গালার ইতিহাস, নবাবী আমল
নিখিলনাথ রায় মুর্শিদাবাদ কাহিনী, মুর্শিদাবাদের ইতিহাস, জগতশেঠ
জে ডব্লু টি ওয়ালস, হিস্ট্রি অব মুর্শিদাবাদ ডিস্ট্রিক্ট
পি সি মজুমদার, দ্য মসনদ অব মুর্শিদাবাদ,
এ সি ক্যাম্পবেল, গ্লিম্পসেস অব বেঙ্গল
বি এন ব্যানার্জী বেগমস অব বেঙ্গল,
প্রাক-পলাশী বাংলা, সুবোধ কুমার মুখোপাধ্যায়
বেঙ্গল নবাবসএ য়ুসুফ আলির আহবাল-ই-মহব্বতে জঙ্গ, যদুনাথ সরকারের অনুবাদে
দেওয়ান কার্তিক চন্দ্র রায় ক্ষিতীশ বংশাবলীচরিতএ
বাংলায় ব্যাঙ্কিং হরিশ চন্দ্র সিংহ
অভয়পদ মল্লিক হিস্ট্রি অব বিষ্ণুপুররাজ
ইনায়েতুল্লা আহকমই আলমগিরি
বেটা ফ্রান্সিস এবং এলিজ কেয়ারি সম্পাদিত দ্য ফ্রান্সিস লেটার্স
জে এইচ লিটল দ্য হাউস অব জগতশেঠস
কে এম মহসিন, আ বেঙ্গল ডিস্ট্রিক্ট ইন ট্রাঞ্জিশনঃ মুর্শিদাবাদ
প্রতিভারঞ্জন মৈত্র মুর্শিদাবাদের ইতিহাস
সোমেন্দ্রচন্দ্র নন্দী বন্দর কাশিমবাজার, দ্য লাইফ এন্ড টাইমস অব কান্তবাবু
বাংলার ইতিহাস(অষ্টাদশ শতাব্দী) - নবাবী আমল, কালীপ্রসন্ন বন্দ্যোপাধ্যায়
নরেন্দ্র কৃষ্ণ সিংহ - হিস্টোরিয়ান এজ এন আরকাইভিস্ট, মেদিনীপুর সল্ট পেপার্স, হিস্ট্রি অব বেঙ্গল, ইকনমিক হিস্ট্রি অব বেঙ্গল - ফ্রম প্লাসি টু পার্মানেন্ট সেটলমেন্ট, ফোর্ট উইলিয়াম - ইন্ডিয়া হাউস করসপন্ডেন্স, হায়দার আলি, হিস্ট্রি অব ইন্ডিয়া। সঙ্গে অবশ্যই পড়তে হবে কুনাল সিংহ, শমিতা সিংহ সম্পাদিত - অধ্যাপক নরেন্দ্রকৃষ্ণ সিংহঃ স্মরক গ্রন্থটি।
ড.আবদুল করিম, বাংলার ইতিহাস: সুলতানী আমল এবং বাংলার ইতিহাস:মুঘল আমল

উচ্চ প্রযুক্তি হিসেবে যা ব্যবহার করছি তা রাষ্ট্রের ভরতুকিতে

শুধু ভাবতে বলব কোন একদিন যদি এমন ব্যবস্থা তৈরি হয় ৫০ ক্রোশের বাইরে সেই অঞ্চলের উৎপাদন বিক্রি করা যাবে না দূষণ ইত্যাদির কারণে, তাহলেই রাষ্ট্রীয় মদতে কেন্দ্রিয় উৎপাদন ব্যবস্থা সম্বল করে বেঁচে থাকা সব কর্পোরেট গুমোর ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাবে।
আজ আমরা ভদ্ররা উচ্চ প্রযুক্তি হিসেবে যা ব্যবহার করছি তা রাষ্ট্রের ভরতুকিতে।
সেই ভরতুকি যদি কোন দিন উঠে যাওয়ার অবস্থা হয়, তাহলে কি হবে ভাবতে অনুরোধ করছি।

উপনিবেশ বিরোধী চর্চা - কেন্দ্রিভূত উৎপাদন ব্যবস্থার ভবিষ্যত - বড় পুঁজি রাষ্ট্রীয় মদত ছাড়া কোন মৌলিক প্রযুক্তি/পণ্য বানিয়ে দেখাক

উপনিবেশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম দুই নেতাArupsankarদা Rafiqদা ভাবছেন ১৭৫৭ হয়ত যাওয়া যাবে না। আমাদেরই মানিয়ে নিতে হবে। আমরা কোনোটাতেই কোন নিশ্চিন্ত জবাব দিচ্ছি না, শুধু কয়েকটা প্রতিক্রিয়া-
১) কখোনো কখোনো কোন কোন সময়কে মনে হয় অপরিবর্তনীয়। ২০০০ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে বসে কেউ যদি বলত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হবেন, আর সিপিএম ৫০টার বেশি আসন পাবে না, বিলয় হয়ে যাবে বাংলা থেকে, পার্টি দপ্তরও খোলার মানুষ থাকবে না দলে, তাহলে তার মাথার সুস্থতা সম্পর্কে অবাম মানুষও সন্দিহান হত।
২) মানুষের ইতিহাস, বিকেন্দ্রিত উৎপাদন ব্যবস্থা কম করে ১০ হাজার বছরের ইতিহাস। লুঠেরা কেন্দ্রিভূত উৎপাদন ব্যবস্থা, মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করার প্রযুক্তি এসেছে আড়াইশ বছর, যা বিশ্বের ইতিহাসে মানব সমাজের বিকাশের তুলনায় কোন সময়ই নয়। বিকেন্দ্রিত ব্যবস্থা টিকে ছিল আজও আছে। আজও বলা যাচ্ছে না কেন্দ্রিভূত উৎপাদন ব্যবস্থা আগামী দশ হাজার বছর টিকবে কি না। ব্যবস্থার জন্মদাতা ইওরোপ এই ব্যবস্থা থেকে সরতে শুরু করেছে; দূষণ নিয়ে তারা যে কড়াকড়ি করছে সে উদ্যম সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়া সময়ের অপেক্ষা। মানুষ অফ দ্য গ্রিড বাঁচতে চাইছে। বিষ চাষের মৃত্যু ঘণ্টা মোটামুটি বেজে গিয়েছে।
আমরা হয়ত এই ব্যবস্থায় এতই কন্ডিশনড হয়ে আছি যে এর বাইরে বেরোনো যায়, এটাই ভাবতে পারছি না।
এটাই মানসিকতা তৈরি হবে কম্পিউটার শিল্পে, যা আদতে সামরিক ব্যবস্থা চালাবার আর মানুষ নিয়ন্ত্রণের জন্য তৈরি, লক্ষ লক্ষ যুবক/যুবতী ছাঁটাই হবার পরে।
আর কয়েক দশক মাত্র।
৩) যে রাষ্ট্র পোষিত উতপাদন ব্যবস্থা রয়েছে তা সামাজিক বিকেন্দ্রিভূত উৎপাদন ব্যবস্থাকে প্রতিযোগী মনে করে। তাকে টিকতে দিতে চায় না। কেননা বিকেন্দ্রিত উৎপাদন ব্যবস্থা তার গুণাগুণ সবার সামনে পেশ করেছে, কেন্দ্রিভূত উৎপাদন ব্যবস্থা রয়েছে মুষ্টমেয়র হাতে, সুখের জন্য আর লুঠেরা খুনি সাম্রাজ্য বিস্তারের জন্যে।
৪) আমরা ১৭৫৭র আগে যাব, না এই সময়টাকে ১৭৫৭ করে নেব, সেটা দ্যাখা যাবে। এটা প্রমাণিত বাংলার জোর বাংলার পরম্পরার প্রযুক্ত্‌ বাংলার পরম্পরার উৎপাদন ব্যবস্থা - তার আর্থিক পরিমানেই প্রমানিত। তাকে চাইলেও কর্পোরেট মারতে পারছে না।
৫) আমাদের শুধু ঘাটতি রয়েছে বিশ্ব বাজারে পৌঁছনোর - সেখানে পৌঁছতে পারলে ঠিকই আমরা কর্পোরেটদের মোকাবিলা করতে পারব - গ্রামগুলোকে মিলতে হবে - এটা কর্পোরেট চায় না - কেননা এই প্রক্রিয়ার সাফল্যে তাদের মৃত্যু ঘন্টা বাঁধা আছে।
আমরা রাষ্ট্রের সহায়তা ছাড়া হাজার হাজার বছর বেঁচে ছিলাম, আছি থাকব। কর্পোরেটরা পারবে না। এটাই বাস্তব।
আজকে বাজারে উচ্চ প্রযুক্তি হিসেবে যা চলে তা মূলত সামরিক কারণে (উপনিবেশ তৈরি আর মানুষ মারার জন্যে) আর রাষ্ট্রীয়(মানুষকে নিয়ন্ত্রিত করার জন্যে) তৈরি হয়। তারপরে সেগুলি পণ্য হিসেবে বাজারে আসে এবং উচ্চমুনাফায় বিক্রি হয়, কারণ তার গবেষণার খরচ রাষ্ট্রই জুগিয়েছিল মানুষের গাঁট কেটে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে চালু একটা প্রযুক্তি আর তার পণ্য তারা রাষ্ট্রের(আদতে সামরিক) দয়া ছাড়া বানিয়ে দেখাক।
মেনে নেব।
আমরাই অতীত ছিলাম, আমরাই ভবিষ্যৎ হব।
এটাই বাস্তব।
সোভিয়েত, আমেরিকাকেও এক সময় অজেয় মনে হত।

উপনিবেশ বিরোধী চর্চা - লুঠের মানচিত্র

মশাইরা, সমাজপতিরা, রাষ্ট্র পরিচালকেরা, হুজুরেরা, দেখুন আপনাদের ক্ষমতায় যাওয়ার পরের কীর্তিকাহিনী। বাংলা ডুবেছে বঙ্গোপসাগরে আর ইওরোপ উড়াল দিয়েছে গগণপানে।
১৯১৩কে ভিত্তিবর্ষ ধরে ব্রিটেনের ঐ সময়ের জিডিপির ইতিবৃত্ত।
কোন সমৃদ্ধশালী বাংলার ধ্বংসাবশেষের ওপর বসে পশ্চিম ইওরোপ তার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিল –
১৭২০-২১ – ২.১, ১৭৬০-৬১ – ২.৬, ১৭৭০-৭১ – ৩.৩,, ১৭৮০-৮১ – ৩.৫, ১৭৯০-৯১ – ৪.৬, ১৮০০-০১ – ৫.৭, ১৮১০-১১ – ৭.১, ১৮২০-২১ – ৯.৭, ১৮৩০-৩১ – ১৮.৩, ১৮৪০-৪১ – ১৯.৬।
১৭৫৬য় বাংলার জিডিপি ৬+।
লক্ষ্য করুন ১৮০০র পর থেকে ইওরোপের জিডিপি ৫এর উর্ধমুখী আর ৩০এর পর লাফিয়ে দুই অংক ছাড়িয়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে কুড়ির ঘরে প্রবেশ করেছে। (সুত্রঃ বিনয় ঘোষ, বাঙলার নবজাগরণ)

উপনিবেশ বিরোধী চর্চা - কেন আমরা ১৭৫৭র আগে যেতে চাই - আজও আপনারা ইওরোপিয় স্বার্থ দেখছেন নির্লজ্জভাবে

মশাইরা, সমাজপতিরা, রাষ্ট্র পরিচালকেরা, হুজুরেরা, 
 আমরা বাংলার কারিগরেরা চাষীরা একদা বাংলাকে করে তুলেছিলাম বিশ্বের কাছে স্বর্গ রাজ্য। বিশ্বের প্রত্যেক দেশের নাগরিক বাংলায় আসত পণ্য কেনার জন্যে। পলাশীর পরে আপনাদের পূর্বপুরুষেরা আমাদেরকে বিশ্ববাজার থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে নিজেরা রাজা উজির হয়ে সিংহাসন দখল করেছেন - বকলমে সাদা-লালমুখোরাই আজও আমাদের শাসন করছে।
আমরা যখন বাংলার উৎপাদন ব্যবস্থার ধারক ছিলাম, সে সময় বাংলা সম্বন্ধে কারা কি বলেছে মন দিয়ে পড়ুন -
১) বাংলা ছিল মুঘলদের কাছে জিন্নতুল বিলাদ, সুবাগুলোর মধ্যে স্বর্গ ভূমি।
২) ঔরঙ্গজেব তার প্রত্যেক চিঠিতে বাংলাকে বলতেন ভারতের স্বর্গ।
৩) ১৬৬০এ বার্নিয়ে বলছেন, বাংলা এতই সম্পদশালী যে প্রবাদ আছে বাংলায় (সম্পদ) ঢোকার রাস্তা অসংখ্য কিন্তু বেরোবার রাস্তা নেই।
৪) আলেকজান্ডার ডাও বলছেন, আন্তর্জাতিক দাঁড়িপাল্লা বাংলার দিকেই ভারি ছিল, তখন বাংলায় একমাত্র পাত্র(sink) যেখানে সোনাদানা এসে জমত, আর কিছুমাত্র কখনও বেরোত না।
৫) ১৭৩৫ সালে লন্ডনের কোম্পানির পরিচালক সমিতি লিখছে - সারা ভারতবর্ষের মধ্যে বাংলাই যে সবচেয়ে সস্তাগণ্ডার দেশ শুধু তাই নয়, সারা ভারতের মধ্যে এটাই সবচেয়ে প্রাচুর্যের দেশ।
(পলাশীর অজানা কাহিনী, সুশীল চৌধুরী)
বাংলাভাগ, আপনারা যাকে স্বাধীনতা বলেন, তার সত্তর বছর কেটেছে, তিন তিনটে প্রজন্ম মরে হেজে গিয়েছে। আজও ওপরের পাঁচটি বর্ণনার ধারেপাশে বাংলাকে পৌঁছে দিতে পারেন নি। তা সত্ত্বেও আপনাদের লজ্জা নেই ইওরোপিয়-আমেরিকয় দালালি করে চলেছেন নির্লজ্জ মুখে।
আমরা ১৭৫৭র আগে- ফিরে যেতে চাইলে মহা দোষ হল?
জয় বাংলা।