Thursday, February 21, 2013

দয়াময় ক্যামেরন, ব্রিটিশ ক্ষমা আর ব্রিটিশ গণহত্যার ইতিহাস


এখন আমরা দেখব ব্রিটিশ শাসনের আগে যেসব মহামারী ঘটেছে তার বিশদ তালিকা
কবে                            স্থান                                         কারণ
একাদশ শতাব্দ(দুটি)       স্থানীয়                                      অনাবৃষ্টি
ত্রয়োদশ শতাব্দ(একটা)    দিল্লিতে                                     কারণ জানা য়ায় না  
চতুর্দশ শতকে(তিনটে)     স্থানীয়                                      যুদ্ধের জন্য শষ্যহানি
পঞ্চদ শতকে(দুটি)          ঐ                                           ঐ
ষোড়শ শতাব্দ(তিনটি)      ঐ                                           অনাবৃষ্টি
সপ্তদশ শতাব্দ(তিনটি)      সর্বত্র                                       অরাজকতা
অষ্টাদশ শতাব্দের প্রথমার্ধ(চারটে)                                      স্থানীয়         অনাবৃষ্টি

এবার ব্রিটিশ শাসনে যে সব মন্বন্তর ঘটেছে তার বিশদ
১৭৬৯-৭০           ছিয়াত্তরের মন্বন্তর- বাঙলা সুবা         ইংরেজদের খাদ্যসশ্যের ব্যবসা, অনাবৃষ্টি, বাঙলায় এককোটি, বিহারে অন্ততঃ তিরিশ লক্ষেরও বেশি মানুষকে না খেতে দিয়ে মন্বন্তর ঘটিয়ে হত্যাকন্ড করেছে ব্রিটিশ রাজ
১৭৮৩                মাদ্রাজ, বোম্বাই                           মৃত কত আজও হিসেব চলছে
১৭৮৪                উত্তর ভারত                               ঐ
১৭৯২                মাদ্রাজ, হায়দারাবাদ, বোম্বাই           ঐ
                        দাক্ষিণাত্য, গুজরাট, মারোয়াড়
১৮০২                বোম্বাই                                     ঐ
১৮০৩-৪            উত্তরপশ্চিম সামান্ত প্রদেশ, রাজপুতানা ঐ
১৮০৫-০৭           মাদ্রাজ                                     ঐ
১৮১১-১৪           ঐ                                           সামান্য
১৮১২-১৩           রাজপুতানা পাঞ্জাব                       ২০ লক্ষ
১৮২৩                মাদ্রাজ                                     কত কেউ জানেনা
১৮২৪-২৫           বোম্বাই, উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত           ঐ
১৮৩৩-৩৫          উত্তর মাদ্রাজ, বোম্বাই                    ঐ
১৮৩৭-৩৮          উত্তর ভারত                               ১০ লক্ষ
১৮৫৪                মাদ্রাজ                                     কত কেউ জানেনা
১৮৬০-৬১           উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত পাঞ্জাব            ৫ লক্ষ
১৮৬৫-৬৬           ওড়িশার ৬টা জেলা, বিহার ও
                        উত্তরবঙ্গ, মাদ্রাজ                         ১,৩০,০০০ ১,৩৫,০০০, ৪,৫০,০০০,
১৮৬৮-৬৯          রাজপুতানা                                ১২ লক্ষ ৫০ হাজার
                        উত্তর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ             ৬ লক্ষ
                        পাঞ্জাব                                      ৬ লক্ষ
                        মধ্যভারত                                 ২,৬০,০০০
                        মুম্বাই                                       কত কেউ জানেনা
১৮৭৩-৭৪          বাঙলা, বিহার, অযোধ্যা,
                        উত্তর পশ্চিম সীমান্ত                      ঐ
১৮৭৬-৭৭           বেম্বাই                                      ৯ লক্ষ
                        হায়দারাবাদ                                ৭০ হাজার
                        মাদ্রাজ, উত্তর পশ্চিম সীমান্ত          
                        আর অযোধ্যা                              ৮২,৫০,০০০
                        মহীশূর                                     ১১,০০,০০০
১৮৮০                দাক্ষিণাত্য, দক্ষিণ বোম্বাই,
                        মধ্যপ্রদেশ, হায়দারাবাদ,
                        উত্তর পশ্চিম সীমান্ত                      অজ্ঞাত
১৮৮৪                বাঙলা, বিহার, ছোটনাগপুর,
                        মাদ্রাজের কয়েকটি জেলা,              অজ্ঞাত
১৮৮৬-৮৭          মধ্যভারত                                 অজ্ঞাত
১৮৮৮-৮৯          বিহার, ওড়িশা, গঞ্জাম
                        মাদ্রাজ, কুমায়ুন, গাড়োয়াল            ১৫ লক্ষ
১৮৯১-৯২           মাদ্রাজ, বোম্বাই, দাক্ষিণাত্য, বাঙলা   ১৬ লক্ষ ২০ হাজার
১৮৯৫-৯৭           বুন্দেলখন্ড, উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত      
                        বাঙলা, অযোধ্যা, মধ্যভারত            ৫৬,৫০,০০০
১৮৯৯-১৯০০       ভারতের সর্বত্র                            ২৫ লক্ষ
১৯০১                গুজরাট, দাক্ষিণাত্য, বোম্বাই
                        কর্ণাটক, মাদ্রাজ, পাঞ্জাবের দক্ষিণ    ৭,০৫,০০০
অমর্ত্য সেন বন্দিত গণতন্ত্রিক ব্রিটিশ সরকারের হিসেবে ১৮৫৪ থেকে ১৯০১ পর্যন্ত ভারতে দুর্ভিক্ষের মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৮৮ লক্ষ ২৫ হাজার এগুলি শুধুই সংখ্যামাত্র এ আগে কত ঘটেছে শুধু অনুমান করাযায়মাত্র ভারতে রেলপথ সৃষ্টির সঙ্গে দুর্ভিক্ষের সরাসরি সম্পর্কটি চোখে আঙুলদেওয়া কিন্তু খুব একটা প্রকাশ্যে আসে নি আজও ঐতিহাসিকদের আজও নজর পড়েনি এই রেললাইন সৃষ্ট মন্বন্তরগুলিতে ১৮০২ থেকে ১৮৫৪ পর্ষন্ত ভারতে মোট ১৩টি দুর্ভিক্ষ হয়েছে আর কোম্পানি সরকারের হিসেবে মৃত্যু ঘটেছে মাত্র ৫০ লক্ষের কাছাকাছি কোনও  একটা সংখ্যা অথচ রেলপথ পাতার পরে, ১৮৬০ থেকে ১৮৭৯ পর্যন্ত ভারতে ঘটেছে ১৬টা বড় মন্বন্তর আর তাতে মারা গিয়েছেন ১ কোটি ২০ লক্ষ মানুষ এটিও সদাশয় ব্রিটিশ সরকারের তৈরি হিসেব আদত হিসেব কত কেউ জানেন না
রেলপথ তৈরির প্রধান উদ্দেশ্যই ছিল চার কোটি ব্রিটেনবাসীর জন্য ভারত থেকে রপ্তানিকরা ছমাসের খাদ্য শষ্য মজুদ করে রাখার সিদ্ধান্তটি এ ছাড়াও যে রেলপথ সৃষ্টিতে, রাজপথ সৃষ্টিতে দেশের হাজার হাজার বছর ধরে সৃষ্ট গ্রামের সেচ ব্যবস্থার জাল ছিঁড়ে যায়, যার ফল গিয়ে পড়ে সরাসরি ফসন উত্পাদনে এছাড়াও যে গ্রাম সমষ্টি সরাসরি ভর্তুকি দিয়ে সেচ ব্যবস্থা তৈরি করেছিল, সেই গ্রাম সমাজকেই ভেঙে দেয় ব্রিটিশ রাজ ফলে গ্রামে যেসব মানুষ সরাসরি সেচব্যবস্থা দেখাশুনো করার জন্য নির্দিষ্ট ছিলেন, তাঁরা ক্রমশঃ বেকার হয়ে পড়লেন

দয়াময় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ক্ষমা চাওয়ার নতুন ঢং, নতুন চাল - শুধু মেজাজ এক, Cameron - New Apologetics, With A Burning Heart


ভারতের স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ সমান ব্রিটেন-ইতালি জোট থেকে ১২টি হেলিকপ্টার কেনার খরচের থেকে বেশ কয়েক হাজার কোটি টাকা কম. আমার ভারত মহান.
আজও শহুরে ভারতের(যাদের নির্দেশে ইংরেজি ছাড়া বাঙলা বললে শাস্তি হয়, স্যুট কোটের বদলে পাতলুন ধুতিতে প্রবেশ নিষিদ্ধ হয়, চাকরিবাকরির দরজা বন্ধ হয়) পিতামাতা দণ্ডমুণ্ডের কর্তা, দয়া করে ভারত সফরে সম্মতি দেওয়া ব্রিটিশ  সাম্রাজ্যের নতুন সম্রাট দয়াময় ডেভিড ক্যামেরন, নতজানু ভারতীয় নেশন স্টেটের নেতাদের দেখে খুশি খুশিভাব না লোকাতে পেরে জালিয়ানওয়ালাবাগে মৃত অজ্ঞ, সামন্ততন্ত্রে ডুবেথাকা, গেঁয়ো, ব্রিটিশ বন্দুকের সামনে দাঁড়িয়ে স্বাধীণতা চাওয়া নিগার ভারতীয়দের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েছিলেন. অহো কী মহানুভতাব! 
জনগণমন পিতঃ! তোমার চরণে আমাদের শ্রদ্ধা! ব্রিটিশিয় ইংরেজি বলতে, ব্রিটিশ পদ্ধতিতে জীবনধারনের আদব কায়দা শেখা ভারতীয় শিক্ষিতরা শিহরিত. প্রায় সবকটি ভাষার সংবাদপত্র মর্মস্পর্শী রিপোর্টে রিপোর্টে ছয়লাপ. আমাদের পিতৃপিতামহ, মায় আমরাও, যারা তাঁর বাপদাদার শাসনের বাড়ি খেয়ে বড়, সভ্য-ভব্য, ইংরেজিত হয়েছি তারা জানি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ কত দয়ালু ছিল. ভারত না চাইলেও ভারতকে ঘাড় ধরে জগতসভায় যোগ্য করে তোলার কত বড় দায় তুলে নিয়েছিল নিজেদের কাঁধে. কই আর কেউতো এই দায় নিজের কাঁধে তুলে নেয় নি. কত বড় কান্ড রে ভাই. আজ বুঝবিনা আজ বুঝবিনে.
ভুলে যাব! কতগুলো গোঁয়ার, মুর্খ, গাঁইয়া ভারতীয় যারা ব্রিটিশ মার্ক্সবাদও পড়েনি আর কেন্ব্রিজের তৈরি ভারতের ইতিহাসও পড়ে নি, অন্ততঃ ৭৬এর আর ৪২এর গণহত্যার জন্য সমগ্র সাম্রাজ্যকে ক্ষমা চাইতে বলছেন. কী আহাম্মক! কী আহাম্মক! ব্রিটিশ বৈজ্ঞানিক জ্ঞাণচর্চায় মানুষ হয়ে অমানুষেরমত দাবি!
তবুও বিগত দুশ বছরে কোটি কোটি গ্রাম-শহরের ভারতীয়কে নির্বিচারে গণহত্যার দায় প্রত্যেকটি ইংরেজি জানা ভারতীয়র. এ দায় চাইলেও ঝেড়ে ফেলা সহজ হবে না. দয়াময় ক্যামেরনের শ্রদ্ধার প্রতি প্রণতি জানিয়ে এই লেখাটি পুণর্প্রকাশ করলাম. 


ব্রিটিশ শাসনের অন্যতম দান, যে দানটি ব্রিটিশ বা ব্রিটিশ অনুগামী চিন্তাবিদেদের লেখনিতে খুব বেশি রেখাপাত করেন নি, সেটি হল ভারতজোড়া মন্বন্তর ভারতের সাধারণের গণহত্যা ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নিয়ে কয়েকটা আর বিয়াল্লিশ নিয়ে পদার্থবিদ মধুশ্রীর কাজের পরও সরাসরি কেউ এই মন্বন্তরগুলোকে গণহত্যা বলতে রাজি নন বাঙালি গবেষকেরাও একে গণহত্যা বলতে চাননি অথচ ১৭৫৭র এক দশকের মধ্যেই প্রথমে বাঙলা, পরে ভারত এক স্থায়ী দুর্ভিক্ষের দেশ রূপে পরিচিত হতে শুরু করল ব্রিটিশ শাসনের আগেও বাঙলা তথা ভারত জুড়ে নানান সময়ে দুর্ভিক্ষ হয়েছে নানান কারণে তবে অধিকাংশই প্রাকৃতিক বা লুঠেরাদের লুঠ করে চলে যাওয়া পথ ধরে সে দুর্ভিক্ষের ভয়াবহতা এগুলির কোনও টার সঙ্গেই তুলনীয় নয় সাধারণতঃ সনাতন ভারতের গতায়াতের সুব্যবস্থাই দুর্ভিক্ষ থেকে মুক্তি এনে দিত সুসংগঠিত গ্রামসমাজ নানান দুষ্কর্ম বা দুর্বিপাকের জন্য তৈরি থাকত প্রত্যক গ্রাম সমাজে আবশ্যকীয় শষ্যভান্ডার বা আপতকালীন ধর্মগোলা থাকায় ফলে বিভিন্ন এলাকায় নানান ধরণের দুর্ভিক্ষ এড়ানো গিয়েছে ব্রিটিশ পূর্ব আমলে সাধারণতঃ মানবসৃষ্ট মন্বন্তর তৈরি হত না কোনও  সময় লুঠেরাদের পলায়নের ফলে মন্বন্তর গড়ে উঠলেও, ভারতের সমবায়ী সমাজ ঝাঁপিয়ে পড়ত সেই মন্বন্তর রুখতে মন্বন্তর ঘটলেও সেই মন্বন্তর ঘটত কয়েক শতাব্দ পর পর ব্রিটিশ আমলে ছিয়াত্তর থেকে বিয়াল্লিশ পর্যন্ত কিন্তু বেশিরভাগ মন্বন্তরই মনুষ্যসৃষ্ট এবং এই আমলে মন্বন্তর ঘটেছে প্রায় প্রতি বছর, কোনও  বছরে একাধিকও
ব্রিটিশদেরমত কোনও  আগ্রাসী বিদেশি আক্রমণকারী ভারতের সনাতন গ্রামীণ সামাজিক-অর্থনৈতিক-সাংস্কৃতিক ব্যবস্থা ধংসের উদ্যোগ নেয়নি প্রায় এক হাজার বছরের মুসলমান শাসকেরা বহিরাবণে করটুকু নিয়ে সুখী ছিল এরপর ব্রিটিশদের পালা ভেঙেদিল ভারতের অন্ততঃ দশ হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিশ্ববাণিজ্যের চলতি ধারা পরিবর্তন করে তৈরি করল চিন্তার স্থায়ী দাসত্বের যুগ যা কিছু বিশ্বের সব দখল করে নিজের করে নিয়ে বিশ্বকে সেই ধারগুলি ভুলিয়ে দিতে সক্ষম হল চিরতরে যে লুঠের রাজত্ব তৈরি করল ব্রিটিশ আর তার সরাসরি ফলশ্রুতি ভারতীয় অনুদানে সৃষ্ট শিল্প বিপ্লব, তাতে বলিদান হলেন কোটি কোটি গ্রামীণ নরনারী

Sunday, February 17, 2013

ভারতীয় যুদ্ধাস্ত্র এবং একটি সাধারণ সংবাদ

বিভিন্ন গবেষণায় শোনা যায় ভারতকে যুদ্ধে বারুদ ব্যবহার করতে শিখিয়েছে প্রথমে চিন, তার পরে ইওরোপ. এই তথ্যটি নানান তত্যের মতই ব্রিটিশদের ভারতের ন্যুনতা প্রচার করতে তৈরি করা তত্ব. এর পেছনে অন্ততঃ সত্যতার লেশটুকুও নেই. 
আমরা এই ব্লগেই দেখেছি, সংস্কৃত না জেনে কী ভাবে উইলিয়ম জোন্স, ডব্লিউ ডব্লিউ উইলসন, ম্যাক্সমুলারেরমত ইওরোপিয়রা ভারততত্ববিদ হয়ে উঠছেন. দেশিয় পণ্ডতদের অনুবাদগুনে তাঁরা ভারতের নানান শাস্ত্র বিশ্লেষণ করছেন ইওরোপিয় দর্শনে, যেখানে ভারতীয়ত্বের বিন্দুমাত্র ছোঁয়া নেই. ভারতীয় গবেষকদের অধিকাংশ এই ইওরোপিয় পণ্ডিতদের পথ ধরেছেন, কেননা তাঁদের পড়াশোনার জীবন শুরুই হয় সর্ববিদ্যায় ইওরোপ গুরু এই তত্বে. মূলে না গিয়ে তাঁরা অনুসরণ করেন পণ্ডিতস্মণ্য ইওরোপিয়দের রচনা, যা আদতে শুধু ভুলে ভরাই নয়, উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে ভারতকে ছোট দেখানের কল.
সোরা আর বারুদ প্রযুক্তিও একই ঘটনা ঘটেছে.
সেই উদ্দেশ্য পুণের এই http://www.orientalthane.com/general/news_5_28_july.htm ওয়েবসাইটটি থেকে এই সংবাদচুম্বকটি প্রকাশ করলাম.
লোকফোকের পক্ষে
বিশ্বেন্দু

Mumbai, July 20 (UNI) Britishers may have given India much in terms of revolutionary ideas and thinking, including the railways, paving way for modernization in the country, but ample historical evidence has brought to light a few amazing facts, one of which being that guns and gun-power were in use in Bengal in the beginning of the 15th century much before the Britishers brought it to India.
The 'Shukraniti' medieval Indian text, describes how gun powder can be prepared using saltpetre, sulphur and charcoal in different ratios for the use of different, types of gnus, says Dr. Vijay Bedekar, the President of Thane-based Institute of Oriental Study.
Dr. Bedekar, who along with Dr R P Kulkarni authored a book Glimpses of Chemistry in ancient and Medical India. Which was released recently, had traced the origins of gunnery in India after almost eight months of through research.
Ancient text reveals that while gunpowder was known as 'Agnicurna', the guns were called 'Nalastra'.
One such combination of 'Agnicurna' as stated in the text consists of five parts of saltpeter, one part of sulphur and one part of charcoal to be dried in the sun. It is finally grinded into a powder which becomes gun-powder.
Following the release of the book at the recently-concluded International Chemistry Olympiad, Dr. Bedekar told UNI here that besides the art of making gunpowder, 'Shukraniti' also descries in detail about guns, which were available during those times.

'Shukraniti' suggests that the 'Nalikas' are of two kinds, large and small - the smaller ones are 112.5 cms long, have a stock of tough wood and a barrel of a bamboo with a bore of three-fourth of an inch.

The small 'Nalikas' are carried by infantry and cavalry. The larger 'Nalikas', has no wooden stock - were made of steel and other metals ands was carried on wheels, according to Dr. Bedekar.
The small shot for smaller arms is made of lead or other metals, and the shots for larger guns are made of iron.
For this the gunpowder is composed of four, five or six parts of 'Suvarchi Lavana' (salt petre), one part of sulphur and one part of Charcoal of plant arka (calotropis gigantea linn), Snuhi and other trees burnt in a pit so as to exclude air.
The mixture is soaked in sap of akra and rasuna (garlic), died in Sun and redacted to a coarse powder like granulated sugar.
Dr. Bedekar points out that there are many kinds of 'Agnichurma' known to experts, and they are composed of varied proportion of charcoal, sulphur, salt petre, regular, orpiment, clax of lead, cinnabar, iron fillings, zinc dust, shell -lac, blue vitriol and resin of pines to name a few. Some even give out white light like that of moon.
Says Dr. Bedekar, "All these things are there in our history books. What is lacking today is a structured course on history of science in India. It is high time that policy makers realize this and devise such courses for universities and colleges.
Talking about his book, he said that they have tried to incorporate several facts of the ancient chemistry in India that is not known today.
The practical knowledge of chemistry is useful in many branches of human activity, namely, to prepare medicines, to purify metals from their ores and to prepare alloy and make gold from base metals, preparation of glass among others. Indian chemistry mainly flourished as a branch of medicine." Dr. Bedekar added.

Saturday, February 16, 2013

The Indian saltpeter trade, the military revolution and the rise of Britain as a global superpower. জেমস ডব্লিউ ফ্রে


সপ্তম অংশ

জেমস ডব্লিউ  ফ্রে, অসকোস, উইসকনসিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপক। তিনি বাঙলা সুবার পাটনার সোরা ব্যবসা সম্বন্ধে বিশদে ইতিহাস রচনা করেছেন. এই ইতিহাস যেমন মনোগ্রাহী, তেমনি বাঙলার ইতিহাস এবং প্রযুক্তি চর্চকদের আর শিক্ষার্থীদের কাছে শিক্ষার বিষয়. ব্রিটিশ আধিপত্য বিশ্লষণে নানান দিকগুলি এর আগে বিশদে বিশ্লেষিত হয়েছে, কিন্তু সেই আলোচনায় সোরার ভূমিকার কথা আর সেই উত্পাদনে বাঙলা সুবার পাটনার কথা খুব একটা উঠে আসে নি। বলা দরকার প্রাচীন কাল থেকেই ১৯০০ সাল পর্যন্ত পাটনা বিশ্ব সোরা বাজারে বিশাল এক ভূমিকা নিয়েছে. এই ইতিহাস আমরা বিশদে এই প্রবন্ধে কয়েকটি অংশে ভাগ করে দেখব. এবারে সপ্তম অংশ. 
বিশ্বেন্দু


১৭৯৩ থেকে ১৮০৩ পর্যন্ত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ব্রিটেনের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত আয়ুধ দপ্তরকে ২৫,১৬৭.৮ টন সোরা সরবরাহ করে এই পরিমান ব্রিটেনের ব্যক্তিগত মালিকানায় চলা সোরা কোম্পানিগুলির উত্পাদন পরিমানের সমান ১৭৯১তে Act XXXI of George III (1791), chapter 42এর আইন বলল কোম্পানিকে একতৃতীয়াংশ দামে সরকারকে সোরা সরবরাহ করতে হবে ভারতে যখন কোম্পানির রোজগারের খাতায় আয়-ব্যায়ের বৈষম্য বেড়ে চলছে, তখন এই ব্যবসায় ৪ লক্ষ ৩৬ হাজার পাউন্ড স্টারলিং ক্ষতি হয় ১৮১১ সালে সোরা ব্যবসায় একচেটিয়া অধিকার চলে যাওয়ায় কোম্পানির ডিরেক্টররা হাঁফ ছেড়ে বাঁচে ১৮১২র যুদ্ধে হেরে আটলান্টিক থেকে ছিটকে আসা ব্যবসায়ীরা পাটনা সোরা বাজারে হামলে পড়ল এরা নেপোলিয়নের সঙ্গে শেষ দিকের যুদ্ধে লন্ডনে অসম্ভব পরিমানে সোরা সরবরাহ করতে থাকে পাটনবার বাজারে একসঙ্গে এত খরিদ্দার ঢুকে পড়ায় বাজারে গোলমাল বাধতে শুরু করে কোম্পানির সঙ্গে ব্যবসা করে সন্তুষ্ট দাদনি বণিকেরা ১৮১৩তে বাজারের ওঠাপড়া বন্ধকরে কোম্পানিকে বাজারে ফিরিয়ে আনে কোম্পানি দেখল, ইওরোপের যুদ্ধ হওয়া সত্বেও সোরার দাম বাড়ছে না, বরং চাহিদা কমতে শুরু করেছে ১৮১৫ থেকে ১৮৩০এর মধ্যে কলকাতা বন্দর হয়ে বছরে ১৫২৫২ টন  সোরা কলকাতা বন্দর দিয়ে রপ্তানি হয় যুদ্ধের সময়ের একতৃতীয়াংশ
১৮৫০ সালেও পূর্বভারতই সোরা ব্যবসার কেন্দ্র হয়ে দাঁড়ায় পাটনার সোরা উত্পাদনের ওপর নির্ভর করে ব্রিটিশ পরিকল্পিতভাবে পরপর কূটনৈতিক ও সামরিক সাফল্য লাভ করতে থাকে দক্ষিণের সোরা কেন্দ্রগুলো আবার নতুন করে খোলার কাজ শুরু হল সালেম, কোয়েম্বাটোর, মাদুরাই এবং ত্রিচিনাপল্লী এবং ভেলোরসহ কৃষ্ণা জেলার বহু অংশে সোরা উত্পাদন শুরু হল উত্তরে, আরও উত্তরের দিকে সোরা কেন্দ্র খোঁজার কাজ চলতে থাকে
নতুন ধরণের অস্ত্র, লাভজনক নতুন নতুন বাজার আর একচেটিয়া ব্যবসা সত্বেও সোরা ব্যবসায় কোম্পানির ক্ষতি সহ্য করতে হচ্ছিল এই ক্ষতির দায় চাপানো হল ভারতের আপামর জনগণের ওপর এর পর আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র হয়ে ওঠে পাটনার সব থেকে বড় সোরার বাজার আমেরিকায় বিশাল পশ্চিমাঞ্চলে জঙ্গল সাফ, পরিকাঠামো তৈরির কাজ এবং চাষের কাজে নাইট্রেট ব্যবহার হতে শুরু করে বিহারের সোরা ব্যবসার ওপর নির্ভরশীলতা কাটাতে দুপঁ কোম্পানি গবেষণায় শিল্পক্ষেত্রে সোরার বিকল্প হিসেবে সোডা পাউডারের প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে তবে আমেরিকায় গৃহযুদ্ধ তাকে শেষ পর্যন্ত আবার টেনে নিয়ে আসে পাটনায় যুদ্ধ শুরুর সময় আমেরিকায় সোরা রপ্তানির পরিমান তিনগুণ বাড়ে, ৬ লক্ষ পাউন্ড স্টার্লিং পরে যুদ্ধ শেষের দিকে তা ৯ লক্ষ পাউন্ড স্টার্লিং হয়ে দাঁড়ায়
এদিকে ১৮৩০এ ব্রিটিশ বিনিয়োগে পেরুতে সোরা তৈরির কাজ শুরু হয় পাটনা থেকে মুখ ফিরিয়ে ব্রিটেন জার্মানি আর ফ্রান্স পেরুর সোরা আমদানি করতে থাকে পাটনা দ্রুত বিশ্ব বাজার হারাতে থাকে কিন্তু পাটনার সোরা আমেরিকা আমদানি করতে থাকে নিয়মিতভাবে এমনকী ব্রিটেনের থেকেও বেশি পরিমানে ১৯০৪-১৯০৫এর ভূতত্ব সর্বেক্ষণের সোরার সমীক্ষা বলছে, শুধু উত্তর ভারতের ৩৯৯টি সোরা কারখানা বছরে ১৯,৪৩৮.৮ টন সোরা রপ্তানি করেছে এর মধ্যে ২৮১টি কোঠি বিহারের নিযুক্ত ছিল ৫০,৪৬৯ কর্মী এবং বছরে ৪১ লক্ষ টাকা রোজগার করত পাটনার সোরা বাজার মরে যাওয়াতো দূরস্থান, বড় শিল্প, চাষ আর বাজি তৈরির শিল্পে নতুন করে বাজার খুঁজে নিল ১৯০৯এ জার্মানির হেবার-বশ পদ্ধতিতে তৈরি সোডিয়াম নাইট্রেট আবিষ্কার পাটনার সোরা ব্যবসা প্রায় বন্ধ হয়ে যেতে বসে ১৯২০তে চিলির সোরা বাজার থেকে হটে যায় প্রথম বিশ্বযুদ্ধ আবার পাটনাকে সোরা ব্যবসার কেন্দ্রস্থলে নিয়ে আসে
আমরা এই প্রবন্ধে দেখলাম, ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সোরার ওপর নিয়ন্ত্রণের এক বড় প্রভাব পড়েছে, ভারতে ব্রিটিশরাজের রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাব বৃদ্ভিতে শুধুনয়, বিশ্বের ইতিহাসেও যদিও সাম্রাজ্যের সাফল্যের সব কিছুই সোরার ওপর নির্ভর করত না

The Indian saltpeter trade, the military revolution and the rise of Britain as a global superpower. জেমস ডব্লিউ ফ্রে


ষষ্ঠ অংশ

জেমস ডব্লিউ  ফ্রে, অসকোস, উইসকনসিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপক। তিনি বাঙলা সুবার পাটনার সোরা ব্যবসা সম্বন্ধে বিশদে ইতিহাস রচনা করেছেন. এই ইতিহাস যেমন মনোগ্রাহী, তেমনি বাঙলার ইতিহাস এবং প্রযুক্তি চর্চকদের আর শিক্ষার্থীদের কাছে শিক্ষার বিষয়. ব্রিটিশ আধিপত্য বিশ্লষণে নানান দিকগুলি এর আগে বিশদে বিশ্লেষিত হয়েছে, কিন্তু সেই আলোচনায় সোরার ভূমিকার কথা আর সেই উত্পাদনে বাঙলা সুবার পাটনার কথা খুব একটা উঠে আসে নি। বলা দরকার প্রাচীন কাল থেকেই ১৯০০ সাল পর্যন্ত পাটনা বিশ্ব সোরা বাজারে বিশাল এক ভূমিকা নিয়েছে. এই ইতিহাস আমরা বিশদে এই প্রবন্ধে কয়েকটি অংশে ভাগ করে দেখব. এবারে ষষ্ঠ অংশ. 
বিশ্বেন্দু



১৭২০ থেকে ১৭৩০ পর্যন্ত ফরাসি কোম্পানি Compagnie des Indes পাটনা সোরা ব্যবসায়ে মাথা গলাতে শুরু করে এর পর থেকে ইওরোপের সঙ্গে বাঙলার বাণিজ্য পরিমান গুণিতক হারে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে ফরাসি ব্যবসায়ী(ফ্যাক্টর) জোসেফ ফ্রান্সিস ডুপ্লে অন্য ইওরোপিয়দের সঙ্গে নিয়ে সোরা ব্যবসায় ইওরোপিয় একচেটিয়া কারবার গড়ে তোলেন ১৭৩৬এ অসমিয়া বণিদের থেকে নির্দিষ্ট পরিমানে সোরা কোনার চুক্তি করে এই তিন রাষ্ট্রশক্তি এই চুক্তিতে ডেন, সুইস এবং অস্ট্রিয় বণিকদের বাদ রাখা হয় আদতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিগুলি ভারতে ব্যবসা করা তিন ভাই একত্রিত হয়ে পরস্পরের সঙ্গে স্বার্থ বন্ধনে আবদ্ধ হয়(এদের মালিকানা ছিল কয়েকজন ব্যবসায়ীদের হাতে) ভিওসি ডুপ্লে পরিকল্পনায় বাদ সেধে সোরা পরিবহনের জাহাজগুলি নিজেদের অধিকারে আনে ১৭৪০ পর্যন্ত ভিওসিরই ভারতের সোরা ব্যবসায় প্রধান ভূমিকা ছিল
আলিবর্দি খাঁ(১৭৪০-১৭৫৬) বাঙলার সুবাদার হয়েই বিদেশি বণিকদের পাটনা বাজারের দখলদারি শেষ করার উদ্যম নেন, যাতে দক্ষিণ ভারতে ইওরোপিয় লড়াই শেষ হয় এছাড়া ডাচেদের মালাবারের গোলমরিচের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণেরও চেষ্টা করতে থাকেন আলিবর্দি ভারত এবং বাঙলার নানান পণ্যের ব্যবসার ওপর আধাএকচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ কায়েম করেন তিনি আমীরচাঁদ বাঙলা সুবার প্রধান ব্যবসায়ী নিযুক্ত হন ভাই দীপচাঁদ সিরাং(Syrang) জেলার ফৌজদার নিযুক্ত হলেন ১৭৫০এ চাঁদ ভাইদের ব্যবসায় কোম্পানির ধার দাঁড়াল ১.৬ মিলিয়ন রুপি পলাশি পর্যন্ত সোরা ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করতেন চাঁদ ভাইরা এবং ইরানের আর্মেনিয় বণিক খওজা ওয়াজিদ খওজা সুবাদার নিযুক্ত প্রধান ব্যবসায়ী এছাড়াও ফরাসীদের এজেন্ট আর ব্রিটিশদের চরম শত্রু
১৭৫০এর দশকে ব্রিটিশ সোরা ব্যবসার পরিমান ছিল বছরে ৫১ হাজার মন অথবা ২২৩৮ টন পলাশির পর শুধু ভারত নয়, বিশ্বের ইতিহাসই উল্টপাল্টে গেল পলাশীর পর মির জাফর কোম্পানিকেই সোরা ব্যবসার একচেটিয়া অধিকার দিলেন চন্দননগরে ফরাসী কুঠীর ওপরেও আগাত হানে ব্রিটিশ শক্তি সোরা ব্যবসা থেকে সরে যায় ফরাসিরা মির জাফরের প্রধান ব্যবসায়ী খওজা ভিওসির সঙ্গে চক্রান্ত করতে শুরু করে ব্রিটিশদের সঙ্গে যুদ্ধে ভিওসি ১৭৫৯এর যুদ্ধে হেরে যায় এর পর থেকে ইওরোপে ভারত থেকে রপ্তানি হওয়া প্রত্যেকটি সোরা ভর্তি জাহাজ ছিল ব্রিটিশদের ব্রিটেন বিশ্বের ৭০ শতাংশ সোরার মালিক হয়ে বসার প্রভাব পড়ল সাত বছরের যুদ্ধ(১৭৫৬-১৭৬৩)সহ ইওরোপিয় নানান যুদ্ধে

The Indian saltpeter trade, the military revolution and the rise of Britain as a global superpower. জেমস ডব্লিউ ফ্রে


পঞ্চম অংশ

জেমস ডব্লিউ  ফ্রে, অসকোস, উইসকনসিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপক। তিনি বাঙলা সুবার পাটনার সোরা ব্যবসা সম্বন্ধে বিশদে ইতিহাস রচনা করেছেন. এই ইতিহাস যেমন মনোগ্রাহী, তেমনি বাঙলার ইতিহাস এবং প্রযুক্তি চর্চকদের আর শিক্ষার্থীদের কাছে শিক্ষার বিষয়. ব্রিটিশ আধিপত্য বিশ্লষণে নানান দিকগুলি এর আগে বিশদে বিশ্লেষিত হয়েছে, কিন্তু সেই আলোচনায় সোরার ভূমিকার কথা আর সেই উত্পাদনে বাঙলা সুবার পাটনার কথা খুব একটা উঠে আসে নি। বলা দরকার প্রাচীন কাল থেকেই ১৯০০ সাল পর্যন্ত পাটনা বিশ্ব সোরা বাজারে বিশাল এক ভূমিকা নিয়েছে. এই ইতিহাস আমরা বিশদে এই প্রবন্ধে কয়েকটি অংশে ভাগ করে দেখব. এবারে পঞ্চম অংশ. 
বিশ্বেন্দু

ক্রমশঃ পাটনা হয়ে উঠল ভারতের সোরা ব্যবসার মূল কেন্দ্র শুধু ভারতই নয়, বিশ্বেরও সপ্তদশ শতকে ইওরোপে সোরার চাহিদা আকাশ ছোঁয় ডাচ ভিওসির ব্যবসায় ১৬৫৮এ ১০০০ টনের চাহিদা ১৭০১তে বেড়ে দাঁড়ায় ১,৭৫০ টন ১৬৭১ থেকে ভিওসির ব্যবসা টার্গেট ছিল ১৫০০ টন সোরা, যার মধ্যে ১৩৭৫ টন সোরা নির্দিষ্ট ছিল আমস্টারডামএর জন্য, বাকি বাটাভিয়ার কারখানা আর অন্যান্য এশিয় বাজারের উদ্দেশ্যে পাঠানো হত কুমকুম বলছেন মুঘল আর আরমেনিয়ন বণিকেরা সোরা ব্যবসায় ততটা গুরুত্ব দেয় নি, অথচ এই ব্যবসায় তারা কিন্তু বড় পরিমানে বিনিয়োগ করে পাটনার বাজারে ভারতের নানান প্রান্তের ব্যবসয়ীদের সঙ্গে ইরান এবং মধ্য এসিয়ার ব্যবসায়ীদের আনাগেনা ছিল অরমেনিয় বণিকদের অধিকাংশ ইস্পাহান থেকে আসা ১৬৯১-৯২তে ফরাসীরা সোরা কিনতে আসছে এমত সংবাদে আরমেনিয়ানরা ৯০৬ টন সোরা বিহারের বাজার থেকে কিনে জাহাজে ভরে ঐতিহাসিকেরা বলছেন এই জাহাজ মাদ্রাজের দিকে রওনা হয় কেননা মাদ্রাজ তখন ভারতের সব থেকে কম ডিউটির বন্দর ১৬৯৮তে বাঙলা থেকে কেডা (Qeddah) বণিকের জাহাজ করে এক আরমেনিয়ান বণিক মসলিন, ক্যালিকো, র সিল্ক, আফিম, লোহা, চিনি এবং সোরা সুরাট বন্দরে দিকে বয়ে নিয়ে গিয়েছে এই জাহাজটি মালাবারের জলদস্যু উইলিম কিড দখল করে বস্টনে নিয়ে যায় ১৭০৬-০৭এ ইংরেজ জলদস্যুরা গোয়া থেকে রেড সির দিকে যাওয়া সোরা ভারা পর্তুগিজ দেশি জাহাজ দখল করে জাহাজের তুর্কী বণিকদের থেকে অর্থ চায় এবং এই অর্থ দোফারএ দেওয়া হয় এই প্রবণতা থেকে পরিস্কার ইরানী এবং অটোমান সাম্রাজ্যের বণিকেরা লাল সাগর এবং পারস্যের উপসাগরের নানান বন্দর মার্ফত ভারতীয় নাইট্রেট আমদানি করতেন ১৬৭০ থেকে ১৬৮০ পর্যন্ত বালেশ্বর আর হুগলির ২০টি দেশি জাহাজ বিভিন্ন দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলিতে পাড়ি দেয় তবে এগুলোয় সোরা ছিল কী না তা স্পষ্ট নয় ১৬৯০এর পর থেকে যেসব মুঘল আমলা এশিয় সমুদ্র বাণিজ্য বিনিয়োগ করেছিলেন, তারা তার পর সেই ব্যবসায় উত্সাহ হারিয়ে ফেলেন
১৬৪৯ থেকে ১৬৫৪, আমস্টারডামে সোরার দাম প্রতি কুইন্টলে(১ কুইন্টল সমান ৪৮.৯৫ কেজি) ৩৭ গিল্ডার থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ৬৬ গিল্ডার ১০০০ শতাংশ লাভ তবে ষাটের দশকে দাম কমে আসায় লভ্যাংশ কমে দাঁড়ায় ২৭৫ শতাংশ ক্রমশঃ দুই দেশের কোম্পানিই সোরা জমিয়েরেখে দাম নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে অষ্টাদশ শতকে ভিওসি ইওরোপে ২০০ শতাংশ লাভ করে বছরে ৫৫০০০০ গিল্ডার রোজগার করে
তবে পাটনার সোরার ব্যবসায় প্রথম দিকে ব্রিটিশরা খুব একটা পেরে ওঠে নি ইওরোপিয়দের সোরা কেনা বন্ধ করার অনুরোধ অটোমান রাজ মুঘলরাজকে করেছেন, এমন গুজবে মাঝে মাঝেই পাটনায় সোরার দাম আকাশ ছুঁত এছাড়াও স্থানীয় লুঠেরাদের কবলে পড়তে হত স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ঠিকমত প্যাকিং করে সময়মত কলকাতায় সোরা না পৌঁছে দিলে বহু ক্ষতি হত বণিকদের বহু বোঝাপড়ার পর ১৭১৮র পর ব্রিটিশদের খুব পুরোনো দালাল জনার্দন শেঠ এবং কয়েকজন মুসলিম আর আর্মেনিয়ান বণিকদের সহায়তায় সোরা ব্যবসা থিতু হয় সে সময় নবাব, জনার্দন শেঠের ইংরেজদের সঙ্গে সোরা ব্যবসার অধিকারের অনুমতি দেন পরে ভিওসির সঙ্গে সঙ্গে কোম্পানিও এই দস্তক পায়